দামোদরের তীর থেকে উদ্ধার ১১০০ বছরের পুরনো সূর্য মূর্তি, রাখা হল মিউজিয়ামে, বাংলার মুখ - 24 Ghanta Bangla News
Home

দামোদরের তীর থেকে উদ্ধার ১১০০ বছরের পুরনো সূর্য মূর্তি, রাখা হল মিউজিয়ামে, বাংলার মুখ

সকলেই পিকনিকে ব্যস্ত। ঠিক সেই সময় পিকনিক করতে যাওয়া এক যুবকের চোখ পড়ল নদীর তীরে থাকা এক পাথরের বস্তুর ওপর। কাছে যেতেই দেখা গেল সেটি হল একটি মূর্তি। আসলে সেটি কয়েকশো বছরের পুরনো সূর্য মূর্তি। রবিবার পূর্ব বর্ধমানের হরিপুর এলাকায় দামোদর নদীর তীর থেকে এই মূর্তি উদ্ধার হয়েছে। এই মূর্তি উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। পরে পুলিশ গিয়ে মূর্তিটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। আপাতত সেটি রাখা হয়েছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মিউজিয়ামে। এই মূর্তিকে ঘিরে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। তারা মূর্তির ইতিহাস জানার চেষ্টা করছেন।

আরও পড়ুন: দুই শতাব্দী প্রাচীন হিন্দু মূর্তি! পাওয়া গেল বাংলাদেশের ফরিদপুরে

জানা গিয়েছে, নদীর তীরে মূর্তি দেখার পর পিকনিকে যাওয়া যুবকরা প্রথমে পুলিশকে জানান। পরে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মিউজিয়ামের আধিকারিকরা সেখানে পৌঁছন। তারা মূর্তিটি খতিয়ে দেখার পর তার বিশেষত্ব জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে। এরপরে পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে মূর্তি উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মিউজিয়ামে।

জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সূর্য মূর্তিটির উচ্চতা ৩ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় দেড় ফুট। এই মূর্তিটি ব্যাসাল্ট পাথর দিয়ে তৈরি। প্রাথমিকভাবে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, পাল বা সেন যুগে এই মূর্তি তৈরি করা হতে পারে। সেই হিসেবে মূর্তি দশম বা একাদশ শতকে তৈরি বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, মূর্তিটি কমপক্ষে ১১০০ বছরের বেশি পুরনো। এ বিষয়ে বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ দামোদর এলাকার হরিপুর গ্রামে থেকে এই মূর্তিটি পাওয়া গিয়েছে। ওই এলাকা নতুন পঞ্চায়েতের মধ্যে পড়ে। তাঁরা জানিয়েছেন, সূর্য মূর্তি দামোদর নদীর তীর থেকে উদ্ধার হয়েছে। মূর্তির গঠন দেখে মনে হচ্ছে সেটি পাল কিংবা সেন যুগে তৈরি করা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক সূর্য মূর্তি রয়েছে। তবে এদিন উদ্ধার হওয়ার সূর্য মূর্তিটি সেগুলির থেকে অনেকটাই আলাদা বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। সেক্ষেত্রে এই মূর্তিতে কীর্তিমুখ এবং উড়ন্ত বিদ্যাধরের উপস্থিতি রয়েছে। যদিও মূর্তির মুখ ভাঙা রয়েছে। তবে তাতে একচক্র এবং সপ্তাশ্ববাহী রথ রয়েছে। এ থেকে অনুমান করা হচ্ছে যে মূর্তিটি পাল বা সেন যুগে তৈরি করা হতে পারে। মনে করা হচ্ছে, নদীর তীর থেকে বালি তোলার সময় কোনওভাবে এই মূর্তিটি উঠে এসেছে। সেই সময়ই মূর্তিটির মুখের কিছু অংশ ভেঙে গিয়েছে। এই অবস্থায় মূর্তিটি ঠিক কতটা পুরনো তা জানার চেষ্টা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *