Sandeshkhali: এক রাতে পাঁচশো! ‘বাইরের দাদারা এসে যেন এমন না করে’, সন্দেশখালির মহিলারা এবার নামগুলো বলেই ফেললেন সাহস করে – Bengali News | Sandeshkhali Shibu Hazra has been charged with fraud of Rs 80 lakh for a hundred days of work
সন্দেশখালিতে বিস্ফোরক মহিলারাImage Credit source: TV9 Bangla
সন্দেশখালি: শেখ শাহজাহান নিয়ে এখন খুব একটা কথা বলছেন না সন্দেশখালির মহিলারা। কিন্তু যাদের নাম বারবার বলছেন, তাঁরা আদলতে সন্দেশখালির বাসিন্দাই নয়। কিন্তু অভিযোগ, তারাই গ্রামে ঢুকে রাতবিরেতে অত্যাচার চালিয়েছে দীর্ঘদিন। অভিযোগ, লুঠ করেছে, শোষণ চালিয়েছে, রাতবিরেতে ঘর থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে নিগ্রহ করেছে। তারা সন্দেশখালির বাইরের মানুষ। ‘বাইরের দাদা’, শিবু হাজরা, উত্তম সর্দার। তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগে সোচ্চার গ্রামবাসীরা।
নদীবাঁধে একশো দিনের কাজের দুর্নীতির তদন্তে এবার নাম জড়িয়ে গেল সন্দেশখালি ২ নম্বর ব্লকের সভাপতি শিবু হাজরার নাম। আশি লক্ষ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। আর তার ধরন দেখলে চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড়! এলাকার মাছের ভেড়িকে নদী প্লাবন থেকে রক্ষা করার জন্য সরকারি প্রকল্পে তৈরি হওয়ার কথা বাঁধ। অভিযোগ সেই বাঁধ নির্মাণের জন্য গরিব মাছচাষিদের কাছ থেকে বিঘা প্রতি চার হাজার টাকা নিয়েছেন শিবু হাজরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খুলনা থেকে ভোলাখালি পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার রাস্তায় এই বাঁধ তৈরির জন্য ৩০০ চাষির কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৮০ লক্ষ টাকা। বছর দুয়েক আগে সেই কাজ করিয়ে জব কার্ডে টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সন্দেশখালির দু’নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি।
এই খবরটিও পড়ুন
গ্রামবাসীদের প্রশ্ন, সরকারি প্রকল্পের জন্য তাঁরা কেন টাকা দেবেন। একশো দিনের কাজে বাঁধ নির্মাণে তাঁরা যে কাজ করলেন, তার টাকাই বা কোথায়! গ্রামবাসীদের প্রশ্ন, “শিবু হাজরা কি তবে গাছেরও খেয়েছেন তলারও কুড়িয়েছেন!”
রাজ্যের এখন হটস্পট সন্দেশখালি। প্রকাশ্যে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক সব অভিযোগ। বাঁধ নির্মাণের কথা স্থানীয় প্রশাসনের। কিন্তু গ্রামবাসীরা বাঁধ নির্মাণের জন্য মাটি ফেললেন। আর তাঁদের বলা হয়েছিল, মাটি ফেলার জন্য খরচ দিতে হবে যাঁরা ‘পকেট মাছের ভেড়ি’ করেন, সেই চাষিদের।
গ্রামবাসীদের প্রশ্ন, এই টাকা তো সরকারের দেওয়ার কথা, তাঁরা কেন নিজেদের পকেট থেকে টাকা দেবেন? শিবু হাজরা তাঁদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, একশো দিনের প্রকল্পের কাজের টাকার অনুমোদন হলে, সেখান থেকে তাঁদের টাকা দিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু তা হয়নি। টাকা দেওয়ার নথিও রয়েছে গ্রামবাসীদের কাছ থেকে।
তেমনই একটি ভেড়ি চাষির পরিবার মুখ খুললেন TV9 বাংলার ক্যামেরায়। তিনি বললেন, “প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রাস্তার বাঁধ যখন তৈরি হয়, তখন শিবু হাজরা বলেছিল পকেট ভেড়ির মালিকদের টাকা দিতে হবে। পরে বলেছিল জব কার্ডের মাধ্যমে টাকা দিতে হবে। ৮০ লক্ষ টাকার মতো তুলে নিয়েছিল।” আরেক জন বললেন, “এই টাকা তো আমাদের দেওয়ার কথা নয়। আমাদের তো জীবনে ভয় আছে। ওর মতো নেতাদের হাতে মার খাওয়ার থেকে না খেয়ে পেটে গামছা বেঁধে টাকা দিয়ে দিই। ”
আরেক বয়স্ক মহিলা বললেন, “হাজার টাকার কাজ করলে, পাঁচশো টাকা ওদের দিয়ে দিতে হচ্ছে। না দিলেই রাতে এসে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। বাড়িতে এসে কোদালের বাঁট মেরে যাচ্ছে। বাইরের দাদারা এসে যেন আমাদের গ্রামের বাসিন্দা যেন না হয়। শিবু হাজরা, উত্তম সর্দাররা বাইরে বাসিন্দা। এখানকার নয়। আমাদের দিতে বাধ্য করছে।”