প্রেমের মন আর মনের মস্তিষ্ক, কতটা ‘গহেরাইয়াঁ’ Gen Z-এর প্রেমে? - Bengali News | Amidst the eternal debate between heart and mind how mindful is the generation z when it comes to love - 24 Ghanta Bangla News
Home

প্রেমের মন আর মনের মস্তিষ্ক, কতটা ‘গহেরাইয়াঁ’ Gen Z-এর প্রেমে? – Bengali News | Amidst the eternal debate between heart and mind how mindful is the generation z when it comes to love

Spread the love

প্রেমের মন আর মনের মস্তিষ্ক, কতটা ‘গহেরাইয়াঁ’ Gen Z-এর প্রেমে?Image Credit source: অলঙ্করণ: অভিজিৎ বিশ্বাস

অমর্ত্য মুখোপাধ্যায়

‘দিল চাহতা হ্যায়’ থেকে ‘জ়িন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ হয়ে ‘খো গয়ে হম কাঁহা’। ২০০১ থেকে ২০১১ হয়ে ২০২৩—গত ২৩ বছর ধরে ‘আধুনিক’ (modern), থুড়ি ‘সমসাময়িক’ (contemporary) প্রজন্মের নতুন থেকে নতুনতর হয়ে-ওঠার সংজ্ঞা তৈরি করেছে বলিউড। ‘এন্টারটেনমেন্ট, এন্টারটেনমেন্ট, এন্টারটেনমেন্ট’… লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটে সিঙ্গল স্ক্রিনে সিনেমা-দেখা নাইনটিজ় কিড-এর দল পরবর্তীতে যখন মাল্টিপ্লেক্সে মিলেনিয়ালদের সঙ্গে মুভি দেখতে গিয়েছে, তখন সে কল্পনাও করেনি মোবাইল-প্যাড-কানেক্টেড টিভিতে ওটিটি-র কনটেন্ট ওয়াচলিস্ট-এ রেখে তারিয়ে-তারিয়ে উপভোগ করতে পারবে তারা একদিন জেন জ়ি-এর সঙ্গে। আসলে সময়েরও বয়স বাড়ে। যদিও সময়ের সেই বয়ঃপ্রাপ্তি (নাকি পরিণত হওয়া?) চোখে পড়ে না। তাকে ব্যবহার করতে হয় না কোনও অ্য়ান্টি-এজিং ক্রিম, কারণ সে আবহমান। যদিও আজকের সময়ের আবহ বা ব্যাকগ্রাউন্ড-এ রিলস আর শর্টস। লাইক (like) আর লাভ (love)-এর অনন্ত চাহিদা, শব্দহীন ও ভাবলেশহীন ইমোজির স্বীকৃতি, সত্যিকে মুহূর্মুহূ নিজের মতো করে নিতে-পারা ফিল্টারের দর্প, আর সোয়াইপ রাইটের বিরামহীন ‘চয়েস’কে স্বাধীনতা বলে বিশ্বাস করা—‘কানেক্টেড’ পৃথিবীর সম্পর্ক (পড়ুন ভালবাসা) কি ‘পোস্ট ট্রুথ ওয়ার্ল্ড’ (post-truth world)-এর এই টেকনোক্রেসি (technocracy)-র মধ্যে কোথাও একটু গন্তব্যচ্য়ুত? নাকি বর্তমান সময় নিজের মতো করে খুঁজে নিতে চাইছে তার প্রিয় স্টেশন—অভীষ্ট (সেই স্টেশনে খুব বেশি ক্ষণ অপেক্ষা করতে চাইছে না হয়তো)? হাত ধরতে চাওয়ার নিখাদ রোম্যান্টিক ইচ্ছের গভীরে সেই হাত হঠাৎ (পড়ুন ব্লক করে) ছেড়ে না-যাওয়ার অনুচ্চারিত শপথ কি একইভাবে অনুরণিত হয় আজ—যে aaj-এর love ছিল kaal-ও (থাকবেও আগামিদিনে)?

