Firhad Hakim: রাখলেন না আর কোনও ‘সহানুভূতির’ রাখঢাক? সন্তানহারা বাবা-মাকে ‘লক্ষ্মণরেখা’ বোঝালেন ফিরহাদ হাকিম! – Bengali News | Firhad hakim Firhad Hakim explained ‘Lakshmanrekha’ to Tillotama’s parents!
ফিরহাদের নিশানায় তিলোত্তমার বাবা-মা Image Credit source: TV9 Bangla
কলকাতা: মেয়ে হারিয়েছেন তাঁরা। মেয়ের নির্যাতন, খুনের প্রতিবাদে লড়ছেন একটা বড় শক্তির বিরুদ্ধে। নিম্ন আদালত, হাইকোর্ট ঘুরে সুপ্রিম কোর্টে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। সেই বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে গোটা বাংলা-দেশ। তিলোত্তমা রাজ্য সরকারেরই কর্মী ছিলেন। আর কর্মস্থলেই নৃশংসতার শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। আর এক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের ব্যর্থতাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তিলোত্তমার বাবা-মা। জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনের সারবত্তাও ছিল সেটাই। প্রথম থেকেই তিলোত্তমার বাবা-মার প্রতি সহানুভূতিশীলতা দেখিয়েও সরকারকে ‘ডিফেন্ড’ করে চলেছিলেন কুণাল ঘোষ। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার আর ‘ডিফেন্ড’ নয়, যেন আক্রমণের সীমারেখা পার করলেন শাসকনেতা। বললেন, তিলোত্তমার বাবা কার কথায় চলছেন, সেটাও তদন্তে আসা উচিত। আর এই আক্রমণের অতি সাম্প্রতিক সংযোজন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। ফিরহাদ বললেন, “মেয়ের শোকে ওঁদের এক্তিয়ার বহির্ভূত কিছু বলা উচিত নয়।” এমনও বললেন, তিলোত্তমার বাবা-মা রাজনীতি করছেন!
কী বলেছেন ফিরহাদ?
কলকাতা পৌরনিগমের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানের শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন ফিরহাদ। সে সময় সাংবাদিকরা সঞ্জয় রায়ের ফাঁসি চেয়ে রাজ্যের হাইকোর্টে যাওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেন। তখনই ফিরহাদের মুখে উঠে আসে তিলোত্তমার বাবা-মার প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, “আমরা অত্যন্ত সহানুভূতিশীল ওনাদের প্রতি। ওনাদের মেয়ে এভাবে মারা গিয়েছে, আমরা সবাই তার প্রতিবাদ করছি। আমরা সবাই ফাঁসির সাজা চাই। কিন্তু তার মানে এমন নয়, মেয়ের শোকে এমন কিছু বলা উচিত নয়, যেটা ওনাদের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না।”
তিনি আরও বলেন, “এখন এমন হয়ে গিয়েছে, উনি এখন যাদের পাল্লায় পড়েছেন, এবার ওনারা পলিটিক্স করছেন, তাকে নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী লেফটিস্টদের দয়ায় বা কারোর দয়ায় মুখ্যমন্ত্রী পদে বসে নেই। বাংলার মানুষের সমর্থন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে রয়েছেন। আমি আবার বলব, আপনি আপনার এক্তিয়ারের মধ্যে থাকুন, নিশ্চিতভাবে ন্যায় চান। আমরাও অত্যন্ত দুঃখিত সিবিআই যেভাবে তদন্ত করেছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনাকে দিয়ে যা বলাবে, তাই বলবেন…মানুষের যে সহানুভূতি আপনার ওপরে, সেটা নষ্ট হয়ে যাবে।”
