চেয়ারম্যানের ছাদে এগুলো নাকি টব নয়, এলাকাবাসীর জন্য বরাদ্দ ডাস্টবিন! বিস্ফোরক অভিযোগে উত্তাল পুরসভা – Bengali News | These are not flower pot, allegation against chairman for using dustbin as pot
এটাই চেয়ারম্যানের বাড়ির ছাদ!Image Credit source: TV9 Bangla
জলপাইগুড়ি: আবর্জনা ফেলার জন্য বাড়ি বাড়ি ডাস্টবিন দিয়ে থাকে পুরসভা। সেগুলিকেই আবর্জনা জমা করে রাখতে বলা হয়। পরে পুরসভার গাড়ি গিয়ে সেই আবর্জনা সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে দিয়ে আসে। এভাবেই হয় সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বিষয়টা অন্যরকম। বাড়ি বাড়ি দেওয়ার জন্য ডাস্টবিন আসে, কিন্তু সেগুলি স্থান পায় চেয়ারম্যানের ছাদে। তাতে লাগানো হয় গাছ, ফোটে ফুল। বাড়ির ছাদ প্রায় ফুলের বাগানে রূপান্তরিত হয়েছে এই ডাস্টবিন দিয়েই। বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আনলেন কংগ্রেস কাউন্সিলর।
জলপাইগুড়ি পুরসভার ঘটনা। সাংবাদিক বৈঠক করে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন পুরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলর অম্লান মুন্সী। প্রথমে বোর্ড মিটিংয়েই হাঁড়ি ভাঙেন কংগ্রেস কাউন্সিলর। তাঁর দিকে তৃণমূল কাউন্সিলরেরা তেড়ে এলে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সভা থেকে বেরিয়ে যান ওই কাউন্সিলর, তারপর সোজা কংগ্রেস কার্যালয়ে গিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন তিনি।
তৃণমূল পরিচালিত ২৫ সদস্যের জলপাইগুড়ি পুরসভায় বুধবার বিকেলে বোর্ড মিটিং ছিল। দীর্ঘদিন ধরে বোর্ড মিটিং না হওয়ায় খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ভর্ৎসনার মুখে পড়েছিল পুর কর্তৃপক্ষ। এরপর খোদ জেলাশাসক পুরবোর্ডের সভা ডেকেছিলেন। অভিযোগ ছিল, সেই সভায় ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলর অম্লান মুন্সী ডাক পাননি। কিন্তু এবার বোর্ড মিটিংয়ের আমন্ত্রণ পান তিনি।
এদিনের বৈঠকে পুরবোর্ডের বিরুদ্ধে ও নাগরিক পরিষেবা নিয়ে একের পর এক অভিযোগ তুলোন কংগ্রেস কাউন্সিলর। সূত্রের খবর, চেয়ারম্যানকে রীতিমতো বিব্রত করে তোলেন তিনি। এরপর তাঁকে লক্ষ্য করে অশ্লীল গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ তৃণমূল কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বেরিয়ে যান অম্লান।
সাংবাদিক সম্মেলনে অম্লান মুন্সী চেয়ারম্যানের বাড়ির ছবি দেখান। তাঁর অভিযোগ, পুরসভা দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। চেয়ারম্যান সামান্য বালতির লোভ সামলাতে পারেন না বলে দাবি করেছেন তিনি। ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যান তার বাড়িতে পুরসভার সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের ৬০টি বালতি ব্যাবহার করে ফুলের টব বানিয়েছেন। এর থেকে খুব সহযেই বোঝা যায় উনি কী পর্যায়ে দুর্নীতি করেন।”
কংগ্রেসর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে চেয়ারম্যান পাপিয়া পাল বলেন, “কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তি যখন একজন মহিলাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন, তখন খুব সহজেই বোঝা যায় তাঁর পারিবারিক শিক্ষা কেমন। ওঁর কথার আমি কোনও উত্তর দেব না।” ভাইস চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় কংগ্রেস কাউন্সিলরের উদ্দেশে বলেন, “উনি রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছেন, তাই উনি একটি ছবি দেখিয়ে এইসব দাবি করছেন। ওই ছবি কখনই প্রমাণ করে না যে ওই বাড়ি চেয়ারম্যানের। আমরা নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করেছি।”