Jadavpur University: ‘ভালোভাবে পরীক্ষা দিতে চাইলে স্যরের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতে হবে’, পরীক্ষার হল থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে JU-তে অধ্যাপকের যৌন প্রস্তাবের অভিযোগ – Bengali News | Jadavpur university Allegation of bad proposition against a professor of Jadavpur University
কলকাতা: আবারও শিরোনামে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়! নেপথ্যে যৌন হেনস্থার অভিযোগ। অভিযোগ, প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে পরীক্ষা হল থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে যৌন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগের প্রাক্তন প্রধান। প্রথম বর্ষের ওই ছাত্রীর অভিযোগ, ওই অধ্যাপক তাঁকে পরীক্ষা হল থেকে নিয়ে গিয়ে যৌন চাহিদা মেটানোর প্রস্তাব দেন। অভিযোগ ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। ওই ছাত্রী একটি ইমেলের মাধ্যমে ঘটনাটি জানিয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্নেহমঞ্জু বসু,UGC- চেয়ারম্যান মি. জগদীশ কুমার, প্রো ভাইস চ্যান্সেলর অমিতাভ দত্ত- সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শীর্ষ আধিকারিকদের।
ছাত্রীর মেইলে দেখা বয়ান অনুযায়ী, ঘটনাটি গত বুধবারের। ২১ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষা ছিল। ছাত্রীর বয়ান অনুযায়ী, হঠাৎই পরীক্ষা তাঁকে বলেন অভিযুক্ত অধ্যাপক তাঁকে নিজের ঘরে ডাকছেন। এরপর ওই গার্ডই তাঁকে অধ্যাপকের ঘরে নিয়ে যান। গার্ড নিজে ওই অধ্যাপকের ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে থেকে, ছাত্রীকে ভিতরে ঢুকতে বলেন।
ছাত্রীর বয়ান অনুযায়ী, অধ্যাপক তাঁকে দেখেই হাত ধরে সজোরে টেনে ভিতরে ঢোকান। এরপর তাঁর হাতে কালি ঢেলে দেন। মেইলে ছাত্রী লিখেছেন, ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয়ে যান তিনি। অধ্যাপক ছাত্রীকে বলেন, তিনি নাকি হাতে উত্তর লিখে এসেছেন। এরপর ওই ছাত্রী জানান, তিনি তাঁর হাতের ছবি তুলে রাখতে চান। ছাত্রীর কথায়, “আমি স্যরকে বলি আমি আমার হাতের ছবি তুলে রাখতে চাই। স্যরকে বলি, আপনি যা করছেন, তার প্রমাণ রাখতে চাই। যেভাবে আমার ওপর শারীরিক নির্যাতন হয়েছে, তার অভিযোগের প্রামাণ্য সাপেক্ষে এই ছবি দেখাতে পারি। ”
ছাত্রীর অভিযোগ, এরপর ওই অধ্যাপক সজোরে তাঁকে টেনে নিয়ে গিয়ে নিজেই সাবান দিয়ে জোরে জোরে ঘষে হাত ধুয়ে দেন। এবং বাংলায় বলতে থাকেন, ‘আমি যা চাই, তুমি যদি তা না করো আর যদি আমার চাহিদা না মেটাও, তাহলে আমি তোমাকে চিরতরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বার করে দেবো।’
এখানেই শেষ নয়, আরও অভিযোগ, এরপর ওই ছাত্রীকে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁরই বিভাগীয় প্রধানের কাছে। যদিও বিভাগীয় প্রধান ছাত্রীর ওপরেই আস্থা রেখেছিলেন। সব মিটিয়ে পরীক্ষা শেষ হওয়ার ২-৩ মিনিট আগেই হলে পৌঁছাতে পারেননি ছাত্রী। কিন্তু ভয়ে আর আকস্মিকতায় ছাত্রী আর পরীক্ষা দিয়ে উঠতে পারেননি। ছাত্রীর বয়ান অনুযায়ী, কাঁদতে কাঁদতে হল ছাড়ছিলেন, সে তাঁর সামনে এসে দাঁড়ান দুই সিনিয়র ছাত্র।
ছাত্রীর বিস্ফোরক অভিযোগ, ওই দুই সিনিয়র ‘দাদা’ তাঁকে বলেন, “অধ্যাপকের সঙ্গে গিয়ে একান্তে দেখা করতে হবে”। যৌন সম্পর্কই অধ্যাপকের রাগ ভাঙাতে পারে বলে ওই সিনিয়র দাদারা তাঁকে বলেছিলেন বলে অভিযোগ। ছাত্রীর অভিযোগ, “ভালোভাবে পরের পরীক্ষাগুলো দিতে চাইলে স্যরের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতে হবে। বাকি কোনও অসুবিধা যাতে না হয়, তা আমরা দেখে নেব!”
ছাত্রী মেইল মারফত অভিযোগ জানিয়েছেন রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন লিনা গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছেও। এ প্রসঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইমন কল্যাণের বক্তব্য, “আমি এবিষয়ে এখন কিছু বলব না। কারণ এটা একটা অফিসিয়াল বিষয়। গোটা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে।” অন্যদিকে, অভিযুক্ত অধ্যাপকের বক্তব্য, “আমি সেদিন পরীক্ষাহলে ছিলামই না। ওই গার্ড ছিলেন। আমি এর থেকে বেশি কিছু বলব না। কারণ আমাদের এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে অফিসিয়ালি কিছু জানানো হয়নি।”