কথা যখন হচ্ছে সমসাময়িকতা নিয়ে, তখন এই ‘একইভাবে’ অথবা ‘আজ’-এর গুরুত্বই বা থাকতে হবে কেন কথায়-কথায়? যে পৃথিবীতে ওয়াই-ফাই কানেকশন না-পেলে বুক ধড়ফড় করে, সেখানে ‘দিল ধড়কনে দো’র রিংটোনও যেন ভীষণ আপবিট (upbeat)। তাহলে সম্পর্ক নিয়ে, ভালবাসাকে কেন্দ্র করে ‘দিল’ ঠিক কি ‘চাহতা হ্যায়’ Gen Z-র? TV9 বাংলা যোগাযোগ করল কলকাতা শহরের এক তরুণ সাইকোলজিস্টের সঙ্গে—চিত্রকণা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। বোঝার চেষ্টা করল যেখানে ওয়ার্ক-লাইফ ইমব্যাল্য়ান্সটাই অনেকাংশে সাফল্যের মাপকাঠি, সেই ‘টু ফাস্ট টু ফিউরিয়াস’ ব্য়স্ত নাগরিক সভ্যতায় প্রেম কি কখনও একটু শান্ত হয়ে বসতে চায় পার্কের বেঞ্চে মোবাইল নোটিফিকেশন চেক করার ফাঁকে—সচেতন ব্রেক নিয়ে? নাকি সেই প্রেমও ছুটে চলেছে ডেলিভারি পার্সনের মতো ভীষণ দ্রুততার সঙ্গে, জ়িগজ়্যাগ ভঙ্গিতে? কী প্রয়োজন এই প্রেমের—ফাইভ স্টার রেটিং নাকি ক্রিটিক্য়াল ফিডব্যাক? প্রযুক্তি এবং অ্যালগোরিদম যেখানে প্রতি পলে-অনুপলে নির্ধারণ করে দিচ্ছে প্রেমের ইমেজ, ইমেজের এডিট অপশন, অপশনের অন্তহীন বিকল্প, বিকল্পের খোঁজে থাকতে-থাকতে burnout যখন নিত্যসঙ্গী, সঙ্গীরা ভার্চুয়ালি কানেক্টেড হলেও শারীরিক স্পর্শ থেকে দূরে, আরও দূরে, ক্রমশ দূরে… সেখানে কতটা ‘গহেরাইয়াঁ’ থাকছে প্রেমজ সম্পর্কে?

এই খবরটিও পড়ুন

CHITROKONA

প্রশ্ন: পলিটিক্যালি কারেক্ট থাকার অভ্যেস এবং লাইফস্টাইলের মধ্যে যে একটা ব্য়গ্রতা বা restlessness রয়েছে, তা Gen Z-র সম্পর্ক (relationship) এবং প্রেমজীবন (love life)-কে কতটা প্রভাবিত করছে?
উত্তর: Gen Z-এর কাছে ‘woke’ হওয়াটা বড্ড জরুরি। অর্থাৎ political correctness দিয়ে বা কে কতটা social accountability নিতে পারছে, এই দু’টো পয়েন্ট দিয়ে তারা মোটামুটি একজনের ব্যক্তিত্ব মাপে। সেটা যে সম্পূর্ণ অর্থহীন বা খারাপ, তা নয়, কারণ এর দৌলতেই এখন অনেকেই বাধ্যতামূলকভাবে নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রেজ়েন্স-এ আপডেটেড থাকার প্রচেষ্টা করে। ভুল-ভ্রান্তি, ঘৃণাপূর্ণ কথা, প্রেজুডিজ় ইত্যাদি প্রকাশ করার আগে এখন একজন পাঁচবার ভাবে।
কিন্তু এর সঙ্গে সঙ্গে একটা প্রত্যাশা আসে যে, আমি যাদের সঙ্গে সম্পর্কে ঢুকছি—সেটা যে প্রকারের সম্পর্কই হোক না কেন (রোম্যান্টিক, প্লেটোনিক, প্রফেশনাল)—তাদের খুব পারফেন্ট বা নিখুঁত হতে হবে। তারা সব কিছুর ব্যাপারে সর্বদাই আপডেটেড থাকবে। যেহেতু এটা একটা পয়েন্টের পর সম্ভব নয়, Gen Z তাই সহজেই হতাশ হয়ে পড়ে। একটা অধৈর্য্য ভাব দেখা যায়। ফলে সম্পর্কগুলোকে বাতিল বা ‘ডিসমিস’ করে দেওয়ার একটা প্রবণতা থাকলেও থাকতে পারে।

প্রশ্ন: সেই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে স্বীকৃতি বা external validation পাওয়া; লাইক, লাভ-এর মতো পুরস্কার বা reward পেয়ে চলাকে যেভাবে ক্রমাগত ভালবাসা হচ্ছে, তাতে বাস্তবজীবনের ভালবাসা-প্রেম অথবা সম্পর্ককে Gen Z ঠিক কীভাবে দেখে?
উত্তর: সোশ্যাল মিডিয়ার reward-নির্ভরতা যে শুধু Gen Z-এর উপরে প্রভাব ফেলে, এটা বলা ঠিক হবে না। এখন আমরা সকলেই—জেনারেশন বা প্রজন্ম—নির্বিশেষে, মোবাইল ফোনের দাস। আমাদের সকলেরই ভাল লাগে চটজলদি validation (এক্ষেত্রে স্বীকৃতি) পেতে। মানুষের মস্তিষ্কের নির্মাণ বা গঠনটাই অনেকটা এরকম যে, সহজেই খুব pleasurable কিছু পেলে ছাড়তে চায় না। একটা নেশার আকার নেয় প্রায়। তবে হ্যাঁ, যেহেতু GEN Z বয়সের তুলনায় যেহেতু ছোট এবং সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়া তাদের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা কম (যদিও এতে তাদের কোনও দোষ নেই, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যাপারটা এসেছেই তাদের বড় হওয়ার সঙ্গে সমান্তরালভাবে), সেক্ষেত্রে একটা হঠকারিতা থাকতে পারে। একটা সম্পর্ককে গভীরতা পর্যন্ত নিয়ে যেতে হলে যে দু’টো মানুষকে অনেক ধৈর্য্য নিয়ে, কম্প্রোমাইজ় (এক্ষেত্রে বোঝাপড়া) করে, একে-অন্যের সীমাবদ্ধতার ক্ষেত্রে হতাশা সহ্য করেও একটা বোঝাপড়ায় আসতে হয়, এই দীর্ঘ প্রক্রিয়াটার জন্য Gen Z কম রপ্ত বা প্রস্তুত (equipped)। এক্ষুণি ভাল লাগবে (immediacy) অথবা যে ভাল লাগাটা একইভাবে বাড়তে থাকবে, এই প্রত্যাশা নিয়ে অনেক সময় সম্পর্কে ঢোকা বা সেটাকে বজায় রাখা মুশকিল হয়ে যায়।

