'বাড়ি ফিরেছি, কাজেও ফিরব', মৃত্যুকে জয় করে TV9 বাংলাকে বললেন অভিনেত্রী বাসন্তী চট্টোপাধ্য়ায় - Bengali News | Bengali actress basanti chattopadhyay has returned home from illness - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘বাড়ি ফিরেছি, কাজেও ফিরব’, মৃত্যুকে জয় করে TV9 বাংলাকে বললেন অভিনেত্রী বাসন্তী চট্টোপাধ্য়ায় – Bengali News | Bengali actress basanti chattopadhyay has returned home from illness

Spread the love

স্নেহা সেনগুপ্ত

১৩ মার্চ মাস থেকে দমদমের একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বাংলা বিনোদন জগতের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী বাসন্তী চট্টোপাধ্যায়। সদ্য বাড়িতে ফিরেছেন বাসন্তীদেবী। তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে প্রার্থনা করেছিলেন প্রিয়জনেরা। কোমায় চলে গিয়েছিলেন বাসন্তীদেবী। লড়াইটা তিনি প্রায় একাই লড়েছেন। পাশে সারাক্ষণই পেয়েছেন গাড়ির চালক মলয় চাকি এবং সর্বক্ষণের দেখভালের মানুষ রেখাকে। বাড়িতে ফিরেই বাসন্তীদেবী TV9 বাংলার সঙ্গে কথা বলেছেন, “আমি এখন অনেক ভাল আছি। আপনারা সকলে ভাল তো। তাড়াতাড়ি সুস্থ হতে হবে বুঝলেন।”

এই খবরটিও পড়ুন

একটা কিডনি অকেজো হয়ে গিয়েছে বাসন্তীদেবীর। বয়সজনিত অনেক ব্যাধী আছে তাঁর। আছে ক্যানসারও। কিন্তু তাঁর মনের জোরকে কেউই টলাতে পারেননি। TV9 বাংলাকে বললেন, “আমি কাজে ফিরব খুবই তাড়াতাড়ি। কাজ করতে ভালবাসি। অভিনয় আমার সঙ্গী। সেই সঙ্গীকে ছেড়ে থাকা যায় বলুন।” ‘গীতা এলএলবি’ সিরিয়ালে এক বর্ষীয়ান আইনজীবী এবং এক মায়ের চরিত্রে অভিনয় করছিলেন বাসন্তীদেবী। সে এমন এক মা, যে সৎ ছেলের হাজার ধিক্কার সহ্য করে এবং সে বাড়ি ফিরে না খেলে মুখে একদানাও দেয় না। অপেক্ষায় বসে থাকে। বসন্তীদেবী বাস্তবেও সেরকমই এক মাতৃমূর্তি। ফোনে TV9 বাংলার সঙ্গে কথা বলতে-বলতে সহায়িকা রেখাকে বলছিলেন, “তুমি খেয়েছো। যাও খাও। সব কাজ ছাড়ো। কাজ পরে হবে। আগে খাও। যাও…”

বাসন্তীদেবীর বয়স ৮৬। জীবনের অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য়ে দিয়ে গিয়েছেন মানুষটা। শেষজীবনেও তাঁকে লড়াইটা চলিয়ে যেতে হচ্ছে নিজের দমে। এই বয়সের এক বৃদ্ধার সন্তান এবং নাতি -নাতনিদের নিয়ে থাকার কথা। কিন্তু বাসন্তীদেবী বড্ড একলা। স্বামী গত হওয়ার পর থেকে দমদমের বাড়িতে একাই থাকেন। বিগত ৮ বছর থেকে রেখা তাঁর সঙ্গী। সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে আসার পর নাকি রেখাকে দেখে একগাল হেসে বাসন্তীদেবী বলেছিলেন,”আমি এলাম দেখ তোর কাছে।” রেখাও আপ্লুত তাঁর ‘মাসিমা’কে (ও নামেই বাসন্তীদেবীকে সম্বোধন করেন রেখা) ফিরে পেয়ে।

