Congress: ‘পঙ্গু করে দিয়েছে বিজেপি…’, গুরুতর অভিযোগ রাহুল-সনিয়া-খাড়্গের – Bengali News | Congress leaders alleges PM Modi’s systematic effort cripples Congress financially
সাংবাদিক সম্মেলনে দলের বর্তমান সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং কংগ্রেসের দুই প্রাক্তন সভাপতি সনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধী Image Credit source: PTI
নয়া দিল্লি: বলা যেতে পারে কংগ্রেসের ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর। দলের বর্তমান সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং কংগ্রেসের দুই প্রাক্তন সভাপতি সনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধী – কংগ্রেসের তিন শীর্ষস্থানীয় নেতা একসঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলন করছেন, এমনটা খুব একটা দেখা যায় না। বৃহস্পতিবার এমনই বিরল দৃশ্য দেখা গেল। তিন-তিনজন শীর্ষস্থানীয় কংগ্রেস নেতা এসে সাংবাদিক সম্মেলন করে অভিযোগ করলেন, কংগ্রেস দলকে আর্থিকভাবে ‘পঙ্গু’ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। কংগ্রেস যাতে প্রচার পর্বেই পিছিয়ে পড়ে, তার জন্য লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করে দিয়েছে মোদী সরকার। এর জন্য চেষ্টার কোনও কসুর রাখছে না গেরুয়া শিবির, এমনই অভিযোগ কংগ্রেসের।
গত ফেব্রুয়ারি মাসেই কংগ্রেস দাবি করেছিল, ২১০ কোটি টাকার কর বাকি আছে বলে অভিযোগ করে আয়কর বিভাগ তাদের সবকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দিয়েছে। এমনকি তাদের শাখা সংগঠনগুলির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিল কংগ্রেস। তবে এই বিষয়ে আইটি বিভাগের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। তারপর অবশ্য কংগ্রেসের কিছু অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যাচ্ছে বলে জানা গিয়েছিল। এদিন কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধী আইটি বিভাগের পদক্ষেপকে, কংগ্রেসকে আর্থিকভাবে পঙ্গু করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পরিকল্পিত প্রচেষ্টা বলে অভিযোগ করেন। রাহুল গান্ধী বলেছেন, এটা প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অপরাধমূলক পদক্ষেপ। নির্বাচন কমিশনকেও নিশানাকরেন তিনি। আর খাড়্গের মতে, নির্বাচনের আগে থেকেই বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি।
রাহুল গান্ধী বলেন, লোকসভা নির্বাচনে যাতে কংগ্রেস দল আর্থিকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়ে, তার জন্যই এই সকল সাজানো অভিযোগ করা হয়েছে। রাহুল গান্ধী বলেন, “আমাদের নেতারা দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বিমানে উড়ে যেতে পারছেন না। বিমানের কথা ভুলে যান, এমনকি, তারা ট্রেনেও যাত্রা করতে পারছেন না।” ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ার কারণে, কংগ্রেস প্রচারের কাজে নামতেই পারছে না। গত নির্বাচনেও ভারতের ২০ শতাংশ ভোটার কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছেন বলে উল্লেখ করে রাহুল বলেন, আমরা এখন কাউকে ২ টাকাও দিতে পারছি না। আমরা প্রচারের কোনও কাজ করতে পারছি না। আমাদের কর্মীদের আর্থিক সহায়তা দিতে পারছি না। প্রার্থীদের টাকা দিতে পারছি না। নির্বাচনের দুই মাস আগে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে ।” নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে নীরব কেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন রাহুল।
সনিয়া গান্ধী বলেন, “জনসাধারণ আমাদের যে তহবিল দিয়েছেন, তা ফ্রিজ করে দেওয়া হচ্। আমাদের অ্যাকাউন্ট থেকে জোর করে অর্থ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।” তিনি অভিযোগ করেন, প্রধান বিরোধী দলের আর্থিক ক্ষতি করার জন্য সবরকম প্রচেষ্টা করছে বিজেপি। অন্যদিকে, মল্লিকার্জুন খাড়্গে নির্বাচনী বন্ড প্রকল্পের কথা তুলেছেন। তিনি বলেছেন, “এই বন্ড প্রকল্পের মাধ্যমে, বিজেপি হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে তাদের অ্যাকাউন্ট ভরিয়েছে। অন্যদিকে, ষড়যন্ত্র করে প্রধান বিরোধী দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তহবিলের অভাবে, দুই দল সমান জায়গা থেকে নির্বাচন লড়তে পারছে না। এটি ক্ষমতাসীন দলের এক বিপজ্জনক খেলা। এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে।”