‘ভারত চাঁদে পা রাখছে আর আমরা…’, সংসদেই ক্ষোভ উগরে দিলেন পাকিস্তানি নেতা – Bengali News | Pakistani Leader Highlight India’s Success on Chandrayann 3 to Showcase Pakistan’s Crisis & Lack of Facilities
পাকিস্তানের সংসদে ভারত প্রসঙ্গ।Image Credit source: ANI
ইসলামাবাদ: প্রতিবেশী দুই দেশ। প্রতিযোগিতা তো লেগেই থাকবে। তবে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে গল্পটা একটু আলাদা। ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা তো দূর, এক মঞ্চে পৌঁছাতেও পারছে না। এই কথা আমরা নয়, বলছেন পাকিস্তানের নেতা-মন্ত্রীরাই। পাকিস্তানের নেতা সইদ মুস্তাফা কামাল সংসদে নিজেদের দুরাবস্থা তুলে ধরতে ভারতের সঙ্গেই তুলনা টানলেন। বললেন, একদিকে ভারত চাঁদে পৌঁছে যাচ্ছে, আর এদিকে আমাদের দেশের সবথেকে বড় শহরে খোলা নালা শিশুদের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে।
মুত্তেহিদা কোয়ামি মুভমেন্ট পাকিস্তান দলের নেতা দেশের আর্থিক দুরাবস্থা ও বিভিন্ন পরিষেবার অভাব নিয়েই কথা বলছিলেন সংসদে। সেখানেই তিনি ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের তুলনা টানেন। বলেন, “আজ যখন বিশ্ব চাঁদে পৌঁছে যাচ্ছে, সেখানেই আমাদের শিশুরা করাচির খোলা নালায় পড়ে গিয়ে মারা যাচ্ছে। আমরা টিভি স্ক্রিনে খবরে দেখি, ভারত চাঁদে পা রেখেছে, তার দুই সেকেন্ড বাদেই খবরে দেখি করাচিতে খোলা নালায় পড়ে গিয়ে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।”
২.৩ কোটি জনসংখ্যার শহরে পরিষ্কার জলের অভাব নিয়েও কথা বলেন তিনি। বলেন, “করাচি পাকিস্তানের উপার্জনের ইঞ্জিন। দেশ ভাগের সময় থেকেই পাকিস্তানের দুটি বন্দর এখানেই রয়েছে। গোটা দেশের প্রবেশপথ এই শহর। তারপরও, বিগত ১৫ বছর ধরে করাচিতে পরিষ্কার জল আসে না। যেটুকু জল আসে, তাও ট্যাঙ্কার মাফিয়াদের দখলে চলে যায়।”
পাকিস্তানের দুরাবস্থার চিত্র তুলে ধরতে তিনি আরও বলেন যে সিন্ধ প্রদেশে ৭০ লাখেরও বেশি শিশু স্কুলে যায় না। দেশে সেই সংখ্যাটা ২.৬ কোটি! সরকারকে দুষে ওই নেতা বলেন, “আমাদের মোট ৪৮ হাজার স্কুল রয়েছে। কিন্তু একটি নতুন রিপোর্টে জানা গিয়েছে, এর মধ্যে ১১ হাজার স্কুলই ভূতুড়ে, সেখানে কেউ পড়ে না। সিন্ধে ৭০ লক্ষ এবং দেশজুড়ে ২.৬২ কোটি শিশু স্কুলে যায় না। এই তথ্য জানার পর আমাদের নেতাদের ঘুম আসা উচিত নয়।”
এর দিন কয়েক আগে, পাকিস্তানের আরেক রাজনৈতিক নেতা মৌলানা ফজলুর রেহমানও বলেছিলেন যে ভারত সুপার-পাওয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে, আর আমরা দেউলিয়া হয়ে যাওয়া এড়াতে ভিক্ষা করছি।