Lord Shiva: শিবের মাসে কেন নিরামিষ খেতে হয়? কী ব্যাখা রয়েছে শাস্ত্রে? – Bengali News | Why you should eat veg food in Shravan Mas
হিন্দু শাস্ত্রে পবিত্র মাস শ্রাবণ। বিশ্বাস এই সময়ে ভক্তি ভরে শিবের উপাসনা করলে, মন কামনা পূরণ হয়। তাই এই মাসকে শিবের মাস বলেন কেউ কেউ। সোমবার দিন উপোস করেন অনেকে। আবার অনেকেই এই মাসে আমিষ ছোঁন না। নিরামিষ খাওয়া দাওয়া করেন। সারা বছর নেশা করলেও শ্রাবণ মাসে মদ ছুঁয়ে দেখেন না, এমন মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। কিন্তু প্রশ্ন হল কেন?
আসলে শাস্ত্র মতে এই সময় হয়েছিল সমুদ্র মন্থন। পুরাণ মতে সেই সমুদ্র মন্থন থেকে উঠে এসেছিল ১৪টি মহা মূল্যবান জিনিস। যার মধ্যে ১৩টি সামগ্রী নিজেদের ভাগ করে নেয় দেবকূল এবং অসুরকূল। আর ১৪ তম বস্তুটি ছিল হলাহল। যা আদপে এক ভয়ঙ্কর বিষ। সেই বিষ ধারণ করার ক্ষমতা দেব বা অসুর কারো মধ্যেই ছিল না। তাই সমগ্র সৃষ্টিকে রক্ষার স্বার্থে ভগবান শিব নিজের কন্ঠে সেই বিষ ধারণ করেন। বিষের প্রভাবে মহাদেবের গলা নীল হয়ে যায়। তাই তাঁর আরেক নাম নীলকন্ঠ। পরে মহাদেবের শরীরে বিষের প্রভাব কমানোর জন্য দেবতা-অসুরেরা মিলে গঙ্গাজল নিবেদন করেছিল। পুরাণ মতে এই পুরো ঘটনাটিই ঘটেছিল শ্রাবণ মাসে। তাই এই সময় ভগবান শিবের প্রিয় সাত্ত্বিক খাবার খেলে জীবনের মহাদেব প্রসন্ন হয় বলেই ধারণা। নিরামিষ খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মদ্যপান থেকেও বিরত থাকা উচিত।
হিন্দু মতে এই সময় অবিবাহিত মেয়েরা নিষ্ঠা ভরে শিবের ব্রত পালন করলে শিবের মতো স্বামী পায়। বর্ষা ঋতু মাছ এবং বিভিন্ন জলজ প্রাণীর প্রজননের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করে। জীবিত প্রাণীদের, বিশেষ করে যারা গর্ভবতী বা ডিম রয়েছে এমন প্রাণীদের ক্ষতি করা বা হত্যা করা বারণ রয়েছে শাস্ত্রে। তাই অতি পবিত্র শ্রাবণ মাসে সামুদ্রিক খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকার কথা বলেন অনেকে। এই কারণেই গোটা শ্রাবণ মাসে নিরামিষ খান অনেকে।