Kolkata: আর পালানোর পথ নেই, ওভারটেক করলেই খবর যাবে পুলিশের কাছে! রেষারেষি রুখতে এবার মোক্ষম ‘অস্ত্র’ আনল পরিবহন দফতর – Bengali News | West Bengal Transport Department Started New Tracking Link For Buses To Stopping Overtake in Kolkata Road
রেষারেষি রুখতে কড়া দাওয়াইImage Credit source: TV9 Bangla
কলকাতা: একই রুটের দুই বাসের মধ্যে রেষারেষির ঘটনা নতুন কিছু নয়। এই রেষারেষির জেরে প্রাণ গিয়েছে বহু নীরিহ মানুষের। সেই কারণে কড়া পরিবহন দফতর। রেষারেষি বন্ধ করতে চালু হচ্ছে নয়া ‘দওয়াই’। বেসরকারি রুটের বাস এবার থেকে পড়বে ট্র্যাকিংয়ের আওতায়। ইতিমধ্যেই এ শহরের ১২টি বাস রুটকে বেছে নেওয়া হয়েছে এই পাইলট প্রোজেক্ট হিসেবে। রেষারেষি করলে অথবা বাসের গতিবিধি জানতে এই ট্র্যাকিং পদ্ধতি পুলিশকে সাহায্য করবে বলে দাবি পরিবহন দফতরের কর্তাদের।
কীভাবে কাজ করবে এই ট্র্যাকার?
মঙ্গলবার সন্ধেয় পরিবহন দফতরের প্রধান সচিব সৌমিত্র মোহন পরিবহন দপ্তরের ময়দান তাঁবুতে বেসরকারি বাস সংগঠনের কর্তাগুলির সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানেই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে প্রত্যেকেই সহমত হন। স্থির হয়েছে, বাস মালিকরা প্রত্যেক চালককে একটি করে মোবাইল দেবে। যার ইন্টারনেট এবং আনুষাঙ্গিক খরচ বহন করবে পরিবহন দফতর।
বাসের মধ্যে লাগানো থাকবে একটি কিউ আর কোড। চালকরা স্ট্যান্ড থেকে বাস বের করার সময় ওই কিউ আর কোডকে মোবাইল দিয়ে স্ক্যান করবে। সঙ্গে-সঙ্গে কোন বাস কোন জায়গা থেকে বের হচ্ছে এবং সেটির রুট কী, আদৌ নির্দিষ্ট রুট দিয়ে যাচ্ছে কি না, গাড়ির গতি কী, তার যাবতীয় তথ্য বাস মালিক এবং লালবাজার ট্রাফিক বিভাগের কাছে চলে যাবে।
শুধু তাই নয়, রাস্তায় চলতে গিয়ে কোনও বাসের সঙ্গে রেষারেষি বা ওভারটেক করছে কি না, সেটাও এই আধুনিক প্রযুক্তির ট্র্যাকিং সিস্টেমের মাধ্যমে জানতে পারবেন পুলিশ আধিকারিক বা কর্তারা। এই অনুযায়ী দ্রুত নিকটবর্তী ট্রাফিক আউট পোস্টে খবর পাঠানো হবে এবং বাসটিকে আটক করা হবে। একইসঙ্গে, এই ট্র্যাকিং পদ্ধতি যুক্ত থাকবে ‘যাত্রীসাথী’ অ্যাপের সঙ্গে। যার ফলে যাত্রীরা বাসের গতিবিধি সম্পর্কে জানতে পারবেন।
তবে এই অত্যাধুনিক ব্যবস্থা এবং দামি মোবাইল চালকদের দেওয়া নিয়ে বেসরকারি বাস সংগঠনের কর্তাদের দাবি, মাসখানেক আগে ভিএলটিডি মেশিন বাসগুলিতে বসাতে গিয়ে প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়েছে। আবার নতুন করে চালকদের মোবাইল দিতে হবে। সেক্ষেত্রে পরিবহন দফতরকে অন্তত কিছু অর্থ ভার বহন করতে হবে।নইলে এই বিপুল খরচ সামলানো কষ্টসাধ্য ব্যাপার হবে বাস মালিকগুলির কাছে।
বৈঠকে প্রধান সচিবের কাছে বাস মালিক সংগঠনের কর্তারা জানান, আর্থিক কারণে এবং যাত্রী কমে যাওয়ায় শহর থেকে একাধিক বাস বসে গিয়েছে। সেই জায়গায় অতীতে বাস চালিয়ে যে লভ্যাংশ ঘরে আসত, তার প্রায় ৯০% কমে গিয়েছে। এমত অবস্থায় নতুন করে এই আর্থিক ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব পর হবে না। সূত্রের খবর, বৈঠকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন পরিবহন দফতরের প্রধান সচিব।
সিটি সাবার্বান বাস সার্ভিস সাধারণ সম্পাদক টিটু সাহা বলেন, “আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে এই ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু হবে। আমাদের তথ্য ডাটা দিতে বলা হয়েছে।”
