Sandeshkhali Case: ‘ঠিকানাটা দেখুন স্যর… দুটো নদী পার করতে হয়’, ধর্ষণের মামলায় কী কী যুক্তি দিলেন সন্দেশখালির শিবু? – Bengali News | Shibu Hazra, accused of Sandeshkhali women harassment case produced in court
আদালতে পেশ করা হল শিবু হাজরাকেImage Credit source: TV9 Bangla
কলকাতা: গত কয়েকদিন ধরে রাজ্য রাজনীতির শিরোনামে উঠে এসেছে শিবু হাজরার নাম। শেখ শাহজাহান ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এই নেতার বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে সন্দেশখালির প্রত্যন্ত এলাকা থেকে। রাতের অন্ধকারে দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হত, এমন অভিযোগ সন্দেশখালির একাধিক মহিলার। শিবু হাজরার হাত যে পুলিশের থেকেও লম্বা, তেমনটাও দাবি করেছেন গ্রামবাসীরা। তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া মামলায় গণধর্ষণের ধারা যোগ হওয়ার পর। শুক্রবার রাতে ধরা পড়েছেন সেই শিবু। শনিবার সকালে তাঁকে পেশ করা হল বসিরহাট মহকুমা আদালতে। জামিনের আর্জি জানিয়ে এদিন আদালতে একাধিক যুক্তি দেন শিবু।
পুলিশ এদিন শিবু হাজরার পুলিশ হেফাজতের আর্জি জানান। তদন্তকারী অফিসার বলেন, ‘এই কেসে আরও অনেকে থাকতে পারে, সেটা জানার দরকার আছে। তদন্তের জন্য অনকে কিছু বাজেয়াপ্ত করার প্রয়োজনীয়তা আছে। তাই ১০ দিনের হেফাজত চাই।’
শিবুর আইনজীবী বিচারককে বলেন, ‘আসামির ঠিকানাটা দেখুন স্যর।’ লেখা আছে ‘শিবু হাজরা, ঠিকানা জেলিয়াখালি।’ আইনজীবী উল্লেখ করেন, শিবুর বিরুদ্ধে যে মহিলা অভিযোগ জানিয়েছেন, তিনি সন্দেশখালির বাসিন্দা। তাঁর দাবি, যেখানে ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ, সেখানে যেতে গেলে জেলিয়াখালি থেকে দুটো নদী পার করতে হয়, বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। আইনজীবী বলেন, ‘এর থেকে স্পষ্ট অভিযোগকারিনী অভিযুক্তকে কতটা চেনেন, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। এটা একটা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। সাজানো ঘটনা। গ্রেফতারির ক্ষেত্রেও যথাযথ নিয়ম মানা হয়নি। অবৈধভাবে তদন্ত হচ্ছে।’ দু পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে রায়দান স্থগিত রাখা হয়েছে।
শিবু হাজরার আইনজীবী উল্লেখ করেন, গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম এফআইআর দায়ের হয়। ১৫ তারিখে ১৬৪ হয় (গোপন জবানবন্দি)। তাঁর দাবি, এফআইআরে যা বলা হয়েছে, তার সঙ্গে গোপন জবানবন্দির অনেক তফাৎ। জনবহুল এলাকায় ভরদুপুরে কীভাবে গণধর্ষণ সম্ভব? সেই প্রশ্নও তুলেছেন শিবুর আইনজীবী। মেডিক্যাল রিপোর্ট কোথায়, জানতে চেয়েছেন তিনি। যে কোনও শর্তে জামিনের আর্জি জানানো হয়েছে শিবুর তরফে।
সন্দেশখালি-২ ব্লকের সভাপতি শিবু হাজরা। যৌন নির্যাতনের ঘটনায় নাম জড়ায় ওই নেতার। আদালতের নির্দেশে শিবুর বিরুদ্ধে মামলায় শনিবার দু’টি ধারা যোগ করে পুলিশ। একটি গণধর্ষণের ধারা, আর একটি গণধর্ষণের চেষ্টার ধারা। এরপরই গ্রেফতার হন শিবু।