Sandeshkhali: ‘একটাই আলু পচা আর তার রসই লাগছে বাকিদের গায়ে’, শাহজাহান-শিবু-উত্তম নয়, গ্রেফতারির আগের রাতেই বড় কথা বলে যান সন্দেশখালির তৃণমূল নেতা অজিত – Bengali News | Sandeshkhali: Sheikh Shahjahan, Uttam Sardar, not Shibu Hazra, Sandeshkhali Trinamool leader Ajit Maiti’s explosive claim before arrest
অজিত মাইতি গ্রেফতারের আগে কী বলেছিলেন? Image Credit source: TV9 Bangla
সন্দেশখালি: শেখ শাহজাহানের সাম্রাজ্যে কি বেনিয়মটাই নিয়ম? প্রশ্নটা তুলছেন সন্দেশখালির বাসিন্দারাই। যেখানে জেটি তৈরি হওয়ার কথা ছিল, সেখানে কেবল ২৪ টা সিঁড়ি তৈরি করা হয়েছে। আর তাতে নাকি খরচ হয়ে গিয়েছে ৪ লক্ষ টাকা। অভিযোগ তেমনই। আর সেই অভিযোগের সত্যতা গ্রেফতারির আগে কার্যত নিজেই স্বীকার করেছেন তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি অজিত মাইতি। তাঁকে নিয়েই বিতর্কের শেষ নেই। অথচ তিনিই বলেছিলেন, “এক বস্তার আলুর মধ্যে যদি একটা আলুও পচে যায়, তার রস আর দাগ লাগতে লাগতে সব আলুই পচে যায়।” সেই একটা আলু কে? সেটাই বড় প্রশ্ন।
তৃণমূলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা, এলাকার ত্রাস শেখ শাহজাহান বাহিনীর বিরুদ্ধে সন্দেশখালিতে এখন লাগাতার জনরোষ। শাসকদলের নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ভূরি ভূরি অভিযোগ করছেন গ্রামবাসীরা।
অভিযোগ এমনও ওঠে, রাস্তা তৈরির ইট নিয়েই নিজেই বাড়ি বানিয়ে দিয়েছিলেন শেখ শাহজাহানের ভাই ডাক্তার সিরাজউদ্দিন। এবার জেটি ঘাট তৈরির নামেও টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ। গত কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় উত্তপ্ত বেড়মজুর। নদীপাড় এলাকায় হওয়ায় বেড়মজুরের পোলপাড়ায় জেটি তৈরির কথা ছিল।
এখন গেলে দেখা যাবে, নদীপাড়ে রয়েছে ২৪টা সিঁড়ি। আর সেটাও নাকি জেটিঘাট। সেই জেটিঘাট তৈরি করতেই খরচ হয়ে গিয়েছে ৪ লক্ষ টাকা। বেড়মজুর ১নম্বর পঞ্চায়েত এলাকায় জেটিঘাট তৈরি নিয়ে যাবতীয় বিতর্ক। ২০১৫-১৬ সালে ভাঙাপোলে জেটিঘাট তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়। কিন্তু বাস্তবে কোথায় জেটি? খুঁজে পাবেন না কিন্তু, খুঁজে পাবেন কেবল ২৪ টা সিঁড়ি।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “এখানে থেকে জেটি ঘাট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোথায় কী! বুঝতে পারছেন না।” ২৪টা সিঁড়ির পাশে রয়েছে একটি ফলক। সেটিও আবার ভাঙা। আর তাতে লেখা রয়েছে, ‘জেটিঘাট তৈরি করতে খরচ হয়েছে ৪ লক্ষ টাকা।’ কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, সিঁড়ি তৈরি করতেই লক্ষাধিক টাকার খরচ? তাও আবার হয় নাকি! গ্রামের এক মহিলা বলেন, “টাকাটা বুঝতে পেরেছেন কোথায় গিয়েছে? যাঁরা করেছেন, তাঁরা লুটেপুটে নিয়েছে।” আরেক মহিলা বলেন, “পঞ্চায়েত কথা শুনলে তো পঞ্চায়েতে বলব। ওরা তো কিছুই শোনে না। মেয়েরা শাড়ি উঁচু করে নৌকয় ওঠে, ন্যাজাটে যাওয়াআসা করে।”
এলাকার বিধায়ক সুকুমার মাহাতোর বক্তব্য, “জেটিঘাটের কাজ কী হয়েছে, আমার বিষয়টা জানা নেই। তবে আমার মনে হয় কাজ সম্পূর্ণ হয়নি।” এখানকার একটা একটা বিষয়ই সন্দেশখালির মানুষের ক্ষোভের কারণ।
৪ লাখি জেটি ঘাট!
বেনিয়ম যে হয়েছে, সেকথা স্বীকার করে নিয়েছেন, এলাকারই বিতর্কিত তৃণমূল নেতা অজিত মাইতি। তখনও তিনি গ্রেফতার হননি। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল অজিত মাইতি। গ্রেফতারের আগেই তিনি TV9 বাংলাকে দুর্নীতির কথা কার্যত স্বীকার করেছিলেন অজিত। বলেছিলেন, “সিঁড়ি তৈরি করতেই নাকি ৪ লক্ষ টাকা! এক বস্তার আলুর মধ্যে যদি একটা আলুও পচে যায়, তার রস আর দাগ লাগতে লাগতে সব আলুই পচে যায়। এর আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু নেয়নি।” বিস্ফোরক দাবি করেছিলেন অজিত মাইতি। এই বক্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অজিত মাইতিকে পুলিশ আটক করে। আর সোমবার সকালে গ্রেফতার। অবশ্য এই অজিত মাইতির বিরুদ্ধেও জনরোষ আছড়ে পড়েছে বেশ কয়েকদিন ধরেই।