Asansol: স্রেফ একটা নোটিস, নিমেশে খোলা আকাশের নীচে দাঁড়াল শহরের ৩০০ শ্রমিক – Bengali News | Asansol Publish notice of suspension of work in Raniganj Bengal Paper Mill
আসানসোলে শ্রমিকদের বিক্ষোভImage Credit source: TV9 Bangla
আসানসোল: শিল্পাঞ্চলে আরও এক কারখানা বন্ধের আশঙ্কা। রানিগঞ্জ বেঙ্গল পেপার মিলে সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক-এর নোটিস ঝলানোয়, অনিশ্চিত হয়ে পড়ল ৩০০ জন শ্রমিকের রুজি রোজগার। কারখানা খোলার দাবিতে শ্রমিকরা বসে পড়লেন ধরনায়, চলল বিক্ষোভ অবস্থান। অভিযোগ উঠেছে এখানে মূলত দুটি শ্রমিক সংগঠন। সিপিএম সমর্থিত সিটু এবং তৃণমূল সমর্থিত আইএনটিটিইউসি। কিন্তু এই ঘটনার পর থেকে উধাও তৃণমূল সংগঠনের নেতারা। এমনটাই অভিযোগ শ্রমিকদের। মালিকপক্ষের সঙ্গে তৃণমূলের যোগসাজশে এই কারখানা বন্ধ হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
এর পূর্বে ১৬ ও ২৪ জানুয়ারি দু – দফায় শ্রমিকদের বকেয়া বেতন দেওয়ার নোটিস দেওয়া হয়েছিল পেপার মিল কর্তৃপক্ষর তরফে। তবে তা কার্যকর হয়নি। এর জেরে শ্রমিকরা বারবার কারখানার গেটে বিক্ষোভ দেখান। পরে চিঠি করা হয় জেলা শ্রম দফতরের আধিকারিকের কাছে। কিন্তু তারপরও কোন সমস্যার সমাধান হয়নি। এবার উল্টে কোনও বকেয়া না দিয়ে, ঝোলানো হল সাসপেনশন অফ ওয়ার্কের নোটিস। যা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের দাবি কারখানা কর্তৃপক্ষ আর্থিক ক্ষতিপূরণের অজুহাতে, বন্ধ করছে কারখানা। অথচ কাগজ শিল্পের বাজারে চাহিদা রয়েছে। তারপরও কখনও কারখানার কাঁচামাল মিলছে না, কখনও অন্য কোন অজুহাত দেখাচ্ছে তারা। যা কারখানা কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার অভাব বলেই দাবি তাদের। প্রতিবাদে সরব হলেন পেপার মিলের শ্রমিকেরা। কোন রাজনৈতিক ব্যানার ছাড়াই তারা এদিন প্রতিবাদের সরব হয়। তাদের দাবি বিনা নোটিশে ৭ই জানুয়ারি থেকে মিল বন্ধের রয়েছে। এবার সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক এর নোটিস ঝোলাল মিল কর্তৃপক্ষ। যা একেবারে বেআইনি। এক মাস ধরে বকেয়া বেতন বাকি। আর একমাস ধরে কাজ ছেড়ে বসে রয়েছে তারা। কিন্তু তারপর হঠাৎ করেই মঙ্গলবার ঝোলান হয় সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক এর নোটিস।
এই খবরটিও পড়ুন
শ্রমিকদের দাবি, যেহেতু কোনও নোটিস না দিয়ে ৭ জানুয়ারি থেকে কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ৩০তারিখ পর্যন্ত। তাই সেই সময় পর্যন্ত সমস্ত বকেয়া বেতন মিটিয়ে দিতে হবে কারখানা কর্তৃপক্ষকে। আর এই দাবি মানা না হলে তারা লাগাতার ধরনা আন্দোলনে যাওয়ার পাশাপাশি, প্রয়োজনের জাতীয় সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদে সামিল হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন। যদিও এতসব বিক্ষোভ আন্দোলনের পরও কারখানা কর্তৃপক্ষের তরফে কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি, তারা এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন আসানসোল দক্ষিনে বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, “একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এবার পেপার মিলেও সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক এর নোটিস পড়ল। অত্যন্ত অন্যায় হয়েছে।” সাধারণ শ্রমিক ও সিটুর অভিযোগ পুরো ঘটনায় গা ঢাকা দিয়েছে আইএনটিটিইউসি। যদিও বল্লভপুর পেপার মিলের আইএনটিটিসি সহ সভাপতি অভিজিৎ ভট্টাচার্য জানান, তাঁরা মন্ত্রী মলয় ঘটককে গোটা বিষয়টি জানিয়েছেন। এই নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে লেবার কমিশন অফিসে বৈঠক হবে।