Murder: কোদাল-লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে খুন বৃদ্ধকে, ৬ বছর পর আদালত দিল বড় রায় – Bengali News | Court sentences 2 accused to life imprisonment for beating an elderly man to death over a family dispute
কড়া সাজা শোনাল আদালত Image Credit source: TV 9 Bangla
বাঁকুড়া: পারিবারিক বিবাদের জেরে এক বৃদ্ধকে খুনের অভিযোগ। কোদাল ও লাঠি দিয়ে নৃশংসভাবে পিটিয়ে খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগে। তাতেই দুই অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বাঁকুড়া জেলা আদালত। ২০১৮ সালের ২ সেপ্টেম্বর বাঁকুড়ার ওন্দা ব্লকের চূড়ামনিপুর গ্রামে পারিবারিক বিবাদের জেরে মাঠের মধ্যে কোদাল ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে খুন করা হয় রবীন্দ্রনাথ মণ্ডলকে। ঘটনার ৬ বছর পর গতকাল দু’জনকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। এদিন ওই দু’জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন বাঁকুড়া জেলা জজ আদালতের বিচারক মনোজ্যোতি ভট্টাচার্য।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই ওন্দা ব্লকের চূড়ামণিপুর গ্রামের রবীন্দ্রনাথ মণ্ডলের পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কিত ভাই গোপাল মণ্ডলের পরিবারের বিবাদ চলছিল। তার জেরে রবীন্দ্রনাথ মণ্ডলের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ঘরছাড়া ছিলেন। বাড়িতে একাই থাকতেন রবীন্দ্রনাথ। ২০১৮ সালের ২ সেপ্টেম্বর রবীন্দ্রনাথ জমিতে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য খাবার নিয়ে যাওয়ার পথে আচমকাই গোপাল মণ্ডল ও তাঁর দুই ছেলে রঘুনাথ ও সোমনাথ তাঁর উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। গোপাল, রঘুনাথ ও সোমনাথের হাতে থাকা কোদাল ও লাঠির আঘাতে মাঠের মাঝেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন রবীন্দ্রনাথ।
পরে স্থানীয়রা রবীন্দ্রনাথকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ওন্দা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার কয়েকদিন পর পুলিশ রবীন্দ্রনাথকে খুনের অভিযোগে গোপাল, রঘুনাথ ও সোমনাথকে গ্রেফতার করে। ওই বছরই আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। পরে জেলে থাকা অবস্থাতেই মৃত্যু হয় অভিযুক্ত গোপাল মণ্ডলের। অপর দুই অভিযুক্ত রঘুনাথ ও সোমনাথ মণ্ডলের বিচার চলতে থাকে। মোট ২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে গতকাল ওই দুই অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। এদিন ওই দুজনকে ৩০২/৩৪ নম্বর ধারায় যাবজ্জীবন জেল ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো ৬ মাস জেলের নির্দেশ দেয় আদালত। যদিও আদালতের এই রায়ে খুশি নয় মৃতের পরিবার। মৃতের পরিবারের দাবি, ওদের সর্বোচ্চ সাজা হওয়া প্রয়োজন ছিল।