পরপর গুলির শব্দ… ১৫ অগস্ট কীভাবে হত্যা করা হয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে – Bengali News | Assassination of sheikh mujibur rahman by army in 1975, 15th august, how it happened
বাংলাদেশ: চলতি বছরেই চতুর্থবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে বসেছিলেন শেখ হাসিনা। আন্দোলনের মুখে বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমানের কন্যা হাসিনা সোমবার ইস্তফা দিয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে গিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে পর্যন্ত হামলা হয়েছে এদিন। তাঁর মূর্তিতেও আঘাত করার ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন শেখ মুজিবর রহমান। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ আত্মপ্রকাশ করার ঠিক চার বছর পর হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুকে।
১৯৭৫ সালের ১৫ অগস্ট। পরিবারের একাধিক সদস্যের সঙ্গে হত্যা করা হয় মুজিবর রহমানকে। দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও রেহানা তখন দেশের বাইরে থাকায়, তাঁরা প্রাণে বেঁচে যান।
মুক্তিযুদ্ধের কয়েক বছর পর ১৯৭৫ সালে সেনা অভ্যুত্থান হয় বাংলাদেশে। তখনই হামলা হয় মুজিবরের পরিবারে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা RAW-এর তৎকালীন প্রধান আর এন কাও খবর পেয়েছিলেন যে মুজিবরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। হত্যা করার পরিকল্পনার খবরও ছিল র-এর কাছে। ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে কথা বলে কাও নিজে যান বাংলাদেশে। দেখা করেন মুজিবর রহমানের সঙ্গে। কিন্তু সেই কথায় গুরুত্ব দিতে চাননি বঙ্গবন্ধু। তিনি বলেছিলেন, ‘ওরা আমার সন্তানের মতো। কেউ আমার ক্ষতি করবে না।’ বাংলাদেশের সেনার একাংশই যে ছক কষছে, সেই খবর জানানো হয়েছিল মুজিবরকে।
জানা যায়, মুজিবরের নিরাপত্তায় কোনও আড়ম্বর ছিল না। গাড়ির কাচ নামিয়েও চলাফেরা করতেন তিনি। ১৯৭৫-এর ২১ মে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার চেষ্টা হয়। গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু সব পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। তবে ১৫ অগস্ট আর কোনও ভুল করেনি আততায়ীরা।
সে দিন সকালে চার ভাগে ভাগ হয়ে যায় আততায়ীরা। আগের দিন রাতে একই ঘরে ঘুমোচ্ছিলেন মুজিবর রহমান, তাঁর স্ত্রী বেগম মুজিব ও তাঁর ১০ বছরের সন্তান শেখ রাসেল। বাকি সদস্যরা ছিলেন অন্যান্য ঘরে। নীচের তলায় থাকতেন বাড়ির কর্মীরা।
ভোর ৫টা নাগাদ হঠাৎ বেরিয়ে এসে হামলার কথা বলেন মুজিবের স্ত্রী। সে কথা শুনে বাইরে বেরিয়ে এক পরিচারিকা দেখেন, সেনার ভিড়। গুলি করতে করতে এগোচ্ছে তারা। এরপর শুধুই পরপর গুলির শব্দ শোনা যায়। বঙ্গবন্ধু তখন দোতলায় নেমে নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর দরজা খুলে বেরলেই তাঁকে ঘিরে ফেলেন আততায়ীরা।
মুজিবর রহমান প্রশ্ন করেন, কী চাও তোমরা? এটাই ছিল শেষ কথা। তঁকে লক্ষ্য করে চলে গুলি। সঙ্গে সঙ্গে লুটিয়ে পড়েন মুজবর রহমান। এরপর একে একে মুজিবরের সন্তানদের হত্যা করা হয়। মুজিবের দেহ দেখে তাঁর পত্নী বলেছিলেন, আমাকে এখানেই মেরে ফেল। এরপর আবার গুলির শব্দ। মৃত্যু হয় মুজিব-পত্নীরও।