'বেদের মেয়ে জোসনা'র নায়িকা অঞ্জু ঘোষ হারালেন কেন? চিরঞ্জিত বললেন... - Bengali News | What is beder meye josna actress anju ghosh doing now? - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘বেদের মেয়ে জোসনা’র নায়িকা অঞ্জু ঘোষ হারালেন কেন? চিরঞ্জিত বললেন… – Bengali News | What is beder meye josna actress anju ghosh doing now?

কোথায় হারিয়ে গেলেন বেদের মেয়ে জোসনা?

‘বেদের মেয়ে জোসনা’। বাংলাদেশে এবং কলকাতার শিল্পীদের নিয়ে তৈরি হয়ে এই ছবি। ১ ঘণ্টা ২২ মিনিটের ছবি। মুক্তি পায়ে ১৯৮৯ সালের ৯ জুন। ‘বেদেন মেয়ে জোসনা’কে বলা হয় বাংলা ছবির জগতের সবচেয়ে বেশি বক্স অফিস কাঁপানো ছবি। প্রযোজকের ঘরে সবচেয়ে বেশি টাকা এনে দিয়েছিল এই ছবিটাই। ছবি তৈরির বাজেট ছিল ২০ লাখ টাকা। বক্স অফিসে ছবি আয় করেছিল ২০ কোটি টাকা। সেই টাকার মূল্য এখন ১৪২ কোটি টাকা। অনেক আগেই ১০০ কোটির ক্লাবে ঢুকেছিল গ্রামেগঞ্জে দৌড়ানো এই ছবি। এর পর আর কোনও ছবিই এমন সাফল্য পায়নি বক্স অফিসে।

ছবিতে অভিনয় করেছিল দুই বাংলার শিল্পীরা। নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অঞ্জু ঘোষ, ওরফে অঞ্জলি ঘোষ। হঠাৎ কী হল অঞ্জু ঘোষের? কেন সব কিছু ছেড়ে অন্তরালে চলে গেলেন অভিনেত্রী? কেন তাঁকে আর দেখতে পাওয়া গেল না দু’পার বাংলার কোনও ছবিতেই? এর উত্তর দিয়েছেন অঞ্জু নিজেই।

প্রযোজকদের ঘরে টাকা ফেরত আনার গুরুদায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন অঞ্জু। ফলে প্রযোজকদেরও তাঁর উপর ছিল অগাধ ভরসাযোগ্যতা। তাঁরা জানতেন অঞ্জু ছবিতে থাকা মানেই লগ্নি হওয়া টাকা ঘরে ফিরবেই। কিন্তু তারপর কী হল?

এই খবরটিও পড়ুন

‘বেদের মেয়ে জোসনা’ ছবিতে কাজ করার আগে ‘চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন অঞ্জু ঘোষ। সেই ছবিটি ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল ছবি। প্রচুর অর্থ উপার্জন করে সেই ছবিও। কেবল এই দুটি ছবি নয়, অভিনেত্রী অঞ্জু ঘোষ যে কটি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন সেই সময় সব কটি ছিল সুপারডুপার হিট। তিনি কেন সিনেমা থেকে সরলেন?–এই প্রশ্ন অঞ্জুকে বহুবার করা হয়েছে। তাঁর পাল্টা জিজ্ঞাসা–তিনি সরে আসায় কি খুব কিছু যায় এসেছে দুই বাংলার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির?

তৎকালীন বাংলা ছবি সম্পর্কে একটা দুর্নাম তৈরি হয়েছে–যে টাকা ব্যয় করে ছবি তৈরি হয়, সেই টাকা নাকি উঠে আসে না বক্স অফিসে। কিন্তু অঞ্জু বিশ্বাস অভিনীত ছবির ক্ষেত্রে তেমনটা এক্কেবারেই ঘটেনি কোনওকালে। ফলে ইন্ডাস্ট্রির একাংশের এখনও মনে হয় অঞ্জু ঘোষ ইন্ডাস্ট্রিতে থাকলে আরও অনেকবেশি সফল বাণিজ্যিক ছবি পেতেন দর্শক।

প্রযোজকের টাকা ঘরে ফিরিয়ে দিতে হবে অঞ্জুকে, শুরু থেকেই এই পাহাড় প্রমাণ ভার তাঁর কাঁধে চাপিয়ে দিয়েছিল ইন্ডাস্ট্রি। কিন্তু অঞ্জু বিশ্বাস ছবির জগৎ থেকে সরে এসেছিলেন এক অদ্ভুত কারণে। এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “জাতি-জাতি করে একটা হিড়িক উঠেছিল–ও হিন্দু, ও মুসলমান! আমি এর মধ্যে পড়তে চাইনি। কেরিয়ারে ৩৫০ ছবিতে অভিনয় করেছি। তার মধ্যে ২০০টা ছবি ছিল বাংলাদেশের। হিন্দুর বাড়ির মেয়ে হয়েও সেই ২০০টা ছবিতেই কলমা পড়ে অভিনয় করেছি। সেজেছি মুসলমানের বেটি। কিন্তু বাংলাদেশ আমাকে বলল হিন্দুর বেটি। অন্যদিকে এখানে যখন এলাম আমার গোটা প্রেজ়েন্টেশন দেখে ভারত বলল আমি মুসলমানের বেটি। ফলে হল কী, আমি ওপারে সংখ্যালঘু, এপারেও সংখ্যালঘুই থেকে গেলাম।” মনে খুবই আঘাত লেগেছিল অঞ্জুর। তিনি বলেছিলেন, “ওপারে যখনই আমাকে ‘হিন্দুর মেয়ে’ কথাটা বলল, হিন্দু-মুসলমানের এত তফাত করে দিচ্ছিল, যে মনটা আমার ভেঙে গেল। আমি শিল্পী, তাই না। আমার তো কোনও জাতি নেই। আমার পরিচয় আমি কেবলই একজন শিল্পী।”

এবার বাংলাতে এসেও অঞ্জুকে শুনতে হয় ‘মুসলমানের বেটি’। বাংলাদেশের নায়িকাদের চেহারা কলকাতার (পড়ুন টালিগঞ্জ ) নায়িকাদের মতো ছিপছিপে নয় ততটাও। এপারে এসে অঞ্জুকে এক সহশিল্পীর থেকে শুনতে হয়েছিল, “বাংলাদেশের সব কিছুই বড়-বড়”। কথাটা অঞ্জুর ভাল লাগেনি। এ সব কিছুর কারণে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন অঞ্জু। এই অঞ্জু সম্পর্কে TV9 বাংলাকে কী বলেছিলেন ‘বেদের মেয়ে জোসনা’রই নায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী? কেন আর দেখতে পাওয়া গেল না অঞ্জুকে?

চিরঞ্জিত চিরকালই বাংলা বাণিজ্যিক ছবিতে সমর্থন করে এসেছেন। তিনি মনে করেন বাংলা ছবিকে চালাতে পারে কেবল বাণিজ্যিক ছবিই। অঞ্জু বিশ্বাস, যিনি প্রযোজকদের ঘরে টাকা ফিরিয়ে নিয়ে আসার গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন, তাঁর সম্পর্কে TV9 বাংলার কাছে চিরঞ্জিত বলেছিলেন, “এটা তো পুরোপুরিই ডিমান্ড অ্যান্ড সাপ্লাইয়ের ব্যাপার। সাপ্লাই ছিল, কিন্তু ডিমান্ড ছিল না।”

অঞ্জুর বক্তব্যর পরিপ্রেক্ষিতে চিরঞ্জিত বলেন, “আমার সঙ্গে যখন অঞ্জু কাজ করেছিলেন তাঁর খুবই ডিমান্ড ছিল। কিন্তু এটা সত্যি এখানকার লোকজনের মনে হয়েছিল, তিনি হিন্দু টাইপ নন। কথাবার্তা, চালচলনের মধ্য়ে মুসলমান ছাপ ছিল। বাংলাদেশের নিজস্ব একটা ছাপ থেকে শিল্পীদের শরীরে। সেটা অঞ্জুর মধ্যেও ছিল। অনেক বড় স্টার ছিলেন তিনি। ফলে সেই কারণে তাঁর সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে একটা কুণ্ঠাভাব চলে এসেছিল ইন্ডাস্ট্রির অনেকের মধ্যে।”

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *