‘TMCর পঞ্চায়েত- পুরসভার দেওয়া নথি দেখিয়েই পাসপোর্ট বানাচ্ছে বাংলাদেশি মুসলমানরা’
রাজ্য পুলিশের ডিজি যতই বলুন, ভুয়ো পাসপোর্ট তৈরিতে পুলিশের কোনও ভূমিকা নেই, অত সহজে পুলিশকে ছাড়তে নারাজ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের পঞ্চায়েত ও পুরসভা থেকেই বাংলাদেশি মুসলিমদের রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে। আর পুলিশ টাকা নিয়ে ভেরিফিকেশন করে দিচ্ছে সেই নথি।
এদিন শুভেন্দুবাবু বলেন, ‘বাংলাদেশি মুসলমানরা সমস্ত কিছু জাল করছে। আর এর উপকেন্দ্র হচ্ছে তৃণমূলের পঞ্চায়েত আর পৌরসভা। তারা রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট দিচ্ছে বলেই পাসপোর্টগুলো তৈরি হচ্ছে। পুলিশ ভেরিফিকেশন দিচ্ছে টাকা নিয়ে। এরজন্য দায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’
বাংলার মানুষের প্রতি বিরোধী দলনেতার আবেদন, ‘আমি বাংলার মানুষকে বলব আপনারা ২৬ সালে এই সরকারকে একবার বিসর্জন দিন। ব্লিচিং, ফিনাইল, কার্বোলিক অ্যাডিড আর যা যা লাগে সব কিছু স্প্রে করে এদের নির্মূল করুন। আমরা যেমন পার্থেনিয়ামকে নির্মূল করেছি এদেরকে কী করে সাফ করতে হয় আমরা জানি। একদম পরিষ্কার করে দেব আমরা। যোগী আদিত্যনাথজির মতো সুশাসন ও সুরক্ষা এবং গুজরাতের মতো শিল্প ও কর্মসংস্থান দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।’
এদিন এক সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যে ভুয়ো পাসপোর্ট তৈরির দায় কার্যত কেন্দ্রের ঘাড়ে ঠেলে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার বলেন, ‘রাজ্যে কী ভাবে ভুয়ো পাসপোর্ট তৈরি হচ্ছে তা নিয়ে তদন্তে করছেন পুলিশকর্তারা। পাসপোর্ট দফতর থেকে পুলিশ ভেরিফিকেশনের যে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে তাতে ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা। ব্যক্তির ঠিকানা যাচাই, ব্যক্তির অন্যান্য নথি যাচাইয়ের অধিকার পুলিশের হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র বিশেষক্ষেত্রে পাসপোর্ট দফতরের বললে তবেই কোনও নথি যাচাই করতে পারবে পুলিশ। সম্ভবত পাসপোর্ট তৈরির প্রক্রিয়ায় গতি আনতে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। কিন্তু এর ফলে কোনও নথি দেখে সন্দেহ হলেও কিছু করার থাকে না পুলিশের। কোন নথি জাল তা স্থানীয় পুলিশ আধিকারিকরাই সব থেকে ভালো বুঝতে পারেন। কারণ তাদের কাছে এই ধরণের চক্রগুলির খবরাখবর থাকে।’
তিনি জানিয়েছেন, পাসপোর্টের পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য নতুন নীতিমালা তৈরি করেছে রাজ্য পুলিশ। সেই নীতিমালা অনুসারে পাসপোর্টের পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে। এছাড়া রাজ্য পুলিশের আধিকারিকরা জাল পাসপোর্ট চক্র ধরতে সদা সক্রিয় রয়েছে। এব্যাপারে তাদের দক্ষতা প্রশ্নাতীত।