শাল ব্যবসার নামে কারা আসছেন দেখুন! পুলিশকে চিঠি দিলেন বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান, বাংলার মুখ
সম্প্রতি একের পর এক ব্যক্তিকে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে বাংলা থেকে। গোটা ঘটনায় উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। মুর্শিদাবাদের পরে এবার ক্যানিং থেকেও এক সন্দেহভাজন জঙ্গিকে সম্প্রতি গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর।
এদিকে এসবের মধ্য়েই এবার ভিনরাজ্য থেকে আসা শালওয়ালাদের নাম করে সন্দেহভাজন কেউ আসছে কি না তা জানার অনুরোধ জানিয়ে বনগাঁ থানার আইসিকে চিঠি দিলেন বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান।
তিনি ওই চিঠিতে লিখেছেন, ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বনগাঁ পুরসভা এলাকায় কাশ্মীর থেকে আসা হকারের সংখ্য়া বাড়ছে। কাশ্মীর থেকে এসে এই এলাকায় শাল ও শীতের পোশাকের দোকান খুলেছেন তারা। অথচ তাঁদের কোনও তথ্য় পুরসভার কাছে নেই। এই অবস্থায় সাধারণ মানুষের সুরক্ষার জন্য তাঁদের বিষয়ে জানা প্রয়োজন। এই বিষয়ে তদন্ত করা হোক। লিখেছেন বনগাঁ থানার আইসিকে বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান।
সংবাদ মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে অশান্তির একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছে। উগ্রপন্থীদের একটা আঁতুরঘর হয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। আমাদের শহরটি সীমান্তবর্তী। বাইরে থেকে শাল ব্যবসার নাম করে কারা আসছে সেটা দেখা দরকার। সেটা দেখার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করেছি।
এদিকে প্রতিবছরই ভিনরাজ্য বিশেষত কাশ্মীর থেকে প্রচুর শাল ব্যবসায়ী তাঁরা রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতে আসেন। বছরের পর বছর ধরে তাঁরা বাংলায় আসেন। এমনকী অনেকে এখানে এসে সাইকেল কিনে নেন। তারপর গ্রামে গ্রামে ঘুরে তাঁরা শীতবস্ত্র বিক্রি করেন কিছুদিন ধরে। তারপর একসময় তাঁরা ফিরেও যান। আবার পরের বছর নির্দিষ্ট দিনে তাঁরা আবার আসেন বাংলায়। বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে তাঁরা শীতবস্ত্রের স্টলও করে ফেলছেন। সেখানে তাঁরা শীতবস্ত্রের বিক্রিবাটা করেন। তাঁদের অনেকের সঙ্গে বাংলার সম্পর্ক বেশ ভালো।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্যানিং থেকে জঙ্গি সন্দেহে এক ব্যক্তি গ্রেফতার হওয়ার পরে নতুন করে নানা সন্দেহ দানা বাঁধতে থাকে। এমনকী জাভেদ মুন্সি নামে ওই ব্যক্তি যার বাড়িতে এসেছিলেন তিনি শাল বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে খবর। তবে তার আত্মীয়রা জানিয়েছেন কাশ্মীরে জাভেদের ওষুধের কারবার রয়েছে বলে নাকি তিনি জানিয়েছেন।
জাভেদ মুন্সি কোথায় এসেছিল?
জাভেদ মুন্সি। গোলাম মহম্মদ নামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে এসেছিল। এদিকে সেই আত্মীয় আবার সাত মাসের জন্য ভাড়া নিয়েছিল ক্য়ানিংয়ের ওই বাড়ি। ১৯ নভেম্বর সেখানে এসেছিল ওই জাভেদ। স্থানীয় এক বাসিন্দা সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, যে আত্মীয়র বাড়িতে এসেছিল সেই আত্মীয় গোলাম দীর্ঘদিন ধরে শাল বিক্রি করে। সাত মাসের জন্য বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল। নভেম্বরে বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল। সেই আত্মীয়ও কাশ্মীরের বাসিন্দা। ওরা ৬ মাস আসে। এরপর তারা ফিরে যায়। তবে জাভেদকে কোনওদিন দেখিনি।