প্রথম থেকেই তিলোত্তমার বাবা-মা সোচ্চার হয়েছেন, এই ঘটনায় সঞ্জয় রায় একা দোষী নয়। এর পিছনে বড় কেউ জড়িত। আর তাকে আড়াল করতেই সঞ্জয়কে ঢাল করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের ‘সদিচ্ছা’ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বারবার। আর শিয়ালদহ আদালতের রায়ের পর রাজ্য সরকারের হাইকোর্টের মামলা প্রসঙ্গে তিলোত্তমার বাবা বলেন, “রায়ের কপি ঠিকমতো পড়তেই পারলাম না, তার আগেই উনি হাইকোর্টে চলে গেলেন। ওনাদের এত সক্রিয়তাই বা কেন? আমাদের হাতে এক মাস সময় ছিল, সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে কিছু একটা করার। কী গেম খেলছেন উনি? উনি তো সবসময়ই বলেন খেলা হবে…” আর এহেন বক্তব্যের পরই প্রথমে কুণাল ঘোষ, পরেরদিন ফিরহাদ হাকিমের নিশানায় তিলোত্তমার বাবা।
শাসকমন্ত্রীর মুখে এহেন মন্তব্য শুনে তিলোত্তমার বাবা বলেন, “আমি এখন পশ্চিমবঙ্গবাসী, সেটাই কি উনি মনে করছেন? আজকে প্রজাতন্ত্র দিবস, আমাকে কি উনি প্রজা মনে করছেন? মুখ্যমন্ত্রী কোনও দলের প্রতিনিধি নন। কে ভোট দিয়েছে, কে ভোট দেননি, সেটা বড় কথা নয়। শিয়ালদহ আদালত যে রায়ের কপি দিয়েছে, সেখানে বিচারকের যে পর্যবেক্ষণ ছিল, যা লেখা রয়েছে, তারই প্রতিফলন আমি রেখেছি। আমার মেয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মচারী ছিল, তার কর্মস্থলে সে খুন হয়েছে, সেটা কীভাবে সাধারণভাবে দেখছে? পুলিশের বিরুদ্ধে বিচারক যা বলেছে, তারই প্রতিফলন রেখেছে। এক্তিয়ারের কথা বলছেন, এক্তিয়ার যে জিনিস, তার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।”
প্রসঙ্গত, কুণাল ঘোষও শনিবার তিলোত্তমার বাবা-মার উদ্দেশে বলেছেন, “তিলোত্তমার বাবা-মার প্রতি পূর্ণ সহমর্মিতা জানিয়েও বলছি, দয়া করে চক্রান্তকারীদের মুখপাত্র হয়ে উঠবেন না। কিছু অতৃপ্ত আত্মা এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সরকার বিরোধী, মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী রাজনীতি করছে, তাদের পাল্লায় পড়বেন না। প্ররোচনায় পা দেবেন না। সেক্ষেত্রে এই গোটা ব্যাপারটাও তদন্তে আসা উচিত। ওনারা কার কার সঙ্গে কথা বলছেন, কারা কী শেখাচ্ছে, কোন কারণে বলছেন, কীসের ভিত্তিতে বলছেন, এটা গোটা বিষয়টাই তদন্তে আসা উচিত। জুনিয়র ডাক্তারদের ফান্ড কে কে পাচ্ছে? ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট গ্রুপকে টাকা দিতে হল কেন?”
তিলোত্তমার বাবা এ প্রসঙ্গে বলেন, “শিয়ালদহ আদালতের রায়ের কপি ওনাকে মন দিয়ে পড়তে হবে। আমি যে কোনও ভুল বলিনি, সেটা উনি বুঝতে পারবেন। আর কোনও কথার উত্তর আমি দেব না। মুখ্যমন্ত্রী নিজের কাজের ব্যর্থতা মনে করে পদত্যাগ করবেন।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনে করছেন, এতদিন পর্যন্ত শাসকদলের নেতৃত্ব দলকে ‘ডিফেন্ড’ করতে একটা সীমার মধ্যে ছিল, এবার যেন অদৃশ্য সেই রেখাই পার করে ফেললেন তাঁরা।
এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমি বলছি ববি হাকিমের নিজের এক্তিয়ার বোঝা উচিত। যে বাবার ডাক্তারি পাশ করা মেয়েকে গণধর্ষণ করে হত্যা করা হয়, যে সরকার সেটাকে চাপা দেওয়ার কোনও অধিকার নেই। বাবা-মায়ের মন থেকে যতক্ষণ না কষ্ট যাচ্ছে, ততক্ষণ রাজ্য সরকারের চেষ্টা কর উচিত। নাটক করা নয়, তথ্য যা গোপন করেছেন, তা সামনে আনুন। এখন কেস বেঁচে রয়েছে।”