প্রশ্ন: ভালবাসাকে কেন্দ্র করে মন আর মস্তিষ্কের দ্বন্দ্ব চিরকালের—সম্পর্ক এবং ভালবাসার ক্ষেত্রে mindfulness কতটা জরুরি? যে পৃথিবীতে সত্যির চেয়ে ফেক নিউজ়ের দ্রুত গতিতে ছড়ানোটা আক্ষরিক অর্থেই হাতের খেলা (২০২৪-এর প্রেমের মাস শুরুই হয়েছে পুণম পাণ্ডের পরিকল্পিত ফেক ডেথ নিউজ় দিয়ে), সেই পৃথিবীতে সম্পর্কের স্বার্থে বা ভালবাসার প্রয়োজনে mindfulness কি কমে যাচ্ছে?
উত্তর: Mindfulness শব্দটা মনস্তত্ত্ব এবং বৌদ্ধমতে বা বুদ্ধিজ়ম (Buddhism)-এর জগতে ‘awareness of awareness’; অর্থাৎ চেতনার চেতনা। একজন মানুষ কোনও সম্পর্কে কতটা জড়াবে, তার একটা খুব বড় অংশ নির্ভর করে সে আত্ম-ব্য়ক্তিগত (inter-personal) চাহিদাগুলোকে কেন্দ্র করে কতটা সচেতন (এক্ষেত্রে clarity), তার উপর। সে কতটা গভীরে গিয়ে নিজের আবেগপ্রবণতা (vulnerability), চাহিদা (desire) এবং নিরাপত্তাহীনতা (insecurity)—এগুলো সম্পর্কে চেতনা বাড়াতে পেরেছে, যাতে সে নিজেকেও আয়নায় স্পষ্টভাবে দেখতে পারছে এবং সেই কারণেই তার অন্যকেও দেখতে অসুবিধা হচ্ছে না। সে ঠিক যেমন, অন্যকে সে রকম ভাবেই দেখছে; তার জোর/শক্তি (strength), দুর্বলতা (weakness) মিলিয়ে তাকে গ্রহণ করছে। এই একটা মৌলিক উপলব্ধি যদি মনের না থাকে, তাহলে সে ভীষণ সহজেই প্রভাবিত (influenced) হবে বাইরের জগতের কোলাহলের মাধ্যমে। সে নিজের বিচার (judgement)-এর প্রতি ভরসা করতে পারবে না, যার কারণে সম্পর্ক বজায় রাখাটা বেশ দুঃসহ (এক্ষেত্রে challenging) হয়ে দাঁড়াতে পারে।

প্রশ্ন: Cancel Culture যেখানে দৈনন্দিনের লাইফস্টাইলে ঢুকে যাচ্ছে ধীরে-ধীরে, তাতে সম্পর্ককে কেন্দ্র করে স্থায়িত্ব (longevity)-এর যে ধারণা ছিল, সেটা কতটা বদলাচ্ছে?

উত্তর: Cancel Culture এটা বলে যে, একটা মানুষ যখন খুব রাজনৈতিকভাবে অসচেতন (এক্ষেত্রে politically incorrect) বা অসংবেদনশীল (insensitive) কথা বলে ফেলে, তখন তাকে ক্ষমা করা তো চলবেই না, বরং তাকে একেবারে ব্রাত্য (ostracize) করে তাড়িয়ে দেওয়াটাই স্বাভাবিক। এতে যেটা হয়, সেটা হল: আমাদের এটা বোঝার উপায়ই থাকে না যে, কোন ব্যক্তির কতটা ক্ষমতা আছে শিখে, পর্যালোচনা (review) করে নিজেকে শোধরাবার। তাতে লাভ যে তেমন কিছু হয়, আমার জানা নেই। যাকে ‘ধুয়ে দেওয়া’ হল, সে তো রাগে এবং বিরক্তিতে কোনওদিন নিজের দিকে তাকাবেই না, বরং সেই একই জঞ্জাল মনের মধ্যে আরও বেশি করে পুষে রাখবে। তাতে সামগ্রিকভাবে সমাজের একটা লোকসানই হল। সমাজে আরেকজন শিক্ষিত ও সংবেদনশীল মানুষের সংযুক্তি (addition) হতে পারত কি না, সেটা আমরা আর জানতেই পারলাম না।
এ প্রসঙ্গে আমার মনে হয়, ব্যক্তিগত সম্পর্কেও ধৈর্য্য কমে গিয়েছে—দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়ার। তার অর্থ অবশ্য এই নয় যে, সকলের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় সুযোগটা প্রাপ্য। আবার একেবারে কেউই সেটা করে না, সেটাও নয়। এটার ফারাক বোঝার ক্ষমতাটাও আমাদের একটু হলে হারাচ্ছে আপাতত। ফলে সম্পর্কের আয়ু কমছে; লোকে বড্ড সহজেই আশা ছেড়ে দিচ্ছে একে-অন্যের প্রতি। কোনও দোষ-ত্রুটির রেহাই তো নেই-ই, সেটাকে শুধরে নেওয়ার উপায়টাও হারাচ্ছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *