‘ফ্যামিলিম্যান মামা মনমোহন!’ কলকাতার গুরুদ্বারে ছিলেন দু ঘণ্টা, নীরবে…, বাংলার মুখ
ভিআইপির আসা মানেই তো বিরাট আয়োজন। চারদিকে একেবারে ঢাক ঢোল বাজতে থাকে। এমন পরিস্থিতি। সেই সঙ্গে লম্বা কনভয়। আমজনতার বিরাট সমস্যা। তবে প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ছিলেন কিছুটা অন্যরকম। মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে যে শব্দবন্ধটা বার বার যুক্ত হয়েছে সেটা হল ফ্য়ামিলিম্য়ান।আসলে তিনি পরিবার, বৃহত্তর পরিবার, আত্মীয়দের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত নিবিড়। খ্য়াতির জেরে তিনি আত্মীয়দের সঙ্গে মিশতে চাননি এমনটা নয়। কলকাতার বোনের সঙ্গেই যোগাযোগ ছিল তাঁর। আর এই কলকাতার সঙ্গে যুক্ত একটি ঘটনা ফের সামনে আসতে শুরু করেছে।
২০০৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন মনমোহন সিং। এরপরের বছর ২৫শে জুন কলকাতায় একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান ছিল। আর সেই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে কলকাতায় এসেছিলেন মনমোহন। সূত্রের খবর সেই সময় পরিবারের সদস্য রাজেন্দ্র সিং সাইনির শ্রাদ্ধানুষ্ঠান ছিল। সেই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে কলকাতার রাসবিহারী মোড়ের গুরুদ্বার জগৎ সুধারে এসেছিলেন মনমোহন। বর্তমানের প্রতিবেদন অনুসারে জানা গিয়েছে।
কিন্তু আগে থেকেই বলে রাখা ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আগমন উপলক্ষ্যে বিরাট আয়োজন করতে হবে এমনটা নয়। কোনও ধরনের আড়ম্বর ছিল না সেদিন। তিনি সেই গুরুদ্বারে ছিলেন প্রায় দু থেকে আড়াই ঘণ্টা। কিন্তু নীরবে। অনেকেই টের পাননি সেদিন।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাটিয়েছিলেন তিনি। নানা আচার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। লঙ্গরেও অংশ নেন। সবার সঙ্গে চাপাটি, সবজি, ডাল খেয়েছিলেন। এরপর সেখান থেকে সোজা কলকাতা বিমানবন্দর। ফিরে গিয়েছিলেন মনমোহন। কিন্তু দাগ রেখে গিয়েছিলেন আপনজনদের মনে। ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও সাদামাটা। বিরাট খ্য়াতির বিষয়কে দূরে রেখে তিনি মিশতেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে।
ওই প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে মনমোহন সিংয়ের ভাগ্নে সুখবীর সাইনি জানিয়েছেন, মামা কত ফ্যামিলিম্যান হতে পারেন সেদিন টের পেয়েছিলাম। গুরুদ্বারে সবার সঙ্গে নিজের মতো করে মিশে গিয়েছিলেন। আমাদের মধ্যে তিনি কখনও প্রধানমন্ত্রী হিসাবে মেশেননি। আগে থেকেই উনি বলে দিয়েছিলেন, কোনওরকম প্রচার যেন না হয়। এমনকী ছবি তোলাও বারণ ছিল।
কার্যত সেদিন প্রচারের আলোতে আসতে চাননি তিনি। একেবারে নীরবে পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর জন্য যাতে সেই অনুষ্ঠানের মূল সুরটা নষ্ট না হয় সেব্যাপারে সবরকম খেয়াল রেখেছিলেন মনমোহন। অনেকে বলেন ঠিক এই জায়গাতেই মনমোহন সবার থেকে আলাদা। চিরবিদায় নিয়েছেন তিনি। রেখে গেলেন এক অন্য ধারার রাজনীতিকে। যেখানে উচ্চস্বরে কথা নেই। পারস্পরিক বিদ্বেষকে উচ্চস্বরে বলা নেই…