সরকার পড়ল বলে! হাতছাড়া একের পর এক শহর, রাজধানীও ঘিরে ফেলেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী, এবার… – Bengali News | Rebels says they have encircled damascus syria president bashar al assad missing govt about to fall
সিরিয়ার পতন হবে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে?Image Credit source: PTI
দামাস্কাস: সালটা ছিল ২০২০। ১৫ অগস্ট আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখল করল তালিবান। তারপরের কাহিনী সকলের জানা। কাট টু ২০২৪। যেন একই সিনেমার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। দিন প্রতিদিন পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হচ্ছে। সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশাদ আল আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে উদ্যত দস্যুরা। ইতিমধ্যেই সিরিয়ার রাজধানী দামাস্কাস ঘিরে ফেলছে সশস্ত্র গোষ্ঠী। যে কোনও মুহূর্তেই সরকারের পতন হতে পারে। আর তারপর?
সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তায় ভারত সরকারও। সে দেশে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। সম্ভব হলে পরের ফ্লাইটেই সিরিয়া ছেড়ে চলে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদিও পরিস্থিতি যে ক্রমশ হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে, তা এখনও মানতে নারাজ বাশার আল আসাদের সরকার।
সশস্ত্র গোষ্ঠী হাতে ইতিমধ্যেই আলেপ্পা, হামা সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহর। দামাস্কাসের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে সেনা। শহরের সীমান্ত ঘিরে ফেলেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী। ওই গোষ্ঠীর কম্যান্ডার হাসান আব্দুল ঘানি বলেন, “আমাদের বাহিনী শেষ ধাপে প্রবেশ করেছে, রাজধানী ঘিরে ফেলা হচ্ছে।”
অর্থাৎ দামাস্কাসের পতনও যেন এখন সময়ের অপেক্ষা! হায়াত তাহরির আল-শাম নামক ইসলামিক গোষ্ঠী, যারা এই হামলার নেতৃত্ব দিচ্ছে, তাদের নেতা সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন, আসাদ সরকারের গদি দখল করার জন্য যেন তারা প্রস্তুত থাকে।
এরই মধ্যে শোনা গিয়েছিল যে দেশের এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে বাশার আল আসাদ দেশ ছেড়েছেন। দামাস্কাস থেকে সামরিক বিমান উড়তেই জল্পনা শুরু হয়। সম্প্রতিই বাশার রাশিয়ায় একটি বিলাসবহুল বাড়ি কিনেছেন। পালিয়ে সেখানেই আশ্রয় নিয়েছেন বলে জল্পনা। যদিও সরকারের দাবি, প্রেসিডেন্ট কোথাও পালাননি। তিনি দেশেই আছেন।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশেষ সাহায্য করতে পারছে না ‘বন্ধু’ রাশিয়া ও ইরান। তারা নিজেদের দেশেই যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত। রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সার্গেই লাভরভ বলেছেন, সিরিয়া যেন কোনওভাবেই জঙ্গিদের হাতে না যায়। অন্যদিকে, হবু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “সিরিয়ার অবস্থা খারাপ। কিন্তু সিরিয়া আমাদের বন্ধু নয়। তাই আমাদের কিছু করার নেই। এই লড়াইও আমেরিকার নয়। যা হচ্ছে, হতে দাও।”
