Papakshya Ghat: পাপক্ষয় ঘাটে স্নান করলেই ধুয়ে যায় সমস্ত পাপ! দোষ কাটাতে যেতে পারেন এখানে – Bengali News | Papakshya Ghat: People can wash away all sin in this holy place of Odisha
জনসাধারণের বিশ্বাস এই ঘাটে স্নান করলে সমস্ত পাপ নাকি ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায়। মুক্তি পায় মানুষ। সেই আশাতেই প্রতি বছর লক্ষাধিক মানুষ ছুটে আসেন এখানে। সেখানে স্নান করেন। ঘাট সংলগ্ন মন্দিরে পুজো দেন। কেউ কেউ আশপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও চাক্ষুস করেন। পাপমুক্তির আশায় প্রায় ৯০০ বছর ধরে এই ঘাটে স্নানের রীতি প্রচলিত রয়েছে।
এই ঘাটের নাম পাপক্ষয় ঘাট। ওড়িশার বিনকা শহরের কাছে অবস্থিত এই ঘাট। ওই এলাকা দিয়েই বয়ে গিয়েছে মহানদী। সেই নদীর এই ঘাটের নামই পাপক্ষয় ঘাট। কিন্তু কীভাবে এই ঘাট জনমানসে খ্যাতি পেল? এই বিশ্বাসের পিছনে ইতিহাস জানেন?
পাপক্ষয় ঘাট যেখানে অবস্থিত ওড়িশার সেই এলাকাতে অনেক রাজাই রাজত্ব করেছেন। কিন্তু সোম রাজত্বকালে ওই এলাকা সবথেকে সমৃদ্ধশালী হয়েছিল বলে জানা যায়। সুবর্ণপুর, জগতনগরী, বিনীতপুরের মতো জনপদ গড়ে ওঠে। সেই বিনীতপুরের বর্তমান নাম বিনকা। সোম রাজত্বকালের পর ওই এলাকার রাজ করেছে গঙ্গা সাম্রাজ্যের রাজা তৃতীয় অনঙ্গ ভীম দেব। তাঁর আমলেই শেষ হয়েছিল পুরীর জগন্নাথ মন্দির নির্মাণের কাজ। সে সময় সুবর্ণপুর-সম্ভলপুর এলারা ছিল কালাচুরি রাজত্বের অধীনে। ওই এলাকা দখলের জন্য কালাচুরি রাজাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেন অনঙ্গ ভীম দেব। সেই যুদ্ধে প্রচুর ব্রাহ্মণেরও মৃত্যু হয়েছিল। ব্রাহ্মণ হত্যার পাপ লেগেছিল তাঁর গায়ে। এর পর ব্রাহ্মণরা অভিশাপ দিয়েছিলেন অনঙ্গ ভীম দেবকে।
এর পর রাজা তৃতীয় অনঙ্গ ভীম দেব দেখেন তাঁর লালা দিয়ে বেরিয়ে আসছে পোকা। সেই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য বিভিন্ন মন্দির ঘোরেন রাজা। ব্রাহ্মণদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। এর পর তিনি মহানদী ধরে দক্ষিণে আসতে শুরু করেন। আজ যেখানে পাপক্ষয় ঘাট, সেখানেই তিনি মহানদীতে স্নান করেছিলেন। তার পরই দেখেন, সেই সমস্যা থেকে তিনি মুক্ত। তার পর সেখানে তিনি মন্দির নির্মাণের ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। এর পর রাতে তিনি স্বপ্ন দেখেন, একটি গরু নদী পার হচ্ছে। এবং পাহাড়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিছু দূর গিয়েই গরুটি দুধ দেওয়া শুরু করে। যেখানে গরুটি দুধ দিয়েছে, সেখানেই মন্দির নির্মাণের স্বপ্ন পেয়েছিলেন রাজা অনঙ্গ ভীম দেব।
আগের রাতের স্বপ্নাদেশ পরের দিন মিলে যেতেই আরও আশ্চর্য হন রাজা। তিনি দেখেন একটি কালো গরু নদী পার করে পাহাড়ের দিকে গেল। সেই মতো রাজা এবং তাঁর পারিষদবর্গ পিছু নিল গরুটির। এর পর গরুটি একটি ছোট্ট পাহাড়ের মাথায় উঠে গেল। তখন আপনা থেকেই গরুর বাঁট থেকে দুধ বেরতে লাগল।
এর পর ওই পাহাড়ের উপর মন্দির নির্মাণ করেন রাজা অনঙ্গ ভীম দেব। দেবাদিদেব মহাদেবের নামে উৎসর্গ করা হয় সেই মন্দির। কলিঙ্গ স্থাপত্য অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছিল সেই মন্দির। বর্তমানে সেই মন্দির অবস্থিত চারাদা নামে একটি গ্রামে। সেই শিব মন্দিরের নাম কপিলেশ্বর মন্দির। মহানদীর পাশে রাজা যেখানে রাতে বিশ্রাম নিয়েছিলেন, সেটি রেহালা গ্রামের মধ্যে পড়ে। পরে রাজা জমি দান করার পর সেই গ্রাম গড়ে উঠেছিল।
রাজা অনঙ্গ ভীম দেবের এই ঘটনার পর থেকেই পাপক্ষয় ঘাটের খ্যাতির কথা ছড়িয়ে পড়ে ওই সব এলাকায়। বর্তমানে ওড়িশা এবং অন্যান্য রাজ্য থেকে প্রচুর মানুষ পাপ থেকে মুক্তির আশায় ওই ঘাটে আসেন। স্নান করেন। পুজো দেন কপিলেশ্বর শিব মন্দিরে। ওই ঘাটের ধারে থাকা প্রচুর বট গাছ, ওই ঘাটকে ‘ছায়া সুনিবিড়’ করে তুলেছে। সেখানে গেলে মনে হবে এসে গিয়েছেন ‘শান্তির নীড়ে’।