Ram Mandir Fatwa: প্রাণ প্রতিষ্ঠায় যোগ দেওয়ায় ফতোয়া! পাল্টা ইমামের নিদান ‘পাকিস্তানে যাও’ – Bengali News | Muslim cleric slams fatwa against him for attending Ayodhya Ram temple pran pratishtha
রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠায় যোগ দিয়েছিলেন ‘অল ইন্ডিয়া ইমাম অর্গানাইজেশনে’র প্রধান, ইমাম ড. উমর আহমেদ ইলিয়াসীImage Credit source: ANI
নয়া দিল্লি: সাধারণত ইমামরা ফতোয়া দারি করে থাকেন। কিন্তু, এবার ফতোয়া জারি করা হল ইমামের বিরুদ্ধেই। সম্ভবত, ইতিহাসে এই প্রথমবার। তাও আবার কোনও অপরিচিত ব্যক্তি নন, ফতোয়া জারি করা হয়েছে ‘অল ইন্ডিয়া ইমাম অর্গানাইজেশনে’র প্রধান, ইমাম ড. উমর আহমেদ ইলিয়াসীর বিরুদ্ধে। তাঁর ‘অপরাধ’, গত ২২ জানুয়ারি তিনি অযোধ্যায় রাম জন্মভূমি মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। এরপরই, রবিবার (২৮ জানুয়ারি), তাঁকে ‘কাফের’ বলে চিহ্নিত করে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইমাম উমর আহমেদ ইলিয়াসী। তবে, ২২ জানুয়ারি রাত থেকেই তাঁকে ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন ইমাম ইলিয়াসী।
সোমবার এই ধর্মগুরু জানিয়েছেন, “গতকাল আমার বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করা হয়েছে। কিন্তু, আমি ২২ জানুয়ারি সন্ধ্যা থেকে হুমকি ফোন পাচ্ছিলাম। আমি কয়েকটি কল রেকর্ডও করেছি। ফোন যারা করেছিল, তারা আমার ও আমার পরিবারের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে।” তিনি জানিয়েছেন, মুফতি সাবির হুসেইনি নামে এক মুফতি এই ফতোয়া জারি করেছেন। ওই ব্যক্তি ‘মুফতি ক্লাস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালান। এর প্রতিক্রিয়ায় ইমাম উমর আহমেদ ইলিয়াসী বলেছেন, “যারা আমাকে ভালোবাসে, দেশকে ভালোবাসে, তারা আমাকে সমর্থন করবে। এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য যারা আমাকে ঘৃণা করছে, তাদের পাকিস্তানে চলে যাওয়া উচিত।” তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। একদল লোক তাঁর বিরুদ্ধে “বিদ্বেষের পরিবেশ” তৈরি করতে চাইছে।
রাম মন্দিরের উদ্বোধন উপলক্ষে সমাজের বিভিন্ন অংশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল রাম মনদির ট্রাস্ট। শুধু হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন ধর্মগুরুদেরই নয়, শিখ, মুসলিম, খ্রিষ্টান-সহ অন্যান্য ধর্মের নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ‘অল ইন্ডিয়া ইমাম অর্গানাইজেশনে’র প্রধান হিসেবে ডাকা হয়েছিল ইমাম উমর আহমেদ ইলিয়াসীকেও। তিনি বলেছেন। “দেশের একজন প্রধান ইমাম হিসাবে, আমি শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র থেকে আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম। এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আমি দিন দুই ভাবনা-চিন্তা করেছিলাম। তারপর দেশে সম্প্রীতির বার্তা দিতে আমি অযোধ্যায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এটা আমার জীবনের সবথেকে বড় সিদ্ধান্ত ছিল। সম্প্রীতি এবং দেশের জন্যই আমি সেখানে গিয়েছিলাম।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, সেখানে গিয়েও তিনি মানবতার বার্তাই দিয়েছেন। কোনও ভুল করেননি। তিনি বলেছেন, “সেখানে আমাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানো হয়েছিল। অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আমি বলেছিলাম, আমাদের ধর্মী বিশ্বাস ভিন্ন হতে পারে, তবে আমাদের সবথেকে বড় ধর্ম হল মানবতা। ওরা আমাকে এবং আমার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমি ওদের স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ভারত কোনো ইসলামী দেশ নয়। এখানে এই সমস্ত কৌশল কাজ করবে না। আমি যে প্রেম ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা প্রচার করছি, তা তাদের পছন্দ না হলে, তাদের পাকিস্তানে চলে যেতে হবে।” তিনি আরও জানিয়েছেন, রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য তিনি ক্ষমা চাইবেন না বা পদত্যাগ করবেন না।