প্রসেনজিৎ নিস্তার পেলেন না ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও, বললেন, ‘আমার বাবা বিশ্বজিৎও…’ – Bengali News | This is what actor prosenjit chatterjee said about biswajit chatterjee in regards to devi choudhurani shooting
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়…
জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক শুভ্রজিৎ মিত্রর আগামী ছবির নাম ‘দেবী চৌধুরানী’। ছবিতে দেবী চৌধুরানীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাংলার অন্যতম সুন্দরী এবং প্রতিভাময়ী অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। বঙ্কিমচন্দ্রর দেবী চৌধুরানীকে নিয়ে ছবি, তাতে ভবানী পাঠক থাকবেন না হতেই পারে না। সেই কালজয়ী চরিত্রে কাস্ট করা হয়েছে ইন্ডাস্ট্রির ইন্ডাস্ট্রি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে। মাথা ভর্তি লম্বা কালো চুল, গাল ভর্তি লম্বা কালো দাড়িতে প্রসেনজিৎ উজ্জ্বল। এই ধরনের একটি লুকে বহুকাল আগে বাংলার দর্শক প্রসেনজিৎকে দেখেছিলেন ‘মনের মানুষ’ ছবিতে। সেই ছবিটিও জিতে নিয়েছিল জাতীয় পুরস্কার। পরিচালনা করেছিলেন গৌতম ঘোষ। ফারাক রয়েছে দুই প্রসেনজিতের পোশাকের রঙে। ‘মনের মানুষ’-এর ‘লালন’ প্রসেনজিতের পরনে ছিল গেরুয়া। আর ‘ভবানী পাঠক’ প্রসেনজিৎ রেঙেছেন লালে। আরও একটা মস্ত বড় অমিল। ‘লালন’ প্রসেনজিৎ মারামারি করতেন না। তাঁর গলায় ছিল গান। ‘ভবানী পাঠক’ প্রসেনজিৎ মারপিঠ করবেন পুরোদমে। তৈরি করবেন ‘দেবী চৌধুরনী’ শ্রাবন্তীকে।
প্রসেনজিৎকে কর্মাশিয়াল ছবির গ্রামের দর্শক বহুবার মারামারি করতে দেখেছেন স্ক্রিনে। তবে তুলনায় চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী কিংবা রঞ্জিত মল্লিকের চেয়ে অনেক কম। দুলাল লাহিড়ী, বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় কিংবা দীপঙ্কর দের মতো সেই সমস্ত বাণিজ্যিক ছবির দুঁদে খলনায়করা বলতেন, প্রসেনজিতের মারের হাত খুব ভাল। ভিলেনদের ধোলাই করার সময় তাঁদের আঘাত করেন না ‘ইন্ডাস্ট্রি’। পর্দায় ভবানী পাঠকের চরিত্রে অভিনয় করে অ্যাকশন দৃশ্যে অভিনয় করা নিয়ে বেশ কিছু কথা TV9 বাংলাকে বলেছেন প্রসেনজিৎ।
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।
প্রসেনজিৎ জানিয়েছেন বাংলায় একটা সময় অ্যাকশন ছবি তৈরিই হচ্ছিল না মাঝে। কিন্তু দেব এবং অঙ্কুশদের মতো অভিনেতা-প্রযোজকেরা ফিরিয়ে আনছেন বাণিজ্যিক ছবির মারামারি। বলেছেন, “আমি খুশি এটা দেখে যে, নতুন প্রজন্মের দেব-অঙ্কুশরা আবার অ্যাকশন ছবি নিয়ে ফিরে আসছেন। দেবী চৌধুরানী ছবিতেও প্রচুর মারামারির দৃশ্য আছে।”
এই খবরটিও পড়ুন
কথা বলতে-বলতে অতীতের স্মরণী দিয়ে হাঁটছিলেন শুরু করেন প্রসেনজিৎ। ‘দেবী চৌধুরানী’র ফাইটমাস্টারকে তিনি বলেছিলেন তাঁর ‘অমরসঙ্গী’র ফাইটমাস্টার মাদলানির কথা। সেই কিংবদন্তির নাম শুনে চমৎকৃত হয়ে যান ‘দেবী চৌধুরানী’র ফাইটমাস্টার। এ কথা অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই যে, প্রসেনজিতের কারণেই বাংলায় ফাইট সিকোয়েন্স অন্য মাত্রা পেয়েছিল একটা সময়ে। প্রসেনজিৎ বলেন, “ফাইট সিকোয়েন্সকে চিরকালই একটু সিরিয়াসভাবে নিয়ে থাকি আমি। আমার ‘প্রতিবাদ ‘ ছবির ফাইট সিকোয়েন্স বিশেষ প্রশংসা পেয়েছিল। আমার নিজের পরিচালিত ছবি ‘পুরুষোত্তম’-এর অ্যাকশন দৃশ্য শুট করতে দলবল নিয়ে হায়দরাবাদে গিয়েছিলাম। সেগুলোকে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশ করব ভাবছি। নতুন প্রজন্মের বেশ ভাল লাগবে সেই আশাও করছি।”
বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়।
অ্যাকশন সিকোয়েন্সের কথা বলতে বাবা অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গে তোলেন প্রসেনজিৎ নিজেই। বিশ্বজিৎ ফাইট সিনে কতখানি পারদর্শী ছিলেন, তা জানালেন নিজের মুখেই। বললেন, “একটা নাম আমি নেবই। আমার বাবা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সাদা-কালো ছবি ‘রক্ততীলক’-এ আমি নিজেই আমার বাবার ছোটবেলাটা করেছিলাম। সেই ছবিতে বাবার বেশ কিছু অ্যাকশন সিকোয়েন্স ছিল। আসলে মুম্বইয়ের ফাইট সিকোয়েন্সের একটা আলাদাই ঘরানা ছিল। ছবিতে উত্তমকুমার এবং সুপ্রিয়া দেবী ছিলেন। ডাকাত এবং পুলিশের মারামারির দৃশ্য দেখার মতো ছিল সেই ছবিটায়।”
আলোচনা শেষে প্রসেনজিৎ ফিরে গেলেন দেবী চৌধুরানীর প্রসঙ্গে। তাঁর বক্তব্য, “এই গরমে ‘দেবী চৌধুরানী’র শুটিং করেছি। ভয়ঙ্কর কস্টিউম! শুটিংয়ের ফাঁকে বিরতিতেও ছেড়ে রাখা সম্ভব ছিল না। ৪২ ডিগ্রি তাপমাত্রায়, ভগবানকে ডাকা ছাড়া উপায় ছিল না আমার। সঙ্গে প্রচুর জল এবং ওআরএস খেয়ে টিকে ছিলাম সেটে।”