Kochrab Ashram: চেহারা ফিরল গান্ধীর ঐতিহাসিক ‘প্রথম’ আশ্রমের, দেখুন ছবিতে ছবিতে
সংস্কারের পর, মঙ্গলবার মহাত্মা গান্ধীর কোছরাব আশ্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একই সঙ্গে তিনি সবরমতিতে মহাত্মা গান্ধী আশ্রমে, গান্ধী আশ্রম স্মৃতিসৌধের মাস্টারপ্ল্যানেরও উন্মোচন করেন।
দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতে ফেরার পর, ১৯১৫ সালে এই কোছরাব আশ্রমের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মহাত্মা গান্ধী। এটিই তাঁর ভারতে প্রতিষ্ঠা করা প্রথম আশ্রম।
ভারতে আসার পর, প্রথমে এখানেই থাকতেন গান্ধীজি। পরে তিনি সবরমতীতে আশ্রম স্থানান্তর করে সেখানে চলে গিয়েছিলেন। এদিন প্রধানমন্ত্রী গান্ধীজির সময়ের কোছরাব আশ্রমের কথা বর্ণনা করেন।
এই আশ্রমটি ছিল গান্ধীবাদী চিন্তাধারার অনুসারীদের এক প্রধান কেন্দ্র। এখানে তাঁরা সত্যাগ্রহ, স্বয়ংসম্পূর্ণতা, দরিদ্র, মহিলা ও অস্পৃশ্যদের উন্নতির জন্য স্বদেশী কাজকর্ম এবং লোকশিক্ষা ও পরিচ্ছন্নতার অনুশীলন করতেন।
বর্তমানে, এক স্মৃতিসৌধ এবং পর্যটনস্থল হিসাবে এই আশ্রমকে সংরক্ষণ করা হয়েছে। সংরক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে গুজরাট বিদ্যাপীঠ।
এই আশ্রম তৈরি হয়েছিল সাম্যবাদের আদর্শে। ঔপনিবেশিক-শৈলীর সাদা রঙের এক ভবনে স্থাপন করা হয়েছিল এই আশ্রম। ভিতরে রয়েছে একটি হোস্টেল এবং রান্নাঘর। আশ্রমের গান্ধী মেমোরিয়াল মিউজিয়ামে, মহাত্মা গান্ধীর জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিভিন্ন শিল্পকর্ম এবং ঐতিহাসিক ফটোগ্রাফের একটি ছোট সংগ্রহশালাও রয়েছে।
তবে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আশ্রম ভবনটি তার অতীত ঔজ্জ্বল্য হারিয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরেই ভগ্নপ্রায় অবস্থায় পড়েছিল ভবনটি। আশ্রমটির ঐতিহ্য ফিরিয়ে একে ফের এক জ্ঞান চর্চার কেন্দ্রে পরিণত করতে, আশ্রমটির বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজন ছিল।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে সেই কাজটিই করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংরক্ষণ করা হয়েছে মহাত্মা গান্ধীর ব্যবহার করা জিনিসপত্র এবং অন্যান্য ঐতিহাসিক নথি। দর্শনার্থীদের এই আশ্রমের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বাদ দিতে, বেশ কয়েকটি আলোও লাগানো হয়েছে।
সংস্কারের পর, আশ্রমে যুবদের জন্য অ্যাক্টিভিটি সেন্টারও তৈরি করা হয়েছে। সংস্কারের পর, আশ্রমটির উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, এই প্রকল্প ভারতের অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য এক প্রকল্প। এই আশ্রম বহু ভারতীয় যুবদের কাছে অনুপ্রেরণার কেন্দ্র হয়ে উঠবে।
এদিন কোছরাব আশ্রমে, একটি চারাগাছও রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি বলেন, মহাত্মা গান্ধীর আদর্শের প্রচার করতে হবে। জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে তাঁর বার্তা। কোছরাব আশ্রমের সংস্কার, সেই দিকেই আরও এক কদম এগিয়ে দেবে বলে জানান তিনি।









