Exclusive: ‘কাঞ্চনকে তো কোনও সেন্সর করা হচ্ছে না’, অভিমানে পুরস্কার ফেরালেন অভিনেতা সুপ্রিয় দত্ত – Bengali News | Actor supriyo dutta refuse to his ward after kanchan mullick controversial statement on this issue
পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমি পুরস্কার ফেরালেন এবার অভিনেতা-নাট্যকর্মী সুপ্রিয় দত্ত। বিধায়ক তথা অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিকের মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক ও ক্ষোভের জেরেই একে একে রাজ্য সরকারের পুরস্কার ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন অনেকেই। সেই তালিকাতেই নাম লেখালেন সুপ্রিয় দত্ত। বৃহস্পতিবার অর্তাৎ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়ে পুরস্কার ফেরালেন তিনি। TV9 বাংলার পক্ষ থেকে অভিনেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ক্ষোভ উগরে দেন অভিনেতা।
সুপ্রিয় দত্তের কথায়, ‘একজন বিধায়ক বললেন, ‘যাঁরা যাঁরা টাকা নিয়েছেন, তাঁরা ফেরত দেবেন তো?’ এমনিতেই আমি খুব যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছি। খালি মনে হচ্ছে, এটা বোধহয় আমার কাছে রাখা ঠিক নয়। খুব গ্লানিতে ভুগছি। সেই কারণেই এটা আমি ফেরত দিতে চাই। অভিনেতা হিসেবে আমার মনে হয় এটা ফেরত দিয়ে দেওয়াই উচিত। একটা নৃশংস হত্যা, মানুষ পথে নেমেছেন। এমন নয় যে আমায় এটা খুব অসম্মান করে দেওয়া হয়েছিল, সম্মান দিয়েই পুরস্কৃত করা হয়েছিল।’
কাঞ্চন মল্লিক, তিনি তো ইন্ডাস্ট্রির মানুষ। আজ তাঁর বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে পুরস্কার ফেরাচ্ছেন বহু গুণী শিল্পী। এই প্রসঙ্গে সুপ্রিয় দত্ত বলেন, ‘সেই জন্যই আরও খারাপ লেগেছে। তাঁকে তো কোনও সেন্সর করা হচ্ছে না। এটা কীভাবে বললেন? আমি সত্যি বিস্মিত। ও দীর্ঘদিন আমার সঙ্গে কাজ করেছে। আর শুধু এটা নয়, এই যে ঘটনায় ধামাচাপ দেওয়ার চেষ্টা! তারপর উচ্চ আদালত থেকে সুপ্রিয়কোর্ট, সেখানেও সুও মোটো দিয়ে চলে গেল, কী হচ্ছে এটা! সাধারণ মানুষ যে রাস্তায়, তাঁরা বুঝতে পেরেছেন। আমি তো একজন থিয়েটার শিল্পী, পুরস্কার নিয়ে কখনই ভাবিনি, তবে আবারও বলছি, এটা আমায় খুব ভালবেসে দেওয়া। তবে এই কথা বলার পরে, এই ঘটনার পরে আমার মনে হচ্ছে এটার রাখার কোনও যৌক্তিকতা নেই।’
এই খবরটিও পড়ুন
২০২১ সালে ২৪ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমি পুরস্কারে ভূষিত হন অভিনেতা সুপ্রিয় দত্ত। তিন বছর পেরিয়ে সেই পুরস্কার ফেরত দিলেন অভিনেতা। আরজি কর কাণ্ডের মাঝেই কাঞ্চন মল্লিকের করা মন্তব্যে হতবাক তিনি। রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়ে বৃহস্পতিবার তিনি জানান, এই পুরস্কার তিনি ফিরিয়ে দিতে চান। কারণ বাবদ লিখলেন, ‘কলকাতার আর জি কর হাসপাতালের নারকীয় ঘটনার পর শাসকের ভূমিকা আমায় স্তম্ভিত করেছে। শাসক এবং তার পদলেহনকারী পুলিশ-প্রশাসনের প্রতিটি পদক্ষেপ প্রমাণ করেছে সত্যকে আড়াল করতে তারা কতটা মরিয়া। এমতাবস্থায় এক কন্যা সন্তানের পিতা হিসেবে আমি ভীত, সন্ত্রস্ত। পাশাপাশি আমার বন্ধু বর্তমানে শাসকের প্রতিনিধি কাঞ্চন মল্লিকের কথায় বুঝলাম শাসক আসলে পুরস্কার এবং সম্মানের বিনিময়ে মোসায়ের খরিদ করে। শাসক চায় একদল অমেরুদণ্ডী চাটুকারের ব্যাটেলিয়ন। কাঞ্চনবাবুর এই বিবৃতি আসলে সরকারেরই ঘোষিত (বা অঘোষিত) আদেশনামা– হয় সত্য নয় সম্মান। এমতাবস্থায় আমি সত্যের পথই বেছে নিলাম।’
প্রসঙ্গত, কাঞ্চন মল্লিক কয়েকদিন আগেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেছিলেন, “যাঁরা কর্মবিরতি করছেন শাসকদলের বিরুদ্ধে। ভাল। তাঁরা সরকারি বেতন নিচ্ছেন তো নাকি নিচ্ছেন না? এটা আমার প্রশ্ন। বোনাস নেবেন তো? না নেবেন না?” সরকারি পুরস্কার গ্রহণ করবেন কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। যদিও এরপর তিনি লাইভে এসে ক্ষমা চেয়েছেন, তবে কাঞ্চনের মন্তব্য মেনে নিতে পারছেন না কেউই।