Bangladesh News: ‘কোনও হিন্দু এলাকা বা মন্দির যেন আক্রান্ত না হয়, বুক দিয়ে রক্ষা করুন’, বার্তা ড. আসিফের – Bengali News | Dhaka University professor Dr Asif Nazrul gives message to bangladesh youth students and hindu citizens
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।
শেখ হাসিনা পদত্যাগ দেওয়ার সঙ্গেই তাঁর সরকারের পতন ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে উত্তপ্ত বাংলাদেশের দায়িত্বভার নেয় সেনাবাহিনী। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকেও বসেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। সেই বৈঠকে ছিলেন ড. আসিফ নজরুলও। বৈঠক শেষে নিজের ফেসবুক পেজে ছাত্র-যুবদের উদ্দেশে ‘সুসংবাদ আসছে’ জানিয়ে এক ভিডিয়ো-বার্তা দেন তিনি।
ঠিক কী বলেছেন ড. আসিফ নজরুল?
৩৮ সেকেন্ডের ভিডিয়ো-বার্তায় ড. আসিফ নজরুল ছাত্র-যুবদের ধৈর্য ধরার বার্তা দেন। তিনি বলেন, “আমরা সেনাপ্রধানের সঙ্গে আলোচনায় আছি। ওঁনর সঙ্গে আলোচনা করে যতটুকু আমার মনে হয়েছে, ছাত্র-জনতার আকাঙ্খা, প্রত্যাশা উনি বুঝতে পেরেছেন। আশা করছি, আপনাদের জন্য অনেক বড় সুসংবাদ আসছে। ছাত্র, তরুণ সমাজ, দেশবাসীর কাছে আমার অনুরোধ, একটু অপেক্ষা করুন, ধৈর্য ধরুন। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখুন। মনে হচ্ছে, এবার থেকে আমরা সঠিক পথে অগ্রসর হব।”
শেখ হাসিনার পদত্যাগের প্রাক্কালে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের অভয়বার্তাও দিয়েছিলেন ড. আসিফ নজরুল। আন্দোলনকারী ছাত্র-যুবদের সতর্কবার্তা দিয়ে ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “কোনও হিন্দু এলাকা বা মন্দির যেন আক্রান্ত না হয়। তাদের বুক দিয়ে রক্ষা করুন। কোন ফাঁদে পা দেবেন না।”
কে ড. আসিফ নজরুল?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বাংলাদেশের কোটা বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মুখ। গত মাসে শুরু হওয়া আন্দোলনের গোড়া থেকেই ছাত্রদের সমর্থনে সরব হন তিনি। ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভ-মিছিলেও দেখা যায় তাঁকে। তার প্রেক্ষিতেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন নিয়ে সেনাপ্রধানের বৈঠকেও উপস্থিত হন ড. আসিফ নজরুল।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের এবারের গণ আন্দোলন ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছে। যদিও এই ঘটনা যাতে না হয়, তার জন্য আগেই হাসিনা সরকারকে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন ড. আসিফ নজরুল। দিন কয়েক আগে এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, “৭১-এর কালো রাত আমি সেভাবে দেখিনি, তখন আমার বয়স ৫ বছর ছিল। এখন মনে হচ্ছে, এটাই সেই কালো রাত, প্রতিদিন বাংলাদেশে মঞ্চস্থ হচ্ছে। প্রতিটা রাত বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তরুণ, ছাত্রদের জন্য বিভীষিকা হয়ে আসছে। একইসঙ্গে হাসিনা সরকারের প্রতি তাঁর সতর্কবার্তা ছিল, আমি সতর্ক করছি, অবস্থা যেদিকে যাচ্ছে, যদি এই বাহিনী খুনি বাহিনী যেগুলো আছে সরকারের, এদের বিচার না করে, তাহলে এই গণ আন্দোলন শীঘ্রই সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হবে। এটা একটা গণ বিস্ফোরণ, গণ আন্দোলন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতর থেকে ছাত্র-নেতাকে পিটিয়ে বের করা হয়েছে। জনধিক্কিত সরকার হওয়ার আগেই সতর্ক হন।”