WITT: “এ স্কোয়ার প্লাস বি স্কোয়ার করে কখনও কলা কিনেছেন?”, ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান এডুকেশনে’র দাবি মানের – Bengali News | TV9 Network What India Thinks Today Satta Sanmelan: Punjab CM Bhagwant Mann Calls for One Nation One Education, Shares his Childhood Memory
সত্তা সম্মেলনে ভগবন্ত মান।Image Credit source: TV9 Network
নয়া দিল্লি: প্রধান শিক্ষকের ছেলে, ছোটবেলায় নাকি স্কুলে বেধড়ক মার-ও খেয়েছেন। TV9 নেটওয়ার্কের “হোয়াট ইন্ডিয়া থিঙ্কস টুডে”-র সত্তা সম্মেলনে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শৈশবের অভিজ্ঞতাই ভাগ করে নিলেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। এক দেশ, এক শিক্ষা ব্যবস্থার দাবি করলেন তিনি।
এ দিন সত্তা সম্মেলনে “আপ কি মান” শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে শৈশবের স্মৃতিচারণ করেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। তিনি বলেন, “মানুষ ভাবে এক, পরমাত্মা তার জন্য ভেবে রাখেন অন্য কিছু। আমার বাবা বিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন। ক্লাস ৬-৭ এ সবাই দুষ্টুমি করে, আর আমি সেটাই করতে পারতাম না কারণ বাবাই স্কুলে নিয়ে আসত। সত্যি কথাটা হল শিক্ষকের সন্তানরাই বেশি মার খায়। আমি স্কুলে শিক্ষকদের অনুকরণ করতাম। তাই মার-ও খেতাম। শিক্ষকদের পড়ানোর মতো মারার স্টাইলও আলাদা হয়। আমি সেগুলি অনুকরণ করতাম। আমি এটাকে কলা বলেই মনে করতাম। পড়াশোনায় ভাল ছিলাম তাই দুষ্টুমি চাপা পড়ে যেত। আপনারাই বলুন, আমাদের পড়ানো হয় এক জিনিস, বাস্তব জীবনে কাজে লাগে অন্য কিছু। আপনি কখনও এ স্কোয়ার প্লাস বি স্কোয়ার ব্যবহার করে কি কখনও কলা কিনেছেন? ট্যান থিটা- কস থিটা ব্যবহার করেছেন জীবনে কোনও কাজে? ডাক বিভাগের চাকরিতে একজনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল চাঁদের সঙ্গে পৃথিবীর দূরত্ব কত। ওখানে কি চিঠি দিতে হবে? এমন জিনিস পড়ানো হোক, যা বাস্তবে কাজে লাগবে।”
স্কুলে বেতন কমানোর আর্জি লেখার চিঠির উদাহরণ তুলে ধরেও ভগবন্ত মান বলেন, “ফিজ কমানোর আর্জি চিঠি লিখতে বলেছিলেন ম্যাম। সবার মতো আমিও লিখেছিলাম বাবা খুব গরিব, চাপরাশির কাজ করেন। তিন ভাই-বোন রয়েছে বাড়িতে। ওই আর্জি লিখে ফুল মার্কসও পেয়েছিলাম। কিন্তু মন খচখচ করছিল। বাড়ি ফেরার সময় আমি বাবাকে প্রশ্ন করেছিলাম কেন আমায় পড়াচ্ছো? বাবা বলেছিলেন, শিক্ষিত করার জন্য। আমি বললাম ভুল পড়াচ্ছো। ওই চিঠি দেখিয়ে বলি, আমি হেডমাস্টার অর্থাৎ তোমাকেই চিঠি লিখছি, এদিকে লিখছি যে আমার বাবা চাপরাশি। চিঠিতে তিন ভাইবোনের কথা লিখেছি, তৃতীয়জন কোথায়? তখন বাবা বলেছিল, গরিবি না লিখলে ফিজ কম হবে না। হয়তো আমার মুখে সেদিন সরস্বতী বসেছিল, তাই বলেছিলাম আমার হাতে যদি এমন পেন থাকে, তবে এই মিথ্যা লিখতে হবে না। আমরা সেই রকমই ফর্ম আনছি পঞ্জাবে। কেন ক্লাস ৫-৬ এর পড়ুয়াদের মাফির আর্জি শেখাতে হবে? প্রাইভেট স্কুলের পড়ুয়াদের তো এটা শেখানো হয় না।”
“ওয়ান নেশন, ওয়ান এডুকেশন” হওয়া উচিত, এমনটাই দাবি করেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “পঞ্জাবে স্কুল অব এমিনেন্স খুলেছি। সেখানে ক্লাস ৯ থেকে যে যা বিষয়ে পড়তে চায়, তাই-ই পড়ানো হবে।”
নিজের কমেডিয়ান কেরিয়ার নিয়েও মান বলেন, “মা-বাবারা নিজেদের অপূর্ণ স্বপ্ন সন্তানের উপরে চাপিয়ে দেয়। আমি বলি, সবাই চিকিৎসক হলে, রোগী কে হবে। সবাই পাইলট হলে, প্যাসেঞ্জার কে হবে। বাবাকে লুকিয়ে লুকিয়ে যেতাম। ট্রফি জিতেছিলাম। খুব খুশি ছিলাম, আবার চিন্তা ছিল যে বাবা দেখলে মারবে। একজন জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আমি তাঁকে ট্রফি দিয়ে দিয়েছিলাম। পঞ্জাবের বেস্ট কমেডিয়ানের অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলাম। বাবা ইন্টারভিউতে বলছিল যে হ্যাঁ আমি জানতাম ছেলের মধ্যে ট্যালেন্ট রয়েছে। আমি বললাম মিথ্যা বলছে। ফাদার অব লিখতে শুরু করেছিলেন।”