দল–সরকার কোন পথে চলবে? অভিষেক–বক্সিদাকে বৈঠকে ডেকে জানিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
আর একবছর পর বাংলায় হবে বিধানসভা নির্বাচন। সুতরাং এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। সেটা সরকার চালানোর ক্ষেত্রেও এবং সংগঠন শক্তিশালী রাখার বিষয়েও। এখানে কোনও খামতি রাখা চলবে না। তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার একাধিক জনমুখী সামাজিক প্রকল্প বাংলায় চালু করেছে। তার সুফল পাচ্ছেন শহর থেকে গ্রামের মানুষজন। তাই একের পর এক নির্বাচনে সাফল্য পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও। কিন্তু সংগঠন শক্তিশালী বলে বসে থাকলে চলবে না। একেবারে মাঠে নেমে এখন থেকে কাজ করতে হবে। নতুন বছরে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির সঙ্গে বৈঠকে বসে সে কথা জানিয়ে দিয়েছেন। আর রাজনৈতিক পথও চূড়ান্ত করে ফেলেছেন।
২০২৫ সালের শুরুতেই সংগঠন এবং প্রশাসন নিয়ে বৈঠক সেরে ফেললেন তৃণমূল সুপ্রিমো। ওই বৈঠকে ছিলেন অভিষেক এবং বক্সিদা। সেখানেই সংগঠন এবং প্রশাসন নিয়ে সবিস্তারে আলোচনা হয়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলের ভিত্তিতে কিছুব পদক্ষেপ করতে চেয়েছিলেন অভিষেক। সেগুলি নিয়েও কথা হয়েছে। সেখানেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে দলের সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়ে সময় নষ্ট না করার কথা বলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেবাশ্রয় প্রকল্পের উদ্বোধনেও তাঁর মুখ থেকে সে কথা শোনা গিয়েছিল। এবার অভিষেকের কথা সায় দিয়ে সমন্বয় তৈরির ভার নেত্রী দিলেন রাজ্য সভাপতিকে।
আরও পড়ুন: দুলাল সরকার হত্যাকাণ্ডে যুক্ত দুই মূলচক্রীর ছবি প্রকাশ করল পুলিশ, ঘোষণা মাথার দামও
২০২৫ সাল পড়তেই প্রথম দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রণাম করতে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরই ডায়মন্ডহারবারে শুরু হয় স্বাস্থ্য শিবির সেবাশ্রয়। তার আগে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৈঠক হয় সংগঠন এবং সরকার চলা নিয়ে। রদবদলের ক্ষেত্রেও জোর দেন অভিষেক। যাতে সায় দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে সূত্রের খবর। আর ওই বৈঠকেই প্রায় অধিকাংশ সমস্যার সমাধান হয়ে গিয়েছে। এবার রদবদল এখন কদিনের অপেক্ষা। সংগঠনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা নিয়েও তৃণমূলনেত্রী এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মত বিনিময় করেছেন। এই বিষয়টি নিয়ে তাঁরা দু’জনেই কড়া হওয়ার পক্ষপাতী।
মন্ত্রিসভার ক্ষেত্রেও রদবদল হতে পারে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বলে সূত্রের খবর। কারণ এই বিষয়ে দু’জনের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তারপর ডায়মন্ডহারবারে স্বাস্থ্য শিবির উদ্বোধনে এসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রদবদল হবেই। তবে তা হবে কাজের ভিত্তিতে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যজুড়ে বাংলার বাড়ি প্রকল্পকেই সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তৃণমূলনেত্রী। রাজ্য সরকারের যে সমস্ত কাজ মানুষের দুয়ারে নিয়ে আসা হয়েছে তা নিয়ে প্রচার করা হোক চান দলনেত্রী। সেটা দেখবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মানুষের কাছে আরও ভাল প্রকল্প নিয়ে আসা হবে। আর অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করা হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।