Sheikh Hasina: ভারত আশ্রয় না দিলে কোন কোন দেশের দরজা খোলা শেখ হাসিনার জন্য? জানুন – Bengali News | If India or UK doesn’t give Asylum to Sheikh Hasina, Where will She Stay after Exiting Bangladesh?
কোথায় যাবেন শেখ হাসিনা? Image Credit source: AFP
নয়া দিল্লি: প্রধানমন্ত্রী থেকে এখন ঘরছাড়া। বাংলাদেশের অস্থির পরিস্থিতি, প্রতিবাদ-আন্দোলনের মুখে মাথা নোয়াতে হয়েছে শেখ হাসিনাকে। ইস্তফা দিতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে। আপাতত ভারতেই আশ্রয় নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তবে ভারতেই কি পাকাপাকিভাবে থেকে যাবেন হাসিনা? নাকি ভারত কেবল সাময়িক ঠিকানা, দিন কয়েকের মধ্যেই অন্য দেশে পাড়ি দেবেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী?
সোমবার যখন সেনা কপ্টারে চেপে বোন রেহানাকে নিয়ে দেশ ছাড়েন হাসিনা, সেই সময়ই জল্পনা শোনা গিয়েছিল, হাসিনার সামনে তিনটি দেশের নাম প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে থেকেই ভারতকে বেছে নিয়েছেন শেখ হাসিনা। তবে ভারত নাকি স্থায়ী ঠিকানা হবে না হাসিনার। তিনি এখান থেকে অন্য কোনও দেশে চলে যাবেন শেখ হাসিনা। ভারতও হাসিনাকে পাকাপাকিভাবে আশ্রয় দেবে কি না, তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছে।
এখনও পর্যন্ত যে দেশগুলি হাসিনার সম্ভাব্য ঠিকানা হিসাবে উঠে আসছে, তা হল-
ব্রিটেন– সূত্রের খবর, লন্ডনে যেতে চান শেখ হাসিনা। সোমবার রাতেই তিনি ভারত থেকে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ব্রিটেন সরকার এখনই তাঁকে আশ্রয় দিতে রাজি নয়। বরং বাংলাদেশে বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে হত্য়ালীলা চলেছে, তা রাষ্ট্রপুঞ্জের তত্বাবধানে তদন্তের দাবি করেছে ব্রিটেন সরকার। এরপরই জল্পনা, হাসিনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করতে পারে ব্রিটেন। অন্যদিকে, শেখ হাসিনার ছেলে সাজিব ওয়াজেদ জয় দাবি করেছেন, হাসিনা মোটেও লন্ডনের কাছে আশ্রয়ের আবেদন জানায়নি।
তবে অসমর্থিত সূত্রে খবর, লন্ডনেই যাওয়ার গোঁ ধরে বসে আছেন হাসিনা। এর পিছনে অনেক কারণও রয়েছে। হাসিনার বোন রেহানা ব্রিটিশ নাগরিক। তাঁর ভাইঝি তথা রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক লেবার পার্টির সংসদ সদস্য। তাদের নিজস্ব ঠিকানাও রয়েছে লন্ডনে। সেই কারণে লন্ডনেই যেতে চান হাসিনা।
বেলারুশ– আন্দোলনকারী ছাত্রদের আইনজীবী অনিক হক ‘দ্য ওয়্যার’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, লন্ডন নয়, শেখ হাসিনা যেতে পারেন বেলারুশে। তাঁর দাবি, বেলারুশে যেহেতু যুদ্ধপরাধী আইনে অভিযুক্তদের বিতাড়িত করার কোনও চুক্তি বা নিয়ম নেই। সেই কারণেই সে দেশে আশ্রয় নিতে পারেন হাসিনা।
প্রসঙ্গত, ভারত সহ একাধিক দেশই আন্তর্জাতিক চুক্তির অধীনে রয়েছে, যেখানে যুদ্ধাপরাধী বা আন্তর্জাতিক অপরাধে অভিযুক্তদের আশ্রয় দেওয়া যায় না। বেলারুশে এমন কোনও নিয়ম না থাকায়, নিরাপদ আশ্রয় হিসাবে এই দেশকে বেছে নিতে পারেন হাসিনা।
আমেরিকা– অসমর্থিত সূত্রে খবর, লন্ডনে ঠাঁই না পেলে, আমেরিকা যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে শেখ হাসিনার। তাঁর ছেলে সাজিব আমেরিকাতেই থাকেন। তবে আমেরিকা এখনও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহি– মুসলিম শাসিত রাষ্ট্র হওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে আশ্রয় চাইতে পারেন শেখ হাসিনা।
বেলজিয়াম– শোনা যাচ্ছে, বেলজিয়ামেও আশ্রয় চাইতে পারেন শেখ হাসিনা।
ফিনল্যান্ড– বেলজিয়ামের পাশাপাশি ফিনল্যান্ডেও আশ্রয় চাইতে পারেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।