Bird Flu: দুয়ারে নতুন মহামারি, চিন্তা বাড়ছে, সাবধান হোন আজই! - Bengali News | Bird Flu, Influenza: New epidemic at the door, worries are increasing, be careful today! - 24 Ghanta Bangla News
Home

Bird Flu: দুয়ারে নতুন মহামারি, চিন্তা বাড়ছে, সাবধান হোন আজই! – Bengali News | Bird Flu, Influenza: New epidemic at the door, worries are increasing, be careful today!

নতুন মহামারি। মানুষের মধ্যে এখনও সেভাবে ছড়ায়নি ঠিকই। তবে পশুদের মধ্যে যেভাবে ছড়াচ্ছে তাতে চিন্তা না করে উপায় নেই। প্রায় গোটা আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়েছে এই রোগ। আর শুধু তাই নয়। খামারে হাঁস-মুরগিদের শরীরেই এতদিন বার্ড ফ্লু-র ভাইরাস পাওয়া যাচ্ছিল। এবার দেখা যাচ্ছে গবাদি পশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে। এমনকি আক্রান্ত হচ্ছে বাড়ির পোষ্যরাও। বাদ যাচ্ছে না প্রায় কোনও স্তন্যপায়ী প্রাণীই। গরুর দুধে পর্যন্ত মিলছে বার্ড ফ্লু-র ভাইরাস। এই মুহূর্তে আমেরিকার ৫০ রাজ্যের মধ্যে ৩১টি রাজ্যে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভাইরাসের সংক্রামক প্রজাতি H5N1-এর ট্রেস পাওয়া যাচ্ছে। আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল বলছে খামারের হাঁস-মুরগিদের থেকেই ছড়াচ্ছে রোগ। এ ছাড়া পরিযায়ী পাখিরাও বয়ে আনছে ভাইরাস। গরু, কুকুর, বিড়াল – কিচ্ছু বাদ যাচ্ছে না। বিড়ালের ওপর এফেক্ট পড়ছে সবচেয়ে বেশি। বিড়াল খুব দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ছে। পশু চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোয় বেড়েই চলেছে ভিড়। আমেরিকার পশু খামারগুলোয় একের পর এক রোগ ছড়িয়ে পড়ায় গবেষণা শুরু করেছে ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ড। গবেষকরা বলছেন, বন্য প্রাণীদের শরীরেও ঢুকে পড়ছে বার্ড ফ্লু-র ভাইরাস। জঙ্গলের ইঁদুর, শিয়াল এমনকি সিংহদেরও কাবু করে দিচ্ছে H5N1 ভাইরাস। আর সবচেয়ে চিন্তার কথা হল এই ভাইরাস প্রবল ছোঁয়াচে। তাতে মানুষও আক্রান্ত হচ্ছেন। পোষ্য প্রাণীদের থেকে মানুষের শরীরে যদি দ্রুত হারে ভাইরাস ছড়াতে শুরু করে তাহলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন মার্কিন বিশেষজ্ঞরা। আপনাদের নিশ্চই মনে আছে ২০০৬ সালে এই রোগ ভারতে মাথাচাড়া দেয়। তারপর নিয়মিত ব্যবধানে সে বারবার ফিরে এসেছে। আমরা দেখেছি পোলট্রি ফার্মে মুরগি মেরে ফেলা হচ্ছে। সংক্রমণের ভয়ে নাক-চোখ-মুখ ঢেকে পোলট্রিতে মানুষকে কাজ করতে হচ্ছে। আতঙ্কে খরিদ্দাররা পালানোয় বাজারে আলুর দরে বিক্রি হচ্ছে মুরগির মাংস। ভারত-সহ নানা দেশে এখনও পর্যন্ত যত বার্ড ফ্লু ছড়িয়েছে। প্রায় সবক্ষেত্রেই দেখা গেছে অ্যাভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের H5N1 টাইপটা রয়েছে। আমেরিকাতেও তাই। যেটা শুরুতেই বললাম। তবে অতি সম্প্রতি মেক্সিকোতে বার্ড ফ্লুয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর দেহে মিলেছে নতুন H5N2 প্রজাতির ভাইরাস। মৃত ব্যক্তি অসুস্থ হওয়ার আগে কখনও কোনও পশুপাখির কাছে জাননি। ফলে প্রশ্ন উঠছে তবে কি মানুষের কাছ থেকেই সংক্রমিত হয়েছিলেন তিনি। H5N2 অ্যাভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস কি তাহলে মানুষের থেকে মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে। বোঝা যাচ্ছে তো প্রশ্নগুলো কতটা উদ্বেগের। আর যার সঠিক উত্তর এখনও পর্যন্ত আমাদের জানা নেই। আপনাদের জানিয়ে রাখি বার্ড ফ্লু সংক্রমণে মর্টালিটি রেট ৬০ শতাংশ। মানে ১০০ জন আক্রান্তের মধ্যে ৬০ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা।

নোভেল করোনা ভাইরাসের সঙ্গে এটাই মূলত তফাত। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতা বেশি। কিন্তু কো-মর্বিডিটি না থাকলে মারণ ক্ষমতা কম। আর এই দ্বিতীয়টার ক্ষেত্রে সংক্রমণ ক্ষমতা কম। মারণ ক্ষমতা অনেক বেশি। ফলে বার্ড ফ্লু যে মোটে উড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপার নয়। সেটা আশা করি বুঝতে পারছেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব আঁচ করে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসাবে মানুষকে বার্ড ফ্লুর টিকা দিতে চলেছে ফিনল্যান্ড। পশুপাখিদের সংস্পর্শে যাঁরা বেশি আসেন, সেইসব ফিনিশ নাগরিককে প্রথম টিকা দেওয়া হবে। অস্ট্রেলিয়ার এক সংস্থা এই প্রতিষেধক তৈরি করেছে। তারা আরও ১৫টি দেশে টিকা সরবরাহের কথা জানিয়েছে। আপাতত প্রথম ধাপে প্রায় ৪ কোটি ডোজ তৈরি হয়েছে বলে খবর। আর আপনাদের মধ্যে যাঁরা ভাবছেন আমেরিকা, মেক্সিকো, ফিনল্যান্ড-সব তো ভারত থেকে বহুদূর। আমরা ভেবে কী করব। তাঁদের জন্য বলি যে বিশেষজ্ঞরা বলছেন আরও একটা প্যানডেমিক আসছে। সে আসবেই। তাকে কিছুতেই রোখা যাবে না। কোভিড কিংবা বার্ড ফ্লুয়ের মতোই কোনও ভাইরাস নিয়ে আসবে আরেকটা বিশ্ব মহামারি। প্রখ্যাত ব্রিটিশ মহামারি বিশেষজ্ঞ প্যাট্রিক ভ্যালেন্সে ভারতের মতো জি-টুয়েন্টি দেশগুলিকে বলেছেন, আপনারা অবিলম্বে খোল-নলচে বদলে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ঢেলে সাজান। না হলে আরেকটা প্যানডেমিক সামাল দেওয়া যাবে না। মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়বে একটা দেশ থেকে অন্য দেশে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *