Wayanad: ‘ওদের চোখেও জল ছিল…’, সারা রাত হাতির পাহারায় পরিবার, ওয়েনাডে জীবনযুদ্ধের অন্য কাহিনি – Bengali News | Wayanad Landslide: Wayanad Survivor Tells Story how they Encounter Elephants in Jungle who guarded them All night during Disaster
তিরুবনন্তপুরম: ভূমিধসে বিপর্যস্ত ওয়েনাড। মাইলের পর মাইল জুড়ে শুধুই ধ্বংসস্তূপ। ভূমিধসে ভেসে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৩৫৮ জনের। এখনও নিখোঁজ ৩০০-রও বেশি মানুষ। যারা প্রাণে বেঁচেছেন, তারাও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। ছবির মতো সাজানো ওয়েনাডে যে এমন ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে, তা কল্পনাও করতে পারেনি কেউ। এরমধ্য়েই এক পরিবার ভাগ করে নিল বিপর্যয়ের রাতের এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। এক হাতি পরিবার কীভাবে সারা রাত তাদের পাহারা দিল, তা-ই বর্ণনা করলেন।
ওয়েনাডের চুরমালার বাসিন্দা সুজাতা আনিনানচিরা। মঙ্গলবারের ভূমিধস ও হড়পা বানে ভেসে গিয়েছে তাদের বাড়ি। কোনও রকমে প্রাণ বাঁচে তাঁর স্বামী, কন্যা, দুই নাতি-নাতনির। প্রাণ বাঁচাতে জঙ্গলে যেতেই দর্শন হল তাদের সঙ্গে। সেখানে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি দাঁতাল পুরুষ হাতি, দুটি মহিলা হাতি।
সাক্ষাৎ যমদূতের দর্শন হয়েছে বলেই ভেবেছিলেন। ভয়ে সিঁটিয়ে গেল গোটা পরিবার। সুজাতা, যিনি পরিবারের কর্ত্রী, তিনি নাতনিকে জড়িয়ে ধরে মাটিতে শুয়ে পড়েন। দাঁতাল হাতিটির সামনে হাত জোড় করে অনুরোধ করেন, বলেন, “একটা বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছি, দয়া করে আমাদের রাতটা জঙ্গলে থাকতে দাও।”
তিনি বলেন, “জানি না আমার কথা ওই হাতিগুলি বুঝতে পেরেছিল কি না, কিন্তু এক চুলও নড়েনি ওরা। সারা রাত জঙ্গলে আমাদের সামনেই দাঁড়িয়েছিল। আমরা প্রথমে ভয় পেলেও, পরে মনে হয়েছিল, ওরা যেন আমাদের পাহারা দেওয়ার জন্যই দাঁড়িয়ে রয়েছে। কয়েক ইঞ্চি দূরেই হাতির পা গুলি ছিল। কিন্তু কিছু করেনি ওরা।”
সকালে যখন উদ্ধারকারী দল আসে, তখনও অপেক্ষা করছিল হাতিগুলি। ওই মহিলা বলেন, “আমরা যখন চলে যাচ্ছিলাম, তখন স্পষ্ট দেখতে পেয়েছিলাম যে ওদের চোখে জল। এই জল বিচ্ছেদেরই ছিল।”
কংগ্রেস নেতা শশী থারুরও ওই মহিলার অভিজ্ঞতা এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করে লিখেছেন, “ধসে ঘরছাড়া পরিবারদের সারা রাত পাহারা দিয়েছিল হাতি। ওদের দুঃখে কেঁদেওছে ওরা…”
The homeless landslide victims confided their misery to a tusker, who wept for them and sheltered them all night…. https://t.co/9foRqHs8bn
— Shashi Tharoor (@ShashiTharoor) August 2, 2024