Kim Jong Un: এবার কি যুদ্ধ এশিয়ায়? এই উপদ্বীপকে নিয়ে উদ্বেগে বাকি বিশ্ব – Bengali News | Kim Jong Un changes stance towards USA and South Korea, is he planning for war?
পিয়ং ইয়ং: চারদিন পরই তিন বছরে পা দেবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। গাজার যুদ্ধ থেকে ধীরে ধীরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে মধ্য প্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অংশে। পরের যুদ্ধ কোথায়? নজর ঘুরছে কোরিয়া উপদ্বীপে। বিশেষ করে উত্তর কোরিয়ার স্বৈরশাসক কিম জং উনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলি উদ্বেগ তৈরি করেছে কোরিয়া নিয়ে। এতদিন পর্যন্ত, দক্ষিণের বিরুদ্ধে গরম গরম বিবৃতি দিলেও, উত্তর-দক্ষিণ পুনর্মিলনের কথা বলতেন তিনি। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দ্বন্দ্ব মেটানোর জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপও করেছিলেন। কিন্তু, অতি সম্প্রতি দক্ষিণের প্রতি তাঁর মনোভাব বদলে গিয়েছে। দক্ষিণের সঙ্গে মিশে যাওয়ার আর কোও প্রচেষ্টাই তাঁর দিক থেকে দেখা যাবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন কিম। বরং, দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘স্থায়ী শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি। সম্প্রতি এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে কিম বলেছেন, “উত্তর কোরিয়া যুদ্ধ চায় না। কিন্তু তাই বলে আমরা যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসব না।”
এই বিবৃতির পাশাপাশি, গত কয়েক মাসে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, সামরিক বাহিনীকে যুদ্ধের জন্য তৈরি হতে নির্দেশ দেওয়ার মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ করেছেন তিনি। যা আন্তর্জাতিক মহলে কোরিয়া উপদ্বীপের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে, যে কোনও সময়ে দুই কোরিয়ার সশস্ত্র যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। উত্তরের উসকানিতে অল্প সময়ের মধ্যেই দুই দেশ, পরস্পরকে লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ শুরু করে দিতে পারে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। এমনকি আকাশপথেও হামলা শুরু হতে পারে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কিম জং উন সম্ভবত যুদ্ধকেই তাঁর নীতির অংশ করতে চলেছেন। অনেকে অবশ্য মনে করছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে উত্তর যুদ্ধ শুরু করলে, তা সরাসরি আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুরই সামিল। তাতে তাঁর শাসনই হুমকির মুখে পড়বে। বদলে যুদ্ধের প্রস্তুতি প্রদর্শন করে, উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন তিনি।
দক্ষিণকে স্থায়ী শত্রু ঘোষণা করার পিছনে, তাদের পরমাণু অস্ত্র ভান্ডার বৃদ্ধির কৌশল রয়েছে বলে দাবি করেছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। স্বৈরাচারী কিমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহল একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই অবস্থায় দক্ষিণের থেকে যুদ্ধের হুমকি রয়েছে বলে দেখাতে পারলে, পরমাণু অস্ত্র ভান্ডার বৃদ্ধি নিয়ে তার উপর আন্তর্জাতিক মহলের চাপ কমতে পারে। তাঁর সবথেকে বড় শত্রু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়া। পারমাণবিক শক্তি বৃদ্ধির ফলেই, এই দুই দেশ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী বলে মনে করেন তিনি। তিনি মনে করেন, পারমাণবিক অস্ত্র থাকার কারণেই, তাঁর স্বৈর শাসনকে সরাসরি আক্রমণ করতে চাইবে না আমেরিকা বা দক্ষিণ কোরিয়া।
তবে, মার্কিন প্রশাসন মনে করছে, যতই হুমকি দিন, সরাসরি যুদ্ধের রাস্তায় যাবেন না কিম জং উন। আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসতে অনাগ্রহ দেখানো ছাড়া, আগের থেকে তাঁর অবস্থানে বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। তিনি সম্ভবত এই মুহূর্তে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহী নন। তবে আমেরিকার মতে, যুদ্ধ নয়, বরং শান্তিই চায় কিম প্রশাসন। তার আসল লক্ষ্য হল যেভাবে হোক ক্ষমতা ধরে রাখা। বর্তমানে কিম বন্ধু হিসেবে খুঁজে নিয়েছেন রাশিয়া এবং চিনকে। বর্তমান পৃথিবীতে আমেরিকার প্রভাব ক্রমে কমছে। বিশ্ব হয়ে উঠছে বহুমেরুর। আর তাই, এখন আমেরিকাকে বিশেষ পাত্তা দিচ্ছেন না কিম জং উন।