যত চিবোবেন তত রস! গরমের দিনে পটল-ঝিঙের সঙ্গে সজনে ডাঁটাও রাখুন পাতে
গ্রীষ্মের আনাজ বাজারে আসতে আর বেশি দিন বাকি নেই। শীতের সুস্বাদু ও রংবেরঙের সবজির জন্য আরও এক বছরের অপেক্ষা। এবার ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙে, বরবটি, পটল দিয়েই কাজ চালাতে হবে। তবে, এর জন্য ওষুধিগুণে ভরপুর একটি আনাজ রয়েছে, যা হল সজনে ডাঁটা।
এবার আলু-মাছ ঝাল থেকে শুরু করে শুক্ত, এসব খাবারে সজনে ডাঁটা থাকবে। সজনে ডাঁটা চিবোতে বিরক্ত লাগতেও পারে অনেকের। কিন্তু এই আনাজের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে সুস্বাস্থ্যের রহস্য।
সজনে ডাঁটার মধ্যে জলের পরিমাণ বেশি। গরমে শরীরকে হাইড্রেট রাখার জন্য সজনে ডাঁটা চেবানো ভাল। সজনে ডাঁটায় থাকা তরল ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করে এবং শরীরকে সতেজ রাখে। তাছাড়া এই খাবারে ন্যাচারাল কুলিং এফেক্ট রয়েছে।
সজনে ডাঁটার মধ্যে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, ক্যালশিয়াম, পটাশিয়াম ও আয়রন রয়েছে। এসব পুষ্টি হাড়ের স্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি মেটাবলিক রেট বাড়ায়।
গরমে বদহজমের সমস্যা এড়াতে সজনে ডাঁটাকে পাতে রাখুন। বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফোলার মতো সমস্যাকে প্রতিরোধ করে সজনে ডাঁটা। পাচনতন্ত্রকে ভাল রাখতে সজনে ডাঁটার জুড়ি মেলা ভার।
সজনে ডাঁটার মধ্যে ফ্ল্যাভনয়েড ও ফেনোলিক অ্যাসিডের মতো কিছু বায়োঅ্যাক্টিভ যৌগ রয়েছে। এগুলো দেহে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ, সজনে ডাঁটা খেলে শারীরিক প্রদাহ কমবে। প্রদাহ প্রতিরোধেরও কাজ করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে চাইলে গরমে সজনে ডাঁটা খাওয়া উচিত। সজনে ডাঁটার মধ্যে ভিটামিন সি রয়েছে, যা ইমিউন ফাংশনকে সাপোর্ট করে। অর্থাৎ, সংক্রমণ বা কোনও রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ফ্রি র্যাডিকেলের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করে।
সজনে ডাঁটার মধ্যে ক্যালোরির পরিমাণ কম এবং ফাইবার বেশি। তাই রোজের ডায়েটে সজনে ডাঁটা রাখলে ওজন কমতে বাধ্য। আর নিয়মিত সজনে ডাঁটা খেতে থাকলে ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও নেই। এটি খিদেকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং অত্যধিক খাবার খাওয়া থেকে আপনাকে দূরে রাখে।







