Congress: ২৬ বছর বাদে আমেঠীতে ‘অ-গান্ধী’ মুখ! কে এই ‘শর্মা’, জানেন? – Bengali News | Congress fields non gandhi face in amethi after 26 years who is kishori lal sharma
সনিয়া-প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে কিশোরী লাল শর্মা।Image Credit source: Twitter
লখনউ: কথায় আছে, উত্তর প্রদেশ যার, কেন্দ্র-ও তার। অর্থাৎ যে দল উত্তর প্রদেশে জেতে, তাদের দখলেই থাকে কেন্দ্রের মসনদ। সেই কারণেই উত্তর প্রদেশের উপরে নজর গোটা দেশের। এক সময়ে কংগ্রেসের একাধিপত্য় ছিল উত্তর প্রদেশে, কিন্তু ইউপিএ জমানা থেকেই ধীরে ধীরে দুর্বল হতে শুরু করেছিল হাতের জোর। তবে কখনও হাতছাড়া হয়নি দুটি আসন, আমেঠী ও রায়বরৈলি। যদিও সেই রেকর্ডও ভেঙে যায় ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে। রায়বরৈলি থেকে সনিয়া গান্ধী জিতলেও, আমেঠী থেকে হেরে যান রাহুল। এবার সেই কারণেই ঝুঁকি নেননি রাহুল। ওয়েনাডের পর তিনি প্রার্থী হলেন রায়বরৈলি থেকে। ২৬ বছর পর আমেঠীতে দাঁড়ালেন গান্ধী পরিবারের বাইরের কোনও কংগ্রেস সদস্য।
আজ, ৩ মে-র সকালেই কংগ্রেসের তরফে আমেঠী ও রায়বরৈলি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। জল্পনা ছিল, আমেঠী থেকে দাঁড়াবেন রাহুল, প্রিয়ঙ্কা প্রার্থী হবেন রায়বরৈলি থেকে। কিন্তু প্রার্থী তালিকা খুলতেই দেখা যায়, আমেঠী নয়, রায়বরৈলি থেকে প্রার্থী হচ্ছেন রাহুল গান্ধী। এবারও ভোটে দাঁড়াচ্ছেন না প্রিয়ঙ্কা গান্ধী। আমেঠীতে প্রার্থী করা হচ্ছে কেএল শর্মাকে। ২৬ বছরে এই প্রথম গান্ধী পরিবারের বাইরে কাউকে প্রার্থী করা হল।
কিশোরী লাল শর্মা কিন্তু উত্তর প্রদেশের নন, তিনি পঞ্জাবের লুধিয়ানার বাসিন্দা। বিগত চার দশক ধরে তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত। তবে ১৯৮৩ সালে তিনি আমেঠীতে আসেন এবং সেই সময় থেকেই তিনি আমেঠীর জন্য় কাজ করছেন।
দলীয় সূত্রে খবর, গান্ধী পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কিশোরী লাল শর্মা। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীরও ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালে রাজীব গান্ধীর হত্যার পর গান্ধী পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আরও মজবুত হয়। ১৯৯৯ সালে সনিয়া গান্ধী যখন প্রথমবার আমেঠী থেকে জয়ী হয়েছিলেন, সেই সময়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এই কিশোরী লাল শর্মা। দীর্ঘদিন ধরেই আমেঠী ও রায়বরৈলি আসনের যাবতীয় কার্যাবলী সামলেছিলেন রাহুল।
প্রসঙ্গত, আমেঠী আসন গান্ধী পরিবারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আসন থেকে রাজীব গান্ধী, তাঁর ভাই সঞ্জয় গান্ধী, সনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধী লড়েছেন। প্রথমে সঞ্জয় গান্ধী এই আসন থেকে দাঁড়াতেন, বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর পর ১৯৮১ সালে উপ-নির্বাচন হয়। ভোটে দাঁড়ান রাজীব গান্ধী এবং জিতেও যান। ১৯৯১ সালে রাজীব গান্ধীর হত্যার আগে অবধি, চারবার ভোটে জিতেছিলেন।
রাজীব গান্ধীর মৃত্যুর পর সতীশ শর্মাকে উপ-নির্বাচনে প্রার্থী করা হয়েছে। ১৯৯৬ সালেও তিনি ভোটে জয়ী হন, তবে ১৯৯৮ সালের নির্বাচনে হেরে যান। ১৯৯৯ সালে সনিয়া গান্ধী আবার এই আসন থেকে জয়ী হন। রাহুল গান্ধী আমেঠী থেকে ২০০৪, ২০০৯ ও ২০১৪ সালে জিতলেও, ২০১৯ সালে স্মৃতি ইরানির কাছে হেরে যান।