‘এই কাঞ্চনকে চিনিই না’, ড্রাইভার-নিরাপত্তারক্ষী নিষেধ-বিতর্কে বললেন পিঙ্কি – Bengali News | What did actor kanchan mullick’s ex wife pinki banerjee say about his insult on drivers and security guards
স্নেহা সেনগুপ্ত
তাঁর প্রাক্তন স্বামী অভিনেতা-বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক তৃতীয় বিয়ে করেছেন অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজকে। কাঞ্চনের তৃতীয় বিবাহ প্রসঙ্গে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী অভিনেত্রী পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্য়ায় TV9 বাংলাকে আগেই বলেছিলেন, “যতই যাই হোক, আমি চাই কাঞ্চন এবং শ্রীময়ী ভাল থাকুক।” সেই পিঙ্কি সোশ্যাল মিডিয়া মারফত খবর পেয়েছেন, ৬ মার্চ, কাঞ্চন-শ্রীময়ীর রিসেপশনের পার্টির ভেন্যুতে (ক্যামাক স্ট্রিটের হেরিটেজ প্রপার্টি ‘গ্যালেরিয়া, ১৯১০’-এ হয় অনুষ্ঠিত হয়েছে কাঞ্চনের রিসেপশনের পার্টি) ঢোকার মুখে প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘Please! Press And Personal Securities And Drivers Are Not Allowed. Inconvenience Is Regretted’ (অর্থাৎ, ‘প্লিজ়! সংবাদমাধ্যম, ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী এবং গাড়ির চালকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ…’) বিষয়টি নিয়ে চাঁচাছোলা ভাষায় কিছু কথা TV9 বাংলাকে বলেছেন পিঙ্কি। তিনি খুবই হতবাক হয়ে গিয়েছেন এই ঘটনায়…
এই খবরটিও পড়ুন
হতাশার সুরে পিঙ্কি TV9 বাংলাকে বলেছেন, “আমি আর আমার ছেলে ওশ—আমরা বুদ্ধদেবের আরাধনা করি। আমরা আমাদের গাড়ির ড্রাইভারকে ড্রাইভার দাদা বলি না কেউ। আমার ছেলে তাঁদেরকে ‘সারথি’ বলে ডাকেন। আসলে ড্রাইভাররা তো কৃষ্ণেরই মতো। শ্রীকৃষ্ণও অর্জুনের সারথি। ফলে ড্রাইভারদের অপমান করা মানে পরোক্ষভাবে ঈশ্বরকেই অপমান করা।”
প্রসঙ্গত, এই বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে কাঞ্চন মল্লিক TV9 বাংলাকে বলেছেন, “আমি কেন টার্গেট হয়েছি, জানি না। আপনারা সকলেই দেখেছেন আমার রিসেপশনের কার্ড। ভেন্যুতে আমরা বলেছিলাম, আপনারা দয়া করে বলবেন, যাঁরা-যাঁরা আসছেন আমন্ত্রিতদের সঙ্গে, তাঁরা ফার্স্ট ফ্লোরে অপেক্ষা করবেন, বাকিরা উঠে আসবেন। গেস্ট লিস্টেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল ভেন্যুতে। এবং তাঁরা সেটা বুঝে কী লিখেছেন, আমি জানিই না। এই সমস্ত কিছুতে আমার কোনও দায় নেই।” যদিও ভেন্যু অর্থাৎ ‘গ্যালারিয়া ১৯৯০’ কর্তৃপক্ষ TV9 বাংলাকে সাফ বলেছেন, “আমাদের যদি নির্দেশ না-দেওয়া হয়, আমরা কী লিখতে পারি এরকম? ২৫০ জনের আসন ছিল। গেস্ট লিস্ট ছিল ২৪৭। আমাদের বলা হয়, গেস্ট লিস্টের বাইরে কাউকে না ঢোকাতে। তবে গেটের বাইরে যে লেখা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সেই লেখার দায়ভার আমাদের নয়।”
দায় ঠেলাঠেলির মধ্যে পিঙ্কি যে কথাগুলো বলেছেন TV9 বাংলাকে, তাতে একটা জিনিস স্পষ্ট: কাঞ্চনের রিসেপসনে প্ল্যাকার্ড হিসাবে রাখা এহেন নিষেধবার্তার কথা শুনে ভীষণভাবে মর্মাহত হয়েছেন পিঙ্কি। তাঁর কথায়, “আমি যদি এরকম একটা নিমন্ত্রণে যেতাম, তা হলে কী করতাম, সেটা নিয়ে ভেবেছি ভাল করে। যদি বাচ্চাদের কোনও নিমন্ত্রণে ডাকা হয়, আর সেই বাচ্চার মা যদি কোনও কারণে না-যেতে পারেন, তা হলে সেক্ষেত্রে দিদিরা (পড়ুন ন্যানি) যাবেন। হোস্ট হিসেবে কিন্তু আমার দায়িত্ব সেই দিদিদেরও ডাকা। আমি অন্তত তাই-ই করে থাকি।” এরপরই কার্যত বোমাটা ফাটিয়েছেন পিঙ্কি। অকপটে তিনি বলেছেন TV9 বাংলাকে, “সত্যি বলতে কী, আমি এই কাঞ্চনকে চিনিই না। আমার চেনা কাঞ্চন মল্লিক কোনওদিনও কোনও ড্রাইভার, নিরাপত্তারক্ষীকে এভাবে অপমান করেননি কোনওদিনও। বিশ্বাস করুন আমি চিনি না এই কাঞ্চনকে।”