সুচিত্রার ‘ঘনিষ্ঠ’ স্বামী! মহানায়িকার জন্য নাকি গুলজ়ারের হাতে মারও খেয়েছিলেন রাখি… – Bengali News | Did you know what rakhee’s conservative husband gulzar did to her
বলিউডের এক সাহসী অভিনেত্রী রাখি গুলজ়ার। তাঁর দুটি বিয়ে। কিন্তু সেই দুটি বিয়ের একটিও সুখের হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার রানাঘাটে জন্মগ্রহণ করেন রাখি–১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট তাঁর জন্ম হয়। কাকতালীয় বিষয়টি ভাবুন একবার। দেশ স্বাধীন হতেই রাখির জন্ম! কিন্তু স্বাধীনতার বড় কমতি ছিল অভিনেত্রীর জীবনে। ১৬ বছর বয়সে পা দিতে না-দিতেই পরিবার থেকে পাত্র দেখে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় তাঁর। সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র-নির্মাতা অজয় বিশ্বাস ছিলেন রাখির প্রথম স্বামী। রাখি মাত্র দু’বছর সংসার করেছিলেন তাঁর সঙ্গে। তারপর সমস্ত বাঁধন আলগা করে বেরিয়ে আসেন। স্বামী সিনেমা জগতের মানুষ। সেই সুবাদে রাখিরও চেনা-পরিচিতি তৈরি হয়েছিল। ফলে সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ ঘটে।
ছোট থেকেই বিদ্রোহী সত্ত্বা কাজ করত রাখির মধ্যে। নিজেকে দানের পাত্রী হিসেবে মেনেই নিতে পারতেন না তিনি। ফলে সিনেমায় যুক্ত হওয়ার পর পিতা এবং স্বামী কারওই পদবী ব্যবহার করতেন না তিনি। পরিচিত হয়েছিলেন কেবল রাখি নামে। প্রথম বিবাহবিচ্ছেদের পর ফের এক সিনেমা-নির্মাতার প্রেমে পড়েন রাখি। ৮ বছর পর ফের ভালবাসা কড়া নাড়ে রাখির একাকী জীবনে। সেই ব্যক্তি ছিলেন গুলজ়ার। যাঁর নির্মিত গানের কথা, কবিতা, সিনেমা আজও মন ব্যাকুল করে তোলে মানুষের হৃদয়কে। গুলজ়ারের সঙ্গে প্রণয়ের সময় রাখি এক প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী। মুক্তি পেয়ে গিয়েছে ‘বধূবরণ’, ‘জীবন মৃত্যু’, ‘শর্মিলি’, ‘লাল পথ্থর’, ‘পারস’, ‘শেহজ়াদা’, ‘হীরা পান্না’র মতো ছবি। ‘হীরা পান্না’ মুক্তির বছরই গুলজ়ারকে বিয়ে করেন রাখি। হিন্দি সিনেমা জগতের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন সেই বিয়েতে। সব ঠিকঠাকই চলছিল। হঠাৎই সব পাল্টে গেল কন্যা মেঘনার জন্মের এক বছরের মধ্যে।
কী এমন ঘটল সেই সময়? আসলে সেই সময়ই রাখির সঙ্গে পরিচয় হল গুলজ়ারের রক্ষণশীল মনটার। রাখি একরত্তি কন্যাকে ছেড়ে অভিনয় করতে বাড়ির বাইরে পা রাখবেন, তা যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না গুলজ়ার। রাখিকে রুখতে চেয়েছিলেন আপ্রাণ। কেবল তাই নয়, গুলজ়ার নাকি কখনওই চাইতেন না রাখি সিনেমায় কাজ করুন। পিঙ্কভিলায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাখিকে নিজের কোনও সিনেমাতেই কাস্ট করতে চাননি গুলজ়ার। এর কারণ জানতে চাইলে, রাখির সঙ্গে নাকি দুর্ব্যবহার করতেন গুলজ়ার। সেই সময় বিভিন্ন পত্রপত্রিকাতেও প্রকাশিত হয়েছিল ঝগড়া-ঝামেলার কথা। তারপর এক রাতে সব অসম্মানের বাঁধ ভেঙে গেল। ঘটনাটি ঘটেছিল কাশ্মীরে।
এই খবরটিও পড়ুন
সকলেই জানেন, গুলজ়ারের পরিচালনায় তৈরি হয়েছিল ‘আঁধি’ ছবিটি। ছবির লোকেশন দেখতে কাশ্মীরে গিয়েছিলেন গুলজ়ার। সেখানে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন রাখিকেও। সেই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন বাংলার মহানায়িকা সুচিত্রা সেন এবং সঞ্জীব কুমার। রাখির অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সুচিত্রাকেই কাস্ট করেছিলেন গুলজ়ার এবং তাঁকে বাদ রেখেছিলেন। তা নিয়ে মনে তীব্র যন্ত্রণা ছিল রাখির। তিনি কাশ্মীরে যেতেও চাননি। লোকেশন দেখার পর সুচিত্রা-সঞ্জীবকে নিয়ে একটি গেট টুগেদার করেছিলেন গুলজ়ার। সেই পার্টিতে মদ্যপ সঞ্জীব হাত ধরে টানেন সুচিত্রার। সেই পরিস্থিতি থেকে মিসেস সেনকে বাঁচিয়ে তাঁকে হোটেলের রুমে এগিয়ে দিয়েছিলেন গুলজ়ার। তাঁদের দু’জনকে দেখে ফেলেন রাখি। গুলজ়াকেই কেন সুচিত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হল–প্রশ্ন তুলে প্রচণ্ড আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন রাখি। এই প্রশ্ন করার দুঃসাহস দেখানোর জন্য রাখির গায়ে নাকি হাত তুলেছিলেন গুলজ়ার। তাঁকে বেধড়ক মেরেওছিলেন। এই অসম্মানের পরই নাকি স্বামী গুলজ়ারে মনের ঘরটা ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন রাখি। তবে আলাদা থাকলেও, তাঁদের নাকি ডিভোর্স হয়নি। কন্যা মেঘনার কারণেই স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়টি খাতায়-কলমে রেখেছেন রাখি এবং গুলজ়ার।
কাশ্মীরে ঘটে যাওয়া এই দাম্পত্য কহলের পরদিন নাকি সেখানে রাখির সঙ্গে দেখা হয় যশ চোপড়ার। ‘কভি কভি’ ছবির অফার দিতে গুলজ়ারের কাছেই এসেছিলেন যশ। গুলজ়ার মানা করায় রাখি সেদিন রুখে দাঁড়িয়ে ছবির প্রস্তাব গ্রহণ করে নিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে রাখির কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন গুলজ়ার। কিন্তু তিনি কিছুই ভুলতে পারেননি। ভাঙা হৃদয় আর জোড়া লাগেনি তাঁদের।