Explained on Operation Sindoor: এক চুটকি সিঁদুর কা কিমত্ কীভাবে মেটাল ভারত? - Bengali News | Explained: Why India's Operation Sindoor is Biggest Strike After 1971 War, How Pakistan is Affected - 24 Ghanta Bangla News
Home

Explained on Operation Sindoor: এক চুটকি সিঁদুর কা কিমত্ কীভাবে মেটাল ভারত? – Bengali News | Explained: Why India’s Operation Sindoor is Biggest Strike After 1971 War, How Pakistan is Affected

Spread the love

সিঁদুরের দাম বুঝে নিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।Image Credit source: TV9 বাংলা

ঘড়ির কাঁটায় রাত ১টা ৫ মিনিট, ভারতীয়রা গভীর নিদ্রায় মগ্ন, সেই সময়ই বড় অ্যাকশন ভারতের সেনাবাহিনীর। পাকিস্তানে ঢুকে তাদের লালিত-পালিত জঙ্গিদের মেরে এল ভারত। পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার বদলা নেওয়া হবে, এই কথা আগেই বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সেই কথা রেখেই পাকিস্তানে ভারত অভিযান চালাল। পহেলগাঁওয়ে হিন্দু মহিলাদের সিঁদুর মুছেছিল জঙ্গিরা, তাই বদলা অভিযানের নাম দিয়েছে “অপারেশন সিঁদুর”। প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজেই এই নাম দিয়েছেন। গোটা বিশ্ব সরগরম এই হামলা নিয়ে। তবে এটা শুধুমাত্র ভারতের প্রত্য়াঘাত নয়, এটা পাকিস্তানের বুকে পা রেখে সবথেকে বড় জঙ্গি নিকেশ অভিযানও। এর পিছনে রয়েছে কয়েকটি বড় কারণ-

কোথায় অপারেশন চালাল ভারত, সেই অপারেশনে কত জঙ্গি মারা পড়ল, নিশানা অর্থাৎ জঙ্গি ঘাঁটিগুলির গুরুত্ব- একাধিক বিষয় পর্যালোচনা করেই ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালানো হয়েছে। সেই কারণেই পহেলগাঁও হামলার জবাব দিতে ১৫ দিন সময় লাগল ভারতের।

পাকিস্তান যে সন্ত্রাসবাদে মদত দেয়, তার প্রমাণ আগেও মিলেছে। ২৬/১১ মুম্বই হামলা, পাঠানকোট জঙ্গি হামলা,  পুলওয়ামা, উরির হামলায় পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ মদত মিলেছে পাকিস্তানের। পাল্টা জবাব দিয়েছে ভারতও। তবে তা পাকিস্তানের ভিতরে ঢুকে নয়, প্রতিবারই পাক অধিকৃত কাশ্মীরে গিয়ে হামলা চালিয়েছে ভারত। কিন্তু এই প্রথমবার পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পাশাপাশি পাকিস্তানের ভিতরে ঢুকেও হামলা চালাল ভারতীয় বাহিনী। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর এটাই পাকিস্তানে ঢুকে সবথেকে বড় প্রত্যাঘাত।

ভারত চেয়েইছিল এমন জবাব দেবে, যা পাকিস্তান হাড়ে হাড়ে টের পাবে। সেই কারণেই ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানে লক্ষ্যমাত্রা বাছাই করে, নির্দিষ্ট জায়গায় হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশ, যা রাজনৈতিক ও সামরিক ঘাঁটি, সেখানেই ঢুকে হামলা চালিয়েছে ভারত।

যে ৯টি ঘাঁটিতে আজ হামলা চালিয়েছে ভারতীয় সেনা, তার মধ্যে ৫টি পাক অধিকৃত কাশ্মীরে। এর মধ্যে বাহওয়ালপুর হল পাকিস্তানি জঙ্গি গোষ্ঠী জইশ-ই-মহম্মদের শক্তিশালী ঘাঁটি। অন্যদিকে, মুরিদকে হল লস্কর-ই-তৈবার সদর দফতর। আরও বড় একটি দিক হল, ভারতের এই আঘাত সরাসরি পাকিস্তানের আশ্রয়ে থাকা মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি মাসুদ আজহারের ঘাঁটিতেও হামলা করেছে। মাসুদের কোনও ক্ষতি না হলেও, তাঁর পরিবারের ১০ সদস্য নিহত হয়েছে।

 ৯টি জঙ্গি ক্যাম্প ধ্বংস করেছে ভারত, সেগুলি হল-

১. সাওয়াই নাল্লা ক্যাম্প, মুজাফ্ফরাবাদ- পাক অধিকৃত কাশ্মীর-ভারত সীমান্ত থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ক্যাম্প। এটা লস্কর-ই-তৈবার ট্রেনিং সেন্টার ছিল। গত বছর সোনমার্গ, গুলমার্গের হামলা, এমনকী গত ২২ এপ্রিলে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় জড়িত জঙ্গিরাও এই ক্যাম্প থেকেই প্রশিক্ষণ পেয়েছিল।

২. সইদনা বিলাল ক্যাম্প, মুজাফ্ফরাবাদ- এটা জইশ-ই-মহম্মদের লঞ্চ প্যাড ছিল। এখানে জঙ্গিদের বন্দুক চালনা, বোমা ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হত। জঙ্গলে কীভাবে টিকে থাকবে, তাও শেখানো হত।

৩. গুলপুর ক্যাম্প, কোটলি- নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে এই ক্যাম্প লস্কর-ই-তৈবার ঘাঁটি ছিল। জম্মু-কাশ্মীরের রাজৌরি ও পুঞ্চে যে জঙ্গিরা সক্রিয় ছিল, তারা এই ঘাঁটি থেকেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে পুঞ্চে পুণ্য়ার্থীদের উপরে হামলার পিছনে এই জঙ্গিদের হাত ছিল।

৪. বারনালা ক্যাম্প, ভিমবের- নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে এই ঘাঁটিতে আইইডি, অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহারের ট্রেনিং দেওয়া হত।

৫. আব্বাস ক্যাম্প, কোটলি- নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে এই ক্যাম্পে লস্কর ফিদায়েন জঙ্গিদের ট্রেনিং দেওয়া হত।

পাকিস্তানের ভিতরে ঢুকেও হামলা চালিয়েছে ভারত।

৬. সরজল ক্যাম্প, শিয়ালকোট- পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে এই ক্যাম্পেও জঙ্গি প্রশিক্ষণ হত। গত মার্চ মাসে ৪ জন জম্মু-কাশ্মীরের পুলিশকর্মীকে খুনের পিছনে যে জঙ্গিদের হাত ছিল, তারা এই ক্যাম্প থেকে প্রশিক্ষণ পেয়েছিল।

৭. মেহমুনা জোয়া ক্যাম্প, শিয়ালকোট- এটা হিজবুল মুজাহিদ্দিনের সবথেকে বড় ক্যাম্প। আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই জঙ্গি ঘাঁটি থেকে প্রশিক্ষণ পেয়েছিল ২০১৬-র পাঠানকোট এয়ারবেস হামলায় জড়িত জঙ্গিরা।

৮. মারকাজ় তৈবা, মুরদিকে- এটা লস্কর-ই-তৈবার অন্যতম বড় ঘাঁটি। ২৬/১১ মুম্বই হামলায় জড়িত আজমল কাসভ ও ডেভিড হেডলি এই ক্যাম্পেই প্রশিক্ষণ পেয়েছিল।

৯. মারকাজ সুবানাল্লাহ, বাহওয়ালপুর- বাহওয়ালপুরের সম্পূর্ণ এলাকাতেই জইশ-ই-মহম্মদের নিয়ন্ত্রণ। মাসুদ আজহারের পরিবারের বসবাসও এখানেই ছিল। ভারতের হামলায় নিহত হয়েছে মাসুদের পরিবারের ১০ জন সদস্য।

পাকিস্তানের বুকে হামলা চালাতেও মোক্ষম অস্ত্র ব্যবহার করেছে ভারত।  রাফাল যুদ্ধবিমান দিয়ে এই অভিযান চালিয়েছে বায়ুসেনা, সেখান থেকেই পাকিস্তানের বাহওয়ালপুর, মুরিদকে সহ ৯ জায়গায় জঙ্গি ঘাঁটিগুলিতে স্ক্যাল্প ক্রুজ মিসাইল ও হ্যামার প্রিসিশন গাইডেড বম্ব ছোড়া হয়েছে। কামিকাজে ড্রোন টার্গেট এরিয়ার উপরে আগে ঘুরে বেড়িয়েছে, তারপর মিসাইল দিয়ে ঘাঁটিগুলিকে ধ্বংস করা হয়েছে। আর সেই ধ্বংসলীলা চালিয়েছে স্ক্যাল্প ক্রুজ মিসাইল বা স্টর্ম ক্রুজ এবং হ্যামার বা স্মার্ট বম্ব। 

স্টর্ম ক্রুজ হল  লং রেঞ্জের মিসাইল, যা ২৫০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। ক্ষমতা রয়েছে নিশানায় গভীরে গিয়ে হামলা চালানোর। অন্যদিকে, হ্যামার হল একটি স্মার্ট বম্ব এই স্মার্ট বম্ব বাঙ্কার থেকে শুরু করে বহুতলে হামলা চালাতে সক্ষম। পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে লস্কর-ই-তৈবা ও জইশ-ই-মহম্মদের ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে এই বোমা দিয়েই। ৫০ থেকে ৭০ কিলোমিটার রেঞ্জ এই স্মার্ট বম্বের।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *