পুত্রের মৃত্যু কতখানি নাড়িয়েছিল অমলা শঙ্করকে, কাঁপা গলায় জানালেন কন্যা মমতা - Bengali News | This is what actress and dancer mamata shankar said about her mother amala shankar on her birthday - 24 Ghanta Bangla News
Home

পুত্রের মৃত্যু কতখানি নাড়িয়েছিল অমলা শঙ্করকে, কাঁপা গলায় জানালেন কন্যা মমতা – Bengali News | This is what actress and dancer mamata shankar said about her mother amala shankar on her birthday

Spread the love

সেঞ্চুরি করেছিলেন নৃত্যশিল্পী এবং ‘কল্পনা’ ছবির অভিনেত্রী অমলা শঙ্কর। ১০০ বছর বেঁচেছিলেন তিনি। আজ তাঁর জন্মদিন। তাঁর কন্যা অভিনেত্রী-নৃত্যশিল্পী মমতা শঙ্কর বলেছিলেন, “মা জীবনে সবকিছু পেয়েছেন। সবকিছু দেখেছেন। এটাই আমার শান্তি।” আজ (২৭.০৬.২০২৪) তাঁর সেই প্রিয় বন্ধু, আদরের মায়ের ১০৫তম জন্মদিন। মায়ের জন্মদিন উপলক্ষে আগামীকাল (২৮.০৬.২০২৪) একটি নাচের অনুষ্ঠানের আয়োজনও করেছেন অমলা-কন্যা মমতা। মায়ের জন্মদিনে সারাটা দিন তাঁকে বেশি-বেশি করে মনে পড়ছে মমতার। সেসব কিছুই তিনি ভাগ করে নিলেন TV9 বাংলা ডিজিটালের সঙ্গে। তুলে ধরলেন শঙ্কর পরিবারের অন্দরের কথাও।

আমাদের বাড়িটা একাধিক কিংবদন্তির বাড়ি। বহু বিখ্যাত মানুষেরা রয়েছেন। বাবা উদয় শঙ্কর থেকে শুরু করে কাকা রবি শঙ্কর। আমার মা অমলা শঙ্কর। আমার দাদা আনন্দ শঙ্কর। বউদি তনুশ্রী শঙ্কর। আমাদের ছেলেমেয়েরা তো আছেই। মায়ের যখন শঙ্কর বাড়িতে বিয়ে করে এসেছিলেন, তিনি খুবই ছোট। বাচ্চা মেয়েই বলা চলে তাঁকে। আমি মাকে আর পাঁচজন বাঙালি বাড়ির মায়ের মতোই দেখেছি। খুব সাধারণ, আটপৌরে। একদিনে যেমন রান্নাঘরে রান্না করছেন, অন্যদিকে হাতা-খুনতি নিয়ে বেরিয়ে এসে বাবাকে রবীন্দ্রনাথের কিছু একটা পড়ে দিচ্ছেন। আমার মা, আমাকে এবং আমার দাদাকে ব্যস্ততার কারণে কোনওদিনও কোনও আয়ার কাছে রেখে মানুষ করেননি। আমাদের প্রতিপালনের সবটা নিজে হাতে করেছেন। আমার ছোট ছেলে এবং ছোট বউমা কিন্তু এক্কেবারে আমার মায়ের ধারা পেয়েছে। বাচ্চাকে নিজেরাই মানুষ করছে ভাগাভাগি করে। আয়া কিংবা ন্যানি রাখেনি। বিখ্যাত মানুষের বাড়ি হলেও, ছোট থেকে এই সংস্কৃতি দেখেই আমরা বড় হয়েছি। আসলে আমরা খুবই বাঙালি এবং ভীষণভাবে ঘরোয়া।

শঙ্কর পরিবারের আটপৌরে বউ
মায়ের কাছে প্রথম শাড়ি পরা শিখেছি। এই যে আমার ‘শাড়ির আঁচল’ পরা নিয়ে এত বিতর্ক হল। আমাকে কিন্তু মা-ই প্রথম কুঁচি ধরে কিংবা ঘরোয়া কায়দায় শাড়ি পরা শিখিয়েছেন। খুব ছোট যখন আমি, কোমরে একটা দড়ি বেঁধে দেওয়া হত। সায়া পরতাম না। খালি গায়ে সারদাদেবীর মতো সেজে নিতাম। পাকা বুড়ির মতো কটকট করে কথা বলতাম। সেই সময় থেকেই নাকি আমি দারুণ ভাল শাড়ি ম্যানেজ করতে পারি। একটুও এদিক-ওদিক হত না। এটাও আমার মায়ের থেকেই শেখা।

এই খবরটিও পড়ুন

মায়ের শাসন, কাঁপতেন মমতা
বাবা আমাকে বকতেন না। মারতেনও না। একবারই মার খেয়েছিলাম বাবার কাছে। তিনি যখন নাচ করতেন, বলতেন, “ওই সময়ই সবচেয়ে বেশি আমি ঈশ্বরের কাছে থাকতেন।” সেই সময় যদি কেউ বিরক্ত করতেন বাবাকে, আর রক্ষে থাকত না। আমি ওই সময়তেই বিরক্ত করে ফেলি। এবং বাবা দিকশূন্য হয়ে গিয়ে আমাকে মারেন। ওই প্রথম-ওই শেষ। কিন্তু মায়ের কাছে আমি বেধড়ক মা খেয়েছি। এখনও আমি স্বপ্নে দেখি মা বকুনি দিচ্ছেন, মারছেন। মাকে আমার ছোটবেলায় মনে আছে শাসনের কারণে। বাবা ছিলেন আমার বন্ধু। তবে দেখতাম, বাবা-মা আমাকে শাসন করার ক্ষেত্রে একে-অপরকে স্পেস দিতেন। মা বকলে বাবা আমাকে আড়াল করতেন না। উল্টোটাও তাই ছিল। ওদের মধ্যে আমি সাংঘাতিক সম্মানবোধ দেখেছি।

পুত্র আনন্দর মৃত্যু
আমার দাদা (আনন্দ শঙ্কর) হঠাৎ চলে গেলেন। পুত্র শোক পেলেন আমার মা। সাংঘাতিক ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। পুত্র হারানোর যন্ত্রণা কি কম নাকি? সাঁইবাবা ছিলেন। তিনি মাকে সামলেছিলেন। ফলে দাদা মারা যাওয়ার পর মা নিজেকে অসম্ভব বেশি ব্যস্ত করে ফেলেছিলেন। চারগুণ বেশি বিজ়ি হয়ে গেলেন মা। কিন্তু মা বলতেন, “চারপাশে যত ছেলে দেখেছি, প্রত্যেকের মধ্যে কিন্তু আমি আনন্দকে খুঁজে পাই। আনন্দ যায়নি।”

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *