‘শ্রীময়ীর সঙ্গেও বিয়েটা কি টিকবে?’, কপালে ভাঁজ ফেলে কীসের আভাস কাঞ্চনের দ্বিতীয় স্ত্রী পিঙ্কির? – Bengali News | Actress pinky banerjee getting scoldings from friends for forgiving her ex husband kanchan mullick
২০২০ সাল। ভরা লকডাউন। চারদিকে কোভিডের আবহ। মানুষের মনে প্রবল ভয়। এই বুঝি ‘নতুন’ ভাইরাস করোনা থাবা বসায়। এমন পরিস্থিততে হঠাৎ এক সুখের সংসারে আগুন জ্বলতে শুরু করল দাউদাউ করে। খবরের শিরোনামে উঠে এল সেই পরিবারের ‘কেচ্ছা-কাহিনি’। অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক (তখনও উত্তরপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক হননি) উঠে এলেন খবরের হেডলাইনে। তিনি নাকি এক হাঁটুর বয়সি অভিনেত্রীর প্রেমে পড়েছেন এবং তাঁর সঙ্গে মেলামেশা করতে শুরু করেছেন তুমুল। এ পর্যন্ত ঠিক ছিল। কোনও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি তাঁর ব্যক্তিজীবনে কী করবেন, সেটা তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায় হয়। যে সময় সেই হাঁটুর বয়সি অভিনেত্রীর সঙ্গে কাঞ্চনের প্রেমের গুজব শুরু হয়, সেই সময় তিনি বিবাহিত এবং এক পুত্রসন্তানের পিতা। এই নিয়ে তুলকালাম চারদিকে। অভিনেতার স্ত্রী (পড়ুন দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা দাসকে ডিভোর্সের পর তাঁকে বিয়ে করেছিলেন কাঞ্চন) অভিনেত্রী পাঙ্কি বন্দ্যোপাধ্য়ায় প্রতিবাদী মূর্তি ধারণ করেছিলেন। কাঞ্চন এবং সেই অল্প বয়সি অভিনেত্রীর সম্পর্ককে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন। নিয়ে এসেছিলেন লোকসমাজের নজরে। বিষয়টি বেমালুম অস্বীকার করেছিলেন কাঞ্চন এবং সেই অভিনেত্রী। পরবর্তীতে অবশ্য সেই হাঁটুর বয়সি অভিনেত্রীর সঙ্গে প্রেম-ভালবাসা এবং বিয়ে করেন কাঞ্চন। (আইনি বিয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সাল) তার ৩৪ দিন আগে পিঙ্কিকে ডিভোর্স (ডিভোর্সের তারিখ ১০ জানুয়ারি, ২০২৪) দেন। কাঞ্চন এবং সেই হাঁটুর বয়সি অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজ এখন বিবাহিত দম্পতি।
১৪ ফেব্রুয়ারি রেজিস্ট্রি বিয়ে এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি সেই আইনি বিয়ের ছবি নেট মাধ্যমের পাতায় ছয়লাপ হয়ে গিয়েছিল। তারপর থেকে অভিনেতা-বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিককে নিয়ে নানা ধরনের কটূক্তি, ব্যঙ্গক্তি করতে শুরু করেন নেটিজ়েনদের একটা বড় অংশ। ব্যঙ্গের বিষয় অনেকগুলি। এক: ‘রোগা-পাতলা’ চেহারা নিয়ে কীভাবে কাঞ্চনের মতো এক পুরুষ তিনটে বিয়ে করতে পারেন। দুই: কাঞ্চনের তিন নম্বর স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বয়সের ফারাক ২৭ বছর। তিন: কাঞ্চনের তিন নম্বর বিয়ে।
এসব দেখে শুনে কাঞ্চনের দ্বিতীয় (এখন ডিভোর্সি) স্ত্রী পিঙ্কি এবং তাঁর পুত্র ওশ (কাঞ্চনের একমাত্র সন্তান) তাঁকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। ওশ তাঁর মা পিঙ্কিকে বলেছেন, “বাবাকে ব্লেস (আশীর্বাদ) করো।” অন্য়দিকে পিঙ্কি বলেছেন, “আমার ভাল লাগছে এটা ভেবে যে, শেষমেশ দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি একে-অপরকে স্বীকার করেছেন এবং বিষয়টাকে আইনি স্বীকৃতি দিয়েছেন। এটা খুব দরকার ছিল। আমি আশা করি কাঞ্চন এই বিয়েটায় যেন সুখী হয়।” এই সবটাই পিঙ্কি জানিয়েছিলেন TV9 বাংলাকে।
এই খবরটিও পড়ুন
পিঙ্কির এই বড় মনের কথাগুলো কিছুতেই হজম করতে পারেননি তাঁর নিকট বন্ধু-বান্ধবেরা। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, তাঁর বন্ধুরা নাকি পিঙ্কিকে প্রচণ্ডই ধমক দিয়ে বলেছেন, “ভুলে গেলি পিঙ্কি কাঞ্চন তোর সঙ্গে কী করেছে…?”