Rainfall Deficit: ১২৪ বছরে তৃতীয় শুষ্কতম জুন দক্ষিণবঙ্গে, কেন এমন ‘বর্ষাল্পতা’? – Bengali News | Rainfall Deficit in West Bengal in June 2024, all you need to know about the reasons behind this
কমলেশ চৌধুরী
একে বর্ষার দেরি, তাও আসার পরও দুর্বল মৌসুমি বায়ু। ফল, বৃষ্টির আকাল দক্ষিণবঙ্গে। জুনে একের পর এক ঘাটতির রেকর্ড। এক, ১২৪ বছরে তৃতীয় শুষ্কতম জুন দক্ষিণবঙ্গে। গড় বৃষ্টির পরিমাণ মাত্র ৮১.৪ মিলিমিটার। দুই, জুনে দেশে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গেই। গোটা দেশে ঘাটতি ১১%, দক্ষিণবঙ্গে ৬৭%। তিন, পর পর দু’বছর জুনে ঘাটতির পাহাড় দক্ষিণবঙ্গে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি নেই এখনও। আমন ধানের বীজতলা নিয়ে সমস্যায় চাষিরা। জুলাইয়ের মাঝামাঝি রোপণ শুরু হওয়ার কথা। আগামী ২ সপ্তাহে ঝেঁপে বৃষ্টি না নামলে চাষির কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হবে।
আবহাওয়া দফতরের অঙ্ক বলছে, জুন মাসে দক্ষিণবঙ্গে ২৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা। ১৯০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ৫ বার ১০০ মিলিমিটারের নীচে বৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণবঙ্গে। জুনে ঘাটতির শীর্ষে ২০০৯ সাল। সে বার বৃষ্টি হয়েছিল মাত্র ৬৯ মিলিমিটার। তালিকায় দ্বিতীয় ১৯০৫ সাল। বৃষ্টি হয়েছিল ৭০.৯ মিলিমিটার। তৃতীয় ২০২৪। ২০০৯ সালের সঙ্গে এ বারের বহু ক্ষেত্রে মিল। ১৫ বছর আগে ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আয়লা আছড়ে পড়েছিল বাংলায়। ওই দিনই অনেকটা আগে বর্ষা ঢোকে দক্ষিণবঙ্গে। কিন্তু পয়লা দিন ভারী বৃষ্টি হলেও, জুন জুড়ে বৃষ্টি হয়নি। ২০০৯ সালে প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী এল নিনো ছিল। ২০২৪-এর শুরুতেও প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো ছিল। এখন যদিও সেই পাট চুকে সাগরের জলতলের তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। বর্ষার শেষ দিকে লা নিনা পরিস্থিতিও শুরু হওয়ার সম্ভাবনা। সমস্ত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই দেশে স্বাভাবিকের বেশি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল মৌসম ভবন। দেশে যে বৃষ্টি হচ্ছে না, এমন নয়। একাধিক রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি। তার পরও সার্বিক ভাবে ঘাটতি দেশে। নেপথ্যে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, বিহার, ওড়িশার মতো রাজ্যের ‘বর্ষাল্পতা’।
কেন জুনে ঘাটতির রেকর্ড দক্ষিণবঙ্গে?
কারণ একাধিক। পুণের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মেটেরোলজির জলবায়ু বিজ্ঞানী পার্থসারথি মুখোপাধ্যায়ের ব্যাখ্যা, ‘‘দুটো স্থানীয় কারণে আমরা জোর দিতে পারি। এক, জুনে দক্ষিণবঙ্গ-সহ দেশের স্থলভাগের উপর একটি উচ্চচাপ বলয় ছিল। ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্প ঢুকতে পারেনি। উল্টে উত্তর-পশ্চিম ভারতের গরম হাওয়া ঠেলে বাংলায় ঢুকিয়ে দিয়েছে এই উচ্চচাপ বলয়। ফলে জুনেও তাপপ্রবাহ সইতে হয়েছে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলকে।’’
এই উচ্চচাপ বলয়ের বাধায় মৌসুমি বাতাস কিছুতেই সময়ে দক্ষিণবঙ্গে ঢুকতে পারেনি। ৩১ মে বর্ষা ঢুকেছিল উত্তরবঙ্গে। তার পর ২০ জুন পর্যন্ত পূর্ব ভারতে বর্ষার প্রবাহ একটুও এগোতে পারেনি। ২১ জুন, নির্ধারিত সময়ের ১১ দিন পর বর্ষা ঢোকে দক্ষিণবঙ্গের একাংশে। তার পরও বৃষ্টি বাড়েনি। কারণ অনুঘটকের অভাব। পার্থসারথিবাবুর কথায়, ‘‘বর্ষার হাত শক্ত করে নিম্নচাপ। কিন্তু এ বছর জুনের একটা বড় সময় বঙ্গোপসাগরে কোনও নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়নি। শেষে একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হলেও, সেটি তেমন শক্তিশালী ছিল না।’’
গত বছর জুনে ৪৯% ঘাটতি ছিল দক্ষিণবঙ্গে। বৃষ্টির আকাল ছিল কলকাতাতেও। মাত্র ১১৫.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয় আলিপুরে। এ বার সামান্য বেশি। আলিপুরে বৃষ্টি হয়েছে ১৪৩.২ মিলিমিটার। জুলাইয়ে কি ঘাটতি মিটবে? উত্তরবঙ্গে ঢালাও বর্ষণের পূর্বাভাস। কিন্তু দক্ষিণবঙ্গে হাতে-গোনা কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস ছাড়া, তেমন সুখবর নেই। চাষির চিন্তা তাই থাকছেই।