Harvard University: ‘ওরা’ মানুষ সেজে লুকিয়ে আছে মানুষের মধ্যেই, চমকে দিল হাভার্ডের গবেষণা – Bengali News | Aliens might be living among us disguised as humans, claims Harvard study
মানুষের বেশে লুকিয়ে মানুষেরই মধ্যে Image Credit source: Pixabay
ওয়াশিংটন: ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে।
হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির ‘হিউম্যান ফ্লোরিশিং প্রোগ্রামে’র গবেষকরা এই গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ‘অজ্ঞাত অস্বাভাবিক ঘটনা’, অর্থাৎ, ইউএফও বা ভিনগ্রহীরা চাঁদের মাটির নীচে, এমনকি, মানুষের মধ্যেও লুকিয়ে থাকতে পারে। আর মাঝে-মাঝেই যে অজানা বায়বীয় ঘটনার সম্মুখীন হন পৃথিবীর মানুষ, ইউএফও দেখার দাবি করেন, তা সত্যি সত্য়িই ভিনগ্রহীদের স্পেসশিপ হয়ে থাকতে পারে। সম্ভবত, পৃথিবীতে যে ভিনগ্রহীরা থাকে, তাদের সঙ্গে দেখা করতে আসে তারা। গবেষণাপত্রে আরও বলা হয়েছে, এই বিষয়ে অসংখ্য প্রমাণ এবং তত্ত্ব রয়েছে।
এই সকল প্রমাণ ও তত্ত্ব, আরেকটি অতিলৌকিক ঘটনারও ব্যাখ্যা দিতে পারে। তা হল, ‘ক্রিপ্টোটেরেস্ট্রিয়াল হাইপোথিসিস’। একাংশের বিজ্ঞানীরা মনে করেন, বেশ কিছু প্রাণী সম্ভবত মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যে বসবাস করছে। এই প্রাণীদেরই ‘ক্রিপ্টোটেরেস্ট্রিয়ালস’ বলে। এই প্রাণীরা ভবিষ্যতের পৃথিবী থেকে টাইম ট্রাভেলের মাধ্যমে বর্তমানে সময়ে চলে আসতে পারে। আবার ট্রুডন বা ব়্যাপটরদের মতো বুদ্ধিমান ডাইনোসরদের বংশধররাও এইভাবে মানুষের মধ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে।
হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘হিউম্যান ফ্লোরিশিং প্রোগ্রামে’র গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ক্রিপ্টোটেরেস্ট্রিয়ালরা চার প্রকারের হতে পারে। প্রথম প্রকার হল, হিউম্যান ক্রিপ্টোটেরেস্ট্রিয়ালস। মনে করা হয়, পৃথিবীতে প্রাচীন কালে এক প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত মানব সভ্যতা ছিল। বহুকাল আগে তা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু, সেই সভ্যতার কয়েকজন এখনও টিকে আছে এবং বর্তমান মানব সভ্যতার মধ্যে মিশে আছে।
দ্বিতীয় প্রকার হল হোমিনিড বা থেরোপড ক্রিপ্টোটেরেস্ট্রিয়ালস। প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত কিন্তু অ-মানব কোনও সভ্যতার প্রাণীরা আজও গোপনে এই পৃথিবীতে বসবাস করতে পারে। এরা বানরের মতো হোমিনিড বা অজানা কোনও বুদ্ধিমান ডাইনোসরের বংশধর হতে পারে।
তৃতীয় প্রকার হল, প্রাচীন ভিনগ্রহী বা এক্সট্রাটেম্পেস্ট্রিয়াল ক্রিপ্টোটেরেস্ট্রিয়ালস। এই প্রাণীরা মহাজগতের অন্য কোনও গ্রহ থেকে বা ভবিষ্যতের পৃথিবীতে থেকে বর্তমানের পৃথিবীতে এসে থাকতে পারে। চাঁদের মাটির নীচের মতো জায়গায় লুকিয়ে থাকতে পারে এরা।
আর চতুর্থ প্রকার হল, ম্যাজিক্যাল ক্রিপ্টোটেরেস্ট্রিয়ালস। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি।
তাঁদের এই তত্ত্ব শুনে যে অধিকাংশ বিজ্ঞানীরই গাঁজাখুড়ি মনে হতে পারে, তা স্বীকার করে নিয়েছেন গবেষকরা। কিন্তু তারপরও, তাঁরা বিজ্ঞান জগৎকে খোলা মন নিয়ে তাঁদের দাবিগুলি বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।