Vinesh Phogat: মনে হয়েছিল, মেয়েটা হয়তো মরে যাবে… বিনেশ ফোগাটকে নিয়ে মুখ খুললেন কোচ – Bengali News | Thought she might die, says Vinesh Phogat coach on weight cut before Paris 2024 final
Vinesh Phogat: মনে হয়েছিল, মেয়েটা হয়তো মরে যাবে… বিনেশকে নিয়ে মুখ খুললেন কোচ
Image Credit source: X
কলকাতা: সারা রাত জেগে কাটিয়েছিলেন… মুখে তোলেননি খাবারের একটা দানা, বিন্দুমাত্র জলও… ক্রমাগত করে গিয়েছিলেন সাইক্লিং, স্কিপিং, জগিং ও আরও নানা জিনিস। যা দিয়ে ওজন কমানো যায়। কিন্তু শেষ অবধি ১০০ গ্রাম ওজন বেশি থাকায় প্যারিস অলিম্পিকে পদকের শেষ লড়াইয়ে নামা হয়নি বিনেশ ফোগাটের (Vinesh Phogat)। ভারতীয় মহিলা কুস্তিগির বিনেশ ফোগাট প্যারিস গেমসে মেয়েদের ৫০ কেজি কুস্তি বিভাগের ফাইনালে উঠেছিলেন। কিন্তু সেমিফাইনালের পর তাঁর ২ কেজি ওজন বেড়ে যায়। সারা রাত বিনেশ অনেক চেষ্টা করেন ওজন কমানোর। শরীর থেকে তাঁর রক্ত বের করা হয়েছিল, চুল ছোট করে কাটা হয়েছিল, জামাও কাটা হয়েছিল। সব চেষ্টা করেও ১ কেজি ৯০০ গ্রাম কমাতে পেরেছিলেন। কিন্তু ১০০ গ্রাম পারেননি। এই ঘটনায় প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিল দেশবাসী। সামনে থেকে সেই সময় বিনেশকে যিনি দেখেছিলেন, তাঁর কোচ এ বার জানালেন, ভারতীয় কুস্তিগিরকে দেখে মনে হয়েছিল, তিনি মারাই যাবেন।
প্যারিস অলিম্পিকে বিনেশের সঙ্গে তাঁর যে কোচ ছিলেন, উলার আকোস তিনি এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘সেমিফাইনালের পর ২.৭ কেজি ওজন বেড়েছিল। আমরা এক ঘণ্টা ২০ মিনিট অনুশীলন করেছিলাম বাড়তি ওজন কমানোর জন্য। এরপরও ১.৫ কেজি ওজন বেশি ছিল। ৫০ মিনিট সনার পরও ওর শরীর থেকে এক বিন্দু ঘাম বেরোয়নি। আর কোনও উপায় ছিল না। মধ্যরাত থেকে ভোর ৫.৩০ অবধি ও একাধিক কার্ডিয়ো মেশিনে সময় কাটায়। প্রচুর কুস্তির প্যাঁচ অনুশীলন করে। দু’তিন মিনিট বিশ্রাম নিয়ে ও আবার ওজন কমানোর চেষ্টা করতে থাকে। একবার তো মাথা ঘুরিয়ে পড়েও যায়। কোনওরকমে আমরা ওকে তুলি। এরপর ১ ঘণ্টা সনা চলে। এই পুরো বিষয়টা জানিয়ে আমি কোনও নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছি না। শুধু এটাই বলতে চাই, ও কিন্তু মারা যেতেও পারত।’
এত চেষ্টা… সব বিফলে গিয়েছে। বিনেশকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছিল। তাঁকে ফ্লুইড দিতে হয়েছিল। পরবর্তীতে নিজের কোচকে কাঁদতে কাঁদতে বিনেশ জানান, তিনি যে বিশ্বের সেরা কুস্তিগিরকে হারাতে পেরেছেন, তা দিয়েই মনে করছেন নিজের লক্ষ্যে পৌঁছেছেন।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে বিনেশ আবেদন করেছিলেন, তাঁকে যেন রুপোর পদকের জন্য বিবেচনা করা হয়। ক্রীড়া আদালত বিনেশের আবেদন খারিজ করেছে। কোনও পদকই পাচ্ছেন না ইতিহাস গড়া কুস্তিগির। অনেক ক্রীড়াবিদই বিনেশের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছেন, আপনি চ্যাম্পিয়ন।