বাবা মায়ের সঙ্গে অবৈধ ভাবে এপারে এসে ৮ বছর ধরে হোমে, বাংলাদেশে ফিরছে কিশোরী
আইনি জটে গত ৮ বছর ধরে এপার বাংলার হোমে আটকে ছিল এক কিশোরী। অবশেষে সেই কিশোরী ওপার বাংলায় নিজের বাড়িতে ফিরতে চলেছে। আসলে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের অভিযোগে তার বাবা-মাকে আটক করা হয়েছিল। সেই সময় তাকে হোমে রাখা হয়েছিল। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ৮ বছর। বর্তমানে তার বয়স ১৬ বছর। আজ বৃহস্পতিবার তাকে বাংলাদেশে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: ছেলেধরা গুজবে পেট্রাপোলে ভবঘুরেকে মারধর, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৬ জনকে ধরল পুলিশ
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাবা মায়ের সঙ্গে ভারতে এসেছিল নাবালিকা। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৭ সালে। তখন কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তার বাবা-মাকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। বেআইনি অনুপ্রবেশের পাশাপাশি ফরেনার্স অ্যাক্টে তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছিল পুলিশ। সেই অপরাধে তাদের বেশ কয়েকবছর জেলেও থাকতে হয়েছে। যদিও নাবালিকার বিরুদ্ধে কোনও মামলা করা হয়নি বা দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। তাকে উদ্ধার করে পাঠানো হয়েছিল হোমে। এদিকে, দীর্ঘ বছর ধরে জেলে থাকার পরে তার বাবা মা আগেই দেশে ফিরে গিয়েছেন। তবে আইনি জটের কারণে হোমেই থেকে যায় তাদের মেয়ে। তারপর থেকেই নাবালিকাকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করেন তারা।
এরই মধ্যে সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ মামলাটি খতিয়ে দেখে এবং শিশু অধিকার ও পাচার সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের অধিদফতরে বিষয়টি নজরে আনে। আর সেটিই নাবালিকার বাড়ি ফেরার পথ তৈরি করে দেয়। নাবালিকাকে ফেরানোর জন্য কাজ করা আধিকারিকরা বলেছেন, যে কিশোরীকে কয়েক দিনের মধ্যে চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলায় তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। আজ বৃহস্পতিবার তাকে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে।
মুক্তির খবরে খুবই খুশি কিশোরী। সে জানায়, গত ৮ বছর ধরে বাড়িতে যাওয়ার জন্য সে প্রার্থনা করেছে। বর্তমানে সে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়া। বাংলাদেশে বাড়ি ফিরে গিয়ে সে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায় বলে জানিয়েছে। রাজ্যের আধিকারিকরা আশাবাদী যে মেয়েটির ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনও সমস্যা হবে না। এক আধিকারিক বলেছেন, ‘আমরা তাকে কিছু জামাকাপড় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিতে চাই। সীমান্তে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে. তাই আমাদের নিয়ম মেনে চলতে হবে। হোমে আরও ২৪ জন মেয়ে রয়েছে। যাদের মধ্যে চারজন বাংলাদেশ থেকে এসেছে। তারা দ্রুত বাড়ি ফিরে যাবে।’