Falakata Municipality: ঢাল-তলোয়ারহীন ‘নিধিরাম সর্দার’ হয়ে আর থাকবে না ফালাকাটা! ‘সুদিনের’ আশায় পুরপ্রধান – Bengali News | Situation of Falakata Municipality is likely to change soon, hopeful Municipality Chairman
আলিপুরদুয়ার: ফালাকাটা পুরসভার ‘অব্যবস্থা’ অবশেষে কাটতে চলেছে। সেই আশাতেই রয়েছেন এলাকাবাসীরা। দু’বছর বয়স হয়ে গিয়েছে ফালাকাটা পুরসভার। কিন্তু এখনও নিজস্ব কোনও ভবন নেই। ডাকবাংলোতেই আপাতত বসানো হচ্ছে পুরসভার অফিস। যাও বা কোনওক্রমে অফিস চালানো হচ্ছে, কিন্তু কর্মী যে বড্ড অভাব। পুরসভার কার্যত কোনও কর্মী নেই বললেই চলে। গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ২২ জন অস্থায়ী কর্মীকে দিয়ে চলছে পুরসভার কাজ। বাকি দু’জন কর্মী রয়েছেন অন্যান্য পদে। আরও একজন ছিলেন, তিনি আবার অবসর নিয়েছেন সম্প্রতি। আপাতত মোট ২৪ জন কর্মীকে নিয়ে চলছে ফালাকাটা পুরসভার কাজকর্ম।
ফালাকাটা পুরসভার এই ‘অব্যবস্থার’ মধ্যেই দু’বার পদত্যাগ করেছিলেন পুরসভার চেয়ারম্যান প্রদীপ মুহুরি। তবে শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে আবার তাঁকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে পুরপ্রধানের পদে। এসবের মধ্যেই রবিবার ফালাকাটায় আসেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। পুরসভার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বৈঠক হয়। আর এরপর থেকেই আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন ফালাকাটা সাধারণ মানুষজন। বৈঠকে কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু সেদিন বলতে চাননি মন্ত্রী। তবে ফিরহাদ জানিয়েছেন, ফালাকাটা পুরসভা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কলকাতায় ফিরেই তিনি প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়ে দেবেন, যাতে কাজ করতে অসুবিধা না হয় পুরসভার।
আশাবাদী পুরপ্রধান প্রদীপবাবুও। তিনি জানিয়েছেন, ‘পুরসভার ৫২টি ডিপিআর তৈরি আছে। সেগুলি কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল এক কর্মীর। তবে মন্ত্রী নিজেই সেগুলি নিয়ে গিয়েছেন।’ মন্ত্রীর পদক্ষেপে খুশি প্রদীপবাবুও। বললেন, অনুমোদন পেলেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে। পুরসভার ভবনের বিষয়টি নিয়েও মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলে জানালেন।
পুরসভার থেকে সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দিতে না পারার ব্যর্থতার কারণেই যে অতীতে দু’বার পদত্যাগ করেছিলেন, সে কথাও গোপন করলেন না পুরপ্রধান। তবে এবার তিনি আশাবাদী, পুরসভায় সুদিন আসবে।
যদিও খোঁচা দিতে ছাড়ছে না বিরোধীরা। ফালাকাটার বিজেপি বিধায়ক দীপক সরকার কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘পুরসভা হয়েছে। কিন্তু নাগরিকরা পরিষেবা পাচ্ছেন না। চেয়ারম্যান বারে বারে পদত্যাগের হুমকি দিচ্ছেন। যে ডিপিআর তৈরি করেছেন, তা বিশ বাঁও জলে যাবে। কারণ এই সরকার তো ঘোষণার সরকার।’