বাসন্তীদেবী বাড়িতে ফেরার পর রেখা TV9 বাংলাকে বলেছেন, “আমি দিনরাত ঠাকুরকে ডেকেছিলাম মাসিমা যেন সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফেরেন। জানেন তো, মাসিমা আমাকে দেখেই সুস্থ হয়ে যান।”

রেখাই জানালেন, বাসন্তীদেবীর মেয়ে নাকি তাঁকে বাড়িতে দেখতে এসেছিলেন। উল্লেখ্য, এই কন্যা হাসপাতালে দেখতে যেতে পারেননি মাকে। অভিনেত্রীর জামাই শঙ্কর চক্রবর্তী বলেছিলেন, “আমার শাশুড়িমাকে কীভাবে দেখতে যেতেন আমার স্ত্রী। তিনি নিজেও তো খুবই অসুস্থ। কিছুদিন আগেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তার উপর তিনি নার্ভের রোগে ভুগছেন। একটা জায়দায় গেলে সেখানে বেশিদিন থাকতে পারেন না।” সেই মেয়েও থাকেন দমদমেই। শুক্রবার (২৯ মার্চ, ২০২৪) মা বাড়ি ফিরতেই তাঁকে শনিবার (৩০ মার্চ, ২০২৪) দেখতে গিয়েছিলেন। মেয়েকে কাছে পেয়ে দারুণ খুশি হয়েছেন বাসন্তীদেবীও।

সরস্বতী পুজোর সময় একবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বাসন্তীদেবী। সেই সময় তাঁর হাসপাতালের বিল হয়েছিল ২ লাখ টাকারও বেশি। অভিনেত্রীর গাড়ির চালক মলয় চাকি TV9 বাংলাকে বলেছিলেন, “জানেন তো, পরিবার থেকে সেরকম টাকাপয়সা দিয়ে কেউ সাহায্য করেননি। আমি টাকা ধার করে বিল মিটিয়েছি। জেঠি (বাসন্তীদেবীকে জেঠি বলে ডাকেন তাঁর ড্রাইভার মলয় চাকী) বাড়িতে এসেই সেই টাকা মিটিয়ে দিয়েছেন।” দ্বিতীয়বার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর ফিক্সড ডিপোজ়িট ভেঙে হাসপাতালের বিল মিটিয়েছেন জামাই। অভিনেত্রীর জামাই শঙ্কর চক্রবর্তী জানিয়েছিলেন, “আমার কাছে অত টাকা কোথায়? কীভাবে টাকা দিতাম। মায়ের (শাশুড়ি মা বাসন্তীদেবীকে ‘মা’ ডাকেন তিনি) জমানো টাকাই আমি দিয়েছি। তিনি একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করে আমার স্ত্রীকে ২০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। ৫ লাখ টাকা ফিক্স করা ছিল। সেই টাকা ভেঙে বিল মিটিয়েছি।”

এদিকে বাসন্তীদেবী হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় একটি পোস্ট করেছিলেন, তাতে অভিনেত্রীর চিকিৎসার খরচের জন্য ডোনেশন দিতে বলেছিলেন। এই পুরো সময়টায় ইন্ডাস্ট্রির সকলে দারুণভাবে পাশে ছিলেন বাসন্তীদেবীর। ভাস্বর বলেছেন, “সেই তরুণ মজুমদারের ‘আলো’ ছবি থেকে বাসন্তীদেবীকে আমি পর্দায় নিজের মা হিসেবে পেয়েছি। তিনি অভিনয় করছিলেন ‘গীতা এলএলবি’ সিরিয়ালে। তাঁকে আমি ফের নিজের মা হিসেবে পেয়েছিলাম সেই সিরিয়ালে। আমার মায়ের মতো মানুষ।”

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *