'আমরা বর- বউ, এখন দুজনেই চাকরিহারা,' ১৯জনের মধ্য়ে ১২জনই বাতিল হুগলির স্কুলে, বাংলার মুখ - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘আমরা বর- বউ, এখন দুজনেই চাকরিহারা,’ ১৯জনের মধ্য়ে ১২জনই বাতিল হুগলির স্কুলে, বাংলার মুখ

Spread the love

প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট বহাল রেখেছে হাইকোর্টের রায়কেই। এদিকে বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার পরেই বাংলার বহু স্কুলে গুঞ্জন শুরু হয়ে যায়। মূলত কোন স্কুলে ২০১৬ সালের প্যানেলভুক্ত শিক্ষকরা রয়েছেন কাদের চাকরি বাতিল হল, কতজন সেই দলে রয়েছেন সেই সব নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়ে যায়। 

হুগলির রিষড়া বিদ্যাপীঠ। ছাত্রছাত্রী সংখ্য়া প্রায় দু হাজার।  এই স্কুলে শিক্ষক, শিক্ষিকার সংখ্য়া ১৯জন। তার মধ্য়ে ১২জনের চাকরি বাতিল। তাহলে ক্লাস নেওয়ার মতো পড়ে থাকলেন মাত্র ৭জন। এই ৭জন শিক্ষক শিক্ষিকা দিয়ে কীভাবে ২০০০ জনের ক্লাস নেবেন তা ভেবে পাচ্ছে না স্কুল কর্তৃপক্ষ। 

এদিকে চাকরি যাওয়ার পরে একেবারে অথৈ জলে পড়েছেন চাকরি হারা শিক্ষকরা। কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবেন বুঝতে পারছেন না। কীভাবে সংসার চলবে, কীভাবে আবার চাকরি পাবেন নানা দুশ্চিন্তা। সকলেই দাবি অন্যরা চুরি করল তার দায় আমরা নেব কেন? 

তবে এই প্রসঙ্গেই সামনে আসছে কেন এতদিন সময় পাওয়ার পরেও যোগ্য ও অযোগ্যদের আলাদা করতে পারল না এসএসসি? 

আবার নতুন করে বেকার হয়ে গেলেন কী বলবেন? 

চাকরি হারা এক শিক্ষক কুণাল মণ্ডল বলেন, আমি আর আমার স্ত্রী দুজনেই এসএসসি দিয়ে টিচার হয়েছি। দুজনেরই ২০১৬ সালের প্যানেলে নিয়োগ হয়েছে। ২০১৯ সালে নিয়োগ পেলাম। বিয়ে থা করলাম। এখন দেখলাম চাকরি হারা। আমরা বর বউ। এখন রাস্তায়, দুজনেই চাকরি হারা। এখন কোনও দিশা দেখতে পাচ্ছি না। পরবর্তীতে জানি না কী দেখতে হবে। দুজনেই যেহেতু বিয়ে থা করেছিলাম। একটা সংসার শুরু করেছিলাম। তার জন্য লোনের মাধ্য়মে কিছু করার চেষ্টা করেছিলাম। আমাদের উপর যে লোন আছে, পার্সোনাল লোন, হাউস লোন সব লোনের উপর আছি। ব্যাঙ্ক তো সেটা দেখবে না। তাছাড়া তখন নতুন ছিলাম। চাকরি পাওয়ার জন্য মনের মধ্য়ে একটা ইচ্ছা ছিল। সেই জিনিসটা এখন আর হবে না। চাইলেও পারব না। পরীক্ষা হলেও হয়তো সেই জিনিসটা, নম্বরটা অসুবিধা হবে। 

ওই শিক্ষক বলেন, রায় দানে যা দেখলাম আমরা স্কুল ছাড়া, চাকরি ছাড়া। আইনের উপর আশা আছে। সিএম বা পিএম, প্রেসিডেন্ট বলুন এটা রিভিউ করা হোক। আমরা চাই যারা যোগ্য তারা চাকরি পান, আর যারা অযোগ্য তাদের চাকরি যাক। শাস্তি পাক। 

১৯জনের মধ্য়ে ১২জন শিক্ষক শিক্ষিকা চাকরিহারা। ২০০০ এর উপর ছাত্রছাত্রী। আমার স্কুল বন্ধ হওয়ার মুখে পড়ে গিয়েছে। আমি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছি। যারা চাকরি হারালেন তাঁরা আমার ভাইবোনের মতো। বলেন প্রধানশিক্ষক।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *