তিনি খুব গরিব, প্যারালাইজ্ড স্ত্রীর দায়িত্ব নিতে পারবেন না! আদালতে জানালেন স্বামী, বাংলার মুখ - 24 Ghanta Bangla News
Home

তিনি খুব গরিব, প্যারালাইজ্ড স্ত্রীর দায়িত্ব নিতে পারবেন না! আদালতে জানালেন স্বামী, বাংলার মুখ

Spread the love

এক দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন হাঁটাচলার শক্তি। আক্রান্ত হয়েছেন প্যারালিসিসে। গত দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে সেই গৃহবধূর ঠিকানা অ্য়াপোলো মাল্টিসুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল! কারণ, বাড়ি থেকে আর কেউ তাঁর খোঁজ নিতে আসেন না। পরিবার তাঁকে ‘ত্যাগ’ করেছেন! এমনকী, তাঁর স্বামীকে যখন এই কারণেই আদালতে পেশ করেছিল কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার পুলিশ, তিনি আদালতকে সাফ জানিয়ে দেন, তাঁর পক্ষে অসুস্থ স্ত্রীর দেখাশোনা করা সম্ভব নয়!

টাইমস অফ ইন্ডিয়া অনুসারে – দুর্ঘটনার কারণে ওই গৃহবধূর শরীরের নীচের অংশ একেবারে অকেজো হয়ে গিয়েছে। তিনি তাঁর কথা বলার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছেন। এই অবস্থায় গত দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালে পড়ে রয়েছেন তিনি!

মর্মান্তিক এই ঘটনা যখন মামলা আকারে কলকাতা হাইকোর্টে বিচারের জন্য ওঠে, তখন বিচারপতি অমৃতা সিনহা ওই মহিলার স্বামীর কাছে জানতে চান, কেন তিনি স্ত্রীকে বাড়িতে ফেরত নিয়ে যাচ্ছেন না? জবাবে ওই ব্যক্তি জানান, তাঁর একটি দোকান রয়েছে। এবং তাঁর এত সামর্থ্য নেই যে পঙ্গু হয়ে যাওয়া স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব সামলাবেন।

হাসপাতালের তরফে যে আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন, তিনি জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই মহিলার সবরকমের চিকিৎসা করেছে। তাঁর একাধিকবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তাঁর যে মেডিক্যাল ইনসিওরেন্স ছিল, সেই বিমার ৬ লক্ষ টাকা অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে।

আইনজীবী জানিয়েছেন, বর্তমানে ওই মহিলার চিকিৎসার খরচবাবদ হাসপাতালের বকেয়া রয়েছে ১ কোটি টাকা! এই কারণেই হাসপাতালের পক্ষ থেকে আদালতে মামলা রুজু করা হয়। জানানো হয়, তাদের পক্ষে আর ওই রোগীর দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয়।

হাসপাতালের তরফে আরও দাবি করা হয়, মহিলার স্বামী নাকি ইতিমধ্যেই ‘বিকল্প পরিবার’ তৈরি করে ফেলেছেন। বিচারপতি সিনহা অবশ্য পারিবারিক বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। এ নিয়ে আদালত কোনও হস্তক্ষেপও করেনি।

অন্যদিকে, রাজ্য়ের আইনজীবী জানান, রাজ্যের কাছে বিনামূল্যে আশ্রয় দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু, সেখানকার কর্মীরা এই ধরনের রোগীকে পরিষেবা দেওয়ার মতো প্রশিক্ষিত নন।

এই মামলায় পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ৯ এপ্রিল। ওই দিন মহিলার স্বামীকে আদালতে উপস্থিত থাকতে বলেছেন বিচারপতি সিনহা। সেইসঙ্গে, রাজ্যের অ্য়াডভোকেট জেনারেলকেও উপস্থিত থাকতে বলেছেন। তাঁকে দেখতে বলেছেন, রাজ্যের কাছে এমন কোনও ব্যবস্থাপনা রয়েছে কিনা, যেখানে এমন রোগীদের রাখার বন্দোবস্ত করা যেতে পারে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চল্লিশের কোঠায় থাকা ওই মহিলাকে তাঁর স্বামীই হাসপাতালে ভর্তি করান। মহিলার মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল। তাঁর প্রাণ বাঁচাতে জটিল নিউরো সার্জারি করা হয়। তাতে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। কিন্তু, হাঁটাচলা ও কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেন। যদিও তিনি এখন সম্পূর্ণ বিপন্মুক্ত। তা সত্ত্বেও তাঁর স্বামী জয়প্রকাশ গুপ্তা স্ত্রীকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে অস্বীকার করেন।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *