Jaane Tu Ya Jaane Na: এ তুমি, কেমন তুমি! এক ঝটকায় ১৬ বছর পিছিয়ে গেলাম… – Bengali News | 16 years of Jaane Tu Ya Jaane Na: many can relate to the film jaane tu ya jaane naa and here is how the internet is flooded with nostalgia
মেঘা মণ্ডল
অফিস থেকে ফিরে সবে ফোনটা হাতে নিয়ে ইনস্টা খুলেছি। স্ক্রোল করতেই সামনে এল একগুচ্ছ স্মৃতি। ফেসবুকের মতো ’10 years ago…’ স্মৃতি শেয়ার করে না ইনস্টাগ্রাম। যখনই ইনস্টা রিলসে দেখলাম জয়, অদিতি, শালিন, বম্বস, মেঘনা, রোতলু, জিগ্গি একসঙ্গে গাইছে ‘তেরা মুছসে পেহলা কা নাতা কই/ ইয়ুহি নেহি দিল লুভাতা কই/জানে তু… ইয়া জানে না/ মানে তু, ইয়া মানে না’, মুখে একটা চওড়া হাসি। মনে হল এই তো, এটাই আমার ১৬ বছর পুরনো স্মৃতি।
২০০৮ সালে যখন ‘জানে তু ইয়া জানে না’ মুক্তি পেয়েছিল, তখনও জেন জ়ি কিংবা ইনস্টা-রিলস আসেনি। এমনকি জোর দিয়ে বলা যায় না যে, মুঠোভর্তি ফোনে ১১ টাকার এসএমএস প্যাকের চলও ছিল। তখন শহর-মফঃস্বলে সিঙ্গল স্ক্রিনেই বেশি সিনেমা দেখানো হত। তখন সদ্য টিনএজ়-এ পা দিয়েছি। প্রেম শব্দের অর্থ স্বাভাবিকভাবেই জানা নেই। কিন্তু বলিউড হিরোর ধারণাটা বরাবরই প্রতিটা প্রজন্মের কাছে স্পষ্ট ছিল। কখনও রাজেশ খান্না, কখনও শাহরুখ খান, আবার কখনও রণবীর কাপুর। কিন্তু ২০০৮-এ যখন জয়, ওরফে ইমরান খানকে টিভির পর্দায় দেখেছিলাম, ‘হিরো’ বলে মনে হয়নি। বরং, এমনই একজনকে চাই জীবনে, কলেজে উঠলে এমনই একটা বন্ধুদের গ্রুপ থাকবে—এটাই বারবার মনে হয়েছিল। আজ ১৬ বছর পর যখন সেই জয়কে কাঁচা-পাকা চুল মাথায় দেখলাম, জিয়া-নস্ট্যাল হবে না বলুন তো?
‘জানে তু ইয়া জানে না’-এর ১৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে আমির খান প্রোডাকশন হাউসের তরফে শেয়ার করা হয়েছে একটা ছোট্ট রিলস। জয়, অদিতি, শালিন, বম্বস, মেঘনা, রোতলু, জিগ্গি একসঙ্গে গাইছে ‘তেরা মুছসে পেহলা কা নাতা কই’। একদম শেষে ইনসপেক্টর প্রকাশ বলছেন, “ফিরসে ইয়ে গানা গায়া তো গোলি মার দুঙ্গা।” আর ঠিক সেই মুহূর্তে জয় বলছে, “সরি স্যর, ষোলা সাল হোয় গ্যায়ে, একবার তো বানতা হ্যায়।” সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে এই রিলস। আমার মতো হাজারো মিলেনিয়াল ও জ়িলেনিয়াল শেয়ার করেছে। আর তার সঙ্গে প্রশ্ন একটাই, ‘জানে তু ইয়া জানে না’ কি আবার সিনেমা হলের বড় পর্দায় দেখানো হবে? কিংবা তৈরি হবে কি কোনও সিকুয়্যেল?
আব্বাস টায়ারওয়ালার পরিচালনায় মুক্তি পেয়েছিল ‘জানে তু ইয়া জানে না’। প্রেম, বন্ধুত্বের অসাধারণ মুন্সিয়ানায় ধরা পড়েছে এই সিনেমা। ‘জানে তু ইয়া জানে না’ জীবনের সেই দিনগুলোর গল্প বলে, যখন কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে রয়েছে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চাপ। তারই মাঝে পাশে এমন কাউকে চাই, যে আমার পাশে থাকবে আজীবন। এক কথায় জীবনসঙ্গী। কলেজের রঙিন দিন, বন্ধুদের সঙ্গে নাইট আউট, পিকনিকে যাওয়া, আড্ডা দেওয়া, প্রথম প্রেম, প্রথম চুমুর অনুভূতি—সবটাই একসঙ্গে প্রকাশ পায় ‘জানে তু ইয়া জানে না’-এ। জেন জ়ি-র ভাষায় যা হল ‘WHOLESOME’।
‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’-এ শাহরুখ খান অভিনীত ‘রাহুল’ চরিত্রটা গোটা পৃথিবীকে বলেছিল ‘পেয়ার দোস্তি হ্যায়।’ জয় (ইমরান খান) আর অদিতি (জেনেলিয়া ডিসুজ়া) সেটাই প্রমাণ করে দিয়েছিল নতুন প্রজন্মের কাছে। যদিও আজকের প্রজন্মের কাছে সম্পর্ক ক্ষণস্থায়ী। জেন জ়ি-এর লাইফস্টাইলের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে ‘friends with benefits’, ‘situationship’-এর মতো শব্দ। ‘Old School Type’ হয়েও প্রেম টেকেনি অনেক জ়িলেনিয়ালের। প্রেম ও বন্ধুত্ব একই মানুষের থেকে পায়নি অনেক জেন জ়ি। তবু, আজ থেকে ১৬ বছর আগে এই মানুষগুলোই ‘জানে তু ইয়া জানে না’-এর মতোই সম্পর্ক চেয়েছিল। তখন তাঁদের মধ্যে কেউ ছিল স্কুলে পড়া টিনএজ় কিংবা সদ্য যৌবনে পা দেওয়া কলেজ পড়ুয়া। সেই তালিকায় ছিলাম তেরো বছরের আমিও। প্রিয় ‘হিরো’র তালিকায় ঢুকে পড়েছিল ‘কিউট’ ইমরান। তারপর ১৬ বছর পার হয়ে গিয়েছে। হিন্দি সিনেমায় নিজের জায়গা করতে পারেনি আমির খানের ভাগ্নে ইমরান খান। জেনেলিয়া এখন দুই ছেলের মা। তিনিও সিনেমা জগৎ থেকে অনেকটা দূরে সরে গিয়েছেন। তবে, তাঁর এবং তাঁর স্বামী ও অভিনেতা রীতেশ দেশমুখের খুনসুটিতে ভরা রিলস ধরা পড়ে ইনস্টায়। আর রোতলু, জিগ্গি, শালিন, বম্বসের খবর কেউ রাখে না বললেই চলে।
এঁদের খবর যেমন কেউ রাখেনি, তেমনই আমরা, অর্থাৎ জ়িলেনিয়ালরাও জীবনে বহুদূর এগিয়ে গিয়েছি। কলেজ জীবনে এমন ভাল বন্ধুদের গ্রুপ কেউ পেয়েছে, আবার কেউ এখনও ব্রেস্টফ্রেন্ড বা জীবনসঙ্গীর খোঁজ চালাচ্ছে। কিন্তু আজও ইউটিউব মিউজ়িকের স্যাফেল মোডে ‘কাঁহি তো, কাঁহি তো, হোগি ও/ দুনিয়া জাঁহা তু মেরে সাথ হ্যায়’ বেজে ওঠে, অজান্তে গুনগুন করে ওঠেন আপনিও। এমন একটা নস্ট্যালজিক সিনেমা আবার যদি মাল্টিপ্লেক্সের বড় স্কিনে দেখা যায়, আপনি কি যাবেন না জয় সিং রাথোর আর অদিতির গল্প দেখতে? After all, আপনার সঙ্গেও তো জয়দের ‘নাতা’ রয়েছে!