ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর শুটিংয়ে দেরি করে আসায় ‘প্যাকআপ’ বলেন দুলাল লাহিড়ী, ‘নাকের জলে চোখের জলে’ হতে হয় টলিকুইনকে – Bengali News | This was what actor dulal lahiri did to actress rituparna sengupta for coming in late in a shooting
অভিনেতা দুলাল লাহিড়ী (বাঁ দিকে); অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।
ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর প্রযোজনায় অভিনেতা দুলাল লাহিড়ী একটি ছবির পরিচালনা করেছিলেন। সেই ছবির নাম ছিল ‘বৃষ্টির ছায়াছবি’। তাতে অভিনয়ও করেছিলেন ঋতুপর্ণা। সেই ছবির শুটিং করার সময় এক ঘটনা ঘটে। তাতে নাকের জলে, চোখের জলে হতে হয় অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে। এক সাক্ষাৎকারে সেই বিবরণ দিয়েছেন অভিনেতা দুলাল লাহিড়ী।
ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর বিরুদ্ধে একটা কথা খুবই শোনা যায় ইন্ডাস্ট্রিতে। কেউ এর নিন্দা করেন, কেউ রসিকতা। তিনি নাকি খুবই দেরি করে নিয়ে আসেন শুটিং ফ্লোরে। ‘বৃষ্টির ছায়াছবি’ ছবির শুটিংয়ের সময় সেরকমই এক ঘটনা ঘটিয়েছিলেন ঋতুপর্ণা। সকাল ৯টায় কল টাইম ছিল। পরিচালক দুলাল লাহিড়ী যথাসময়ে সেটে পৌঁছে গিয়েছিলেন। তারপর সেখানে গিয়ে দেখেছিলেন অভিনেত্রী, তথা প্রযোজক ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত আসেননি। দেড় ঘণ্টা পর পৌঁছেছিলেন ঋতুপর্ণা। অভিনেত্রীর আগমনের পরই প্যাকআপ (সেদিনকার মতো শুটিংয়ে ইতি) করে দিয়েছিলেন দুলাল। খুবই অবাক হয়ে ঋতুপর্ণা বলেছিলেন, “এ কী আপনি প্যাকআপ করে দিয়েছেন।” ঋতুপর্ণাকে দুলাল সেদিন বলেছিলেন, “তোকে কেউ কিছু বলে না বলে তুই খুব বেড়েছিস। এই দেরি হওয়ায় যে ক্ষতি হবে, সেটা তুই বুঝতে পারবি। তুই এই ছবির প্রযোজক। এটা তোর আরও বেশি ভাল করে বোঝা উচিত।।”
এই ধমক খেয়ে কাঁদতে থাকেন ঋতুপর্ণা। তাঁর চোখের জল দেখে খানিকটা মায়া হয় দুলালের। কাঁদতে-কাঁদতে ঋতুপর্ণা সেদিন দুলালকে বলেছিলেন, “এরকম আর কোনদিনও হবে না। তোমার শুটিংয়ে আমি দেরি করে আর কোনওদিনও আসব না।” দুলাল ঋতুপর্ণাকে সেদিন সাবধান করে এও বলেছিলেন, “শুধু আমার জন্য নয়। এরকমটা আর কারও সঙ্গে করবি না। সেই থেকে আর কোনওদিনও দুলাল লাহিড়ীর সঙ্গে কাজ করার সময় দেরি করে পৌঁছনি ঋতুপর্ণা।”
এই খবরটিও পড়ুন
‘বৃষ্টির ছায়াছবি’ ছবিটি সেন্সর বোর্ড পাশ করে দিলেও সেটি কোনওদিনও মুক্তি পায়নি। তবে সেই ছবির শুটিংয়ে দুলাল যে ধমক টলিকুইনকে দিয়েছিলেন, তা মনে রয়েছে গিয়েছে উভয়েরই। ঋতুপর্ণাকে অত্যন্ত স্নেহ করেন দুলাল লাহিড়ী। তিনি কেমন অভিনেত্রীর সেই প্রসঙ্গে বলেছেন, “ও খুব ভাল অভিনেত্রী। খুব পরিশ্রম করেছে জীবনে। সেই জন্যই আজকে এই জায়গায় এসে পৌঁছেছে ও।”