Aman Sehrawat: ১০ ঘণ্টায় প্রায় ৫ কেজি কমিয়ে অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ, বিনেশ-বিতর্ক উস্কে দিলেন আমন – Bengali News | Aman Sehrawat lost 4.6 kg in just 10 hours, From hot baths to hogging, here’s how he loss weight before the Paris Olympics bronze match
কলকাতা: বিনেশ ফোগাটের মতো অলিম্পিকে বাতিল হওয়ার দুঃস্বপ্ন তাড়া করছিল আমন শেরাওয়াতকে (Aman Sehrawat)। শেষ অবধি ‘হেভিওয়েট’ থেকে বেরোতে পারায় দেশকে প্যারিস থেকে পদক দিতে পেরেছেন বছর ২১-এর আমন। প্যারিস অলিম্পিকে (Paris Olympics 2024) ভারত ‘লন্ডন’কে ছুয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে পুরুষদের কুস্তির ৫৭ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন আমন শেরাওয়াত। যার ফলে প্যারিস গেমসে ভারতের পদক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আপাতত ৬। লন্ডন অলিম্পিক থেকেও ভারতে এসেছিল ৬টি পদক। এই আমনও অবশ্য বিনেশের মতো অলিম্পিক থেকে বাতিল হয়ে যেতেন, যদি তিনি সঠিক সময়ে ওজন না কমাতে পারতেন।
বিষয়টা পরিষ্কার করা যাক। প্যারিস অলিম্পিকে পুরুষদের ৫৭ কেজি ফ্রিস্টাইল কুস্তির সেমিফাইনাল ম্যাচের পর ৪.৬ কেজি ওজন বেড়ে যায় আমন শেরাওয়াতের। তাঁর কাছে সুযোগ ছিল ওজন কমিয়ে ব্রোঞ্জ পদক ম্যাচে নামার। আর সময় ছিল ১০ ঘণ্টা। এক মিনিটও সময় নষ্ট করেননি আমন ও তাঁর কোচেরা। যাতে বিনেশের মতো পরিণতি না হয়, তার জন্য কোনও কসুর রাখেননি আমন।
দেশকে প্যারিস গেমস থেকে আমন ব্রোঞ্জ দেওয়ার পর তাঁর দুই কোচ জগমন্দার সিং ও বীরেন্দ্র দাহিয়া জানিয়েছেন, কী ভাবে ১০ ঘণ্টার মধ্যে আমন ৪.৬ কেজি ওজন কমিয়ে ফেলেন। সেমিফাইনাল শেষ হওয়ার পর গেমস ভিলেজে ফিরেই আমনের ওজন কমানোর প্রক্রিয়া শুরু করেন তাঁর দুই কোচ। নিজের দুই কোচের সঙ্গে আমন দেড় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে কুস্তির মহড়া দেন। এরপর এক ঘণ্টা হট বাথ নেন। তারপর রাত ১২.৩০ পর্যন্ত জিম করেন। টানা এক ঘণ্টা ট্রেড মিলও ব্যবহার করেন। একটানা শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বেরিয়ে যায় আমনের। যার ফলে তাঁর ওজনও অনেকটাই কমে যায়। কিন্তু তারপরও আমন থামেননি। ৩০ মিনিটের বিরতি নেওয়ার পর ৫টি পর্বে ৫ বার সনা বাথও নেন আমন। এরপর দেখা যায় তখনও তাঁর ৯০০ গ্রাম ওজন বেশি রয়েছে। এরপর হাল্কা জগিং করেন আমন। তারপর ১৫ মিনিট দৌড়। এত সাধ্যসাধন করে প্যারিসের স্থানীয় সময় অনুযায়ী ভোর ৪.৩০ মিনিটে আমনের ওজন দাঁড়ায় ৫৬.৯ কেজি। হাফ ছেড়ে বাঁচেন আমন ও তাঁর দুই কোচ।
কুস্তিতে পুরুষদের ৫৭ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক পাওয়ার পর আমন জানান, সারা রাত তিনি ও তাঁর দুই কোচ দু’চোখের পাতা এক করতে পারেননি। প্রতি ঘণ্টায় তাঁর ওজন মেপে দেখা হচ্ছিল। সমস্ত উপায় অবলম্বন করে শেষ অবধি ওজন কমাতে সফল হন আমন। এবং দেশকে পদকও দিয়েছেন। এরপর অবশ্য প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, আমন ৪.৬ কেজি ওজন কমিয়ে ফেললেন রাতারাতি, কিন্তু বিনেশ কেন ১০০ গ্রাম কমাতে পারলেন না? ফাইনালে ওঠার পর বিনেশের ওজন ২ কেজি বেড়েছিল। সারারাত সব রকম চেষ্টা করেন ওজন কমানোর। কিছু খাননি, সারা রাত ঘুমোননি। অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তারপর বিনেশ ১ কেজি ৯০০ গ্রাম কমাতে সফল হন। ১০০ গ্রাম আর পারেননি। যে কারণে তাঁর সোনা জয়ের স্বপ্ন মাঠে মারা গিয